হতাশা ভুলে সামনে দৃষ্টি বেনজামার

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২১:৪০
জার্মানির কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও নিরাশ হচ্ছেন না ফরাসি প্লে মেকার করিম বেনজামা। বরং ব্রাজিল বিশ্বকাপের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়ায় ২০১৮ বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করতে বদ্ধপরিকর তিনি। গত শুক্রবার রাতে জার্মানির কাছে হেরে চলতি আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় ’৯৮-এর শিরোপাধারী। হন্ডুরাসকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করা ফ্রান্স এই টুর্নামেন্টে অনেকটাই চমকে দেয় সবাইকে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সমর্থকদের চূড়ান্ত হতাশ করে, শেষ পর্যন্ত প্লে অফ খেলে ব্রাজিলের টিকেট কাটা দলটি ‘ই’ গ্রুপ থেকে শীর্ষস্থান নিয়েই নক আউট রাউন্ড নিশ্চিত করে। গ্রুপ পর্বে মোট আট গোলের পর শেষ ষোলোয় তারা ২-০ গোলে হারায় নাইজেরিয়াকে। অথচ, বর্তমান দলটির চেয়ে তারকাবহুল একটি দল নিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপের গত আসরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় দলটি। তাই এবার শিরোপার কাছাকাছি পৌঁছাতে না পারলেও সামগ্রিক বিবেচনায় নিজেদের নিয়ে হতাশ হচ্ছেন না বেনজামা। ম্যাট হামেলসের একমাত্র গোলে জার্মানির কাছে হারার পর এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বলেন, ‘এ পর্যন্ত আসতে পেরে আমি সত্যিই খুশি। আমার বিশ্বাস, আরেকটি বিশ্বকাপ খেলা আমার জন্য খুব কঠিন হবে না। কারণ, বয়সে আমি এখনো যথেষ্টই তরুণ।’ রিও ডি জেনিরোর অতিরিক্ত উত্তাপ ফ্রান্সকে বেশ ভুগিয়েছে জানিয়ে টুর্নামেন্টে পাঁচ ম্যাচে তিনটি গোল করা বেনজামা আরো বলেন, ‘ম্যাচটি ছিল খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কাছাকাছি ছিল দুই দলই।’ এদিকে হেরে গেলেও শিষ্যদের প্রশংসাই ঝরেছে কোচ দিদিয়ের দেশমের কণ্ঠে। অধিনায়ক হিসাবে ফ্রান্সকে ইউরো এবং একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেয়া দেশম বলেন, ‘আমাদের যেটা করার প্রয়োজন ছিল সেটাই আমরা করেছি, যুদ্ধ করা। আমরা ম্যাচে সুযোগও সৃষ্টি করেছি। তবে জার্মানির এই দলটা অভিজ্ঞতায় আমাদের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ।’ অভিজ্ঞতাই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে জানিয়ে এই সাবেক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার আরো বলেন, ‘এটা (অভিজ্ঞতা) আসলে তাদের অগ্রগামিতা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল এমন একটি দল যারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে ছিল। আমাদের আকাঙ্ক্ষা এবং উদ্দীপনারও কমতি ছিল না। এমন নয় যে, শক্তিমত্তায়ও তারা আমাদের চেয়ে খুব বেশি এগিয়ে ছিল। তবে এটাই সত্যি যে, সেমিফাইনালে খেলতে যাওয়া দলটির নাম জার্মানি।’ রিওর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে এই রাতে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ফেবারিটের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে রেকর্ড টানা চতুর্থ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো। সব মিলিয়ে এটি তাদের ২০তম চেষ্টায় ১৩তম সেমিফাইনাল। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আট জুন বেলো হরিজোন্তোয় তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ব্রাজিল। ম্যাচের মাত্র ১২ মিনিটে ম্যাট হামেলসের দেয়া গোলটি ধরে রেখেই ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেয় জার্মানি। ফরাসিরা এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বহুবার জার্মান পোস্টে আক্রমণ চালিয়েও অধিনায়ক ফিলিপ লামের দলকে মচকাতে পারেনি। আবার জার্মানিও কয়েক দফায় ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। মরিয়া ফরাসি রক্ষণভাগ কোন না কোনভাবে সেসব আক্রমণ রুখে দিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা জিইয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত আসল কাজ গোল করতে না পেরে শেষ আট থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়। ডিফেন্ডার হামেলস ফ্লুর কারণে আগের খেলায় মাঠে নামতে পারেননি। এদিন ফিরেই নিজের সেরা রূপে ফিরলেন তিনি। টনি ক্রুসের একটি ফ্রি কিকের সুবাদে আসা বলটি বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের এই খেলোয়াড় তার মার্কার রাফায়েল ভারানেকে পরাস্ত করে লাফিয়ে নেয়া হেডে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ার বেশ কয়েকবার হতাশ করেন ফরাসি আক্রমণভাগকে। ম্যাথু ভালবুয়েনার একটি ড্রাইভের পাশাপাশি ফ্রান্সের মূল স্ট্রাইকার করিম বেনজামাকেও রুখে দেন তিনি। ম্যাচের ঠিক শেষ মিনিটে বেনজামার একটি প্রয়াসও ব্যর্থ করে দেন এই বায়ার্ন মিউনিখ গোলরক্ষক। ২০১৪ বিশ্বকাপের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ন্যয়ার যেভাবে খেলছেন তা ধারাভাষ্যকারদের কাছ থেকেও ব্যাপক প্রশংসা এনে দিচ্ছে খেলোয়াড়টিকে। কোচ জোয়াকিম লো এ খেলায় স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসাকে শুরুতেই মাঠে নামান। এবারের বিশ্বকাপে এটাই তার নিয়মিত একাদশে প্রথম নামা। ১৫ গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলদাতার রেকর্ডে ভাগ বসানো ক্লোসা এ খেলায় গোল পেলেই ছাড়িয়ে যেতেন ব্রাজিলের রোনালদোকে। কিন্তু ৬৯ মিনিট মাঠে থেকেও গোলের দেখা পাননি ৩৬ বছরের ক্লোসা। গ্রুপ পর্বে জার্মানি ও ঘানার ২-২ ব্যবধানে ড্র হওয়া খেলাটিতেই সমতাসূচক গোল দিয়ে রোনালদোর সমকক্ষ হয়েছিলেন তিনি। ক্লোসা মাঠে নামায় টমাস মুলার মিডফিল্ডে নেমে যান। অধিনায়ক লাম যান রাইট ব্যাকে। এখন পর্যন্ত চার গোল করা মুলার আরো এক গোল করে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ব্রাজিলের নেইমারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নষ্ট করেন। গোলের সুযোগ পেয়েও তা নষ্ট করেন আরেক জার্মান আন্দ্রে শুরলেও। তবে এতে কৃতিত্ব ছিল ফরাসি গোলরক্ষক এবং অধিনায়ক হুগো লরিসেরও। জার্মানি এ নিয়ে তাদের শেষ ষোলটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপরাজিত থাকলো। অপরদিকে দেশম খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে নিজের ১১তম খেলায় এই প্রথম হারের মুখোমুখি হলেন।