শখের শপিংয়ে বাধা অঝোর বৃষ্টি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২১:৫৬
ঈদের কেনাকাটা ঈদ কেনাকাটায় বাদ সেধেছে আষাঢ়ের ঝুম বৃষ্টি। ভোর রাত থেকে শুরু হয়ে বিকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ঈদ মার্কেটের বিক্রেতাদের কিছুটা হতাশ করেছে। নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, চাঁদনী চক ও গাউসিয়া মার্কেটে রমজানের শুরু থেকেই কেনাকাটায় থাকে জমজমাট। আর সরকারি ছুটির দিন হলে তো কথাই নেই। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি আর অসহনীয় যানজট যেন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সেই সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিকে পন্ড করে দিয়েছে। সারাদিনের ঝুম বৃষ্টিকে মাথায় নিয়ে অস্বস্তিতে ঈদের কেনাকাটা করেছেন অনেকে। নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, চাঁদনী চক ও গাউসিয়া, লাগোয়া সব কয়টি মার্কেটে হাঁটু পানিতে ডুবে ছিল সারা দিন। তবে দোকানিরা ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে সকালেই দোকান খুলে বসেন। ক্রেতারাও একেবারে নিরাস করেনি বিক্রেতাদের। ঈদের সামনের প্রতিটি দিন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাইতো অনেক দূরের ক্রেতারা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এসেছিলেন শপিং করতে এসব মার্কেটে। এদিকে বৃষ্টির কারণে কাদা আর পানিতে মাখামাখি হয়ে আছে মার্কেটের মেঝে। ঠিকমত চলাফেরা করতে পারছেন না ক্রেতারা। সাবধানে চলাচলের পরেও অনেককে পা পিছলানোর ভয়ে স্যান্ডেল হাতে নিয়ে হাঁটতে দেখা গেছে। অনেকে আবার ছেঁড়া স্যান্ডেল হাতে নিয়ে হেঁটেছেন। দোকানিরা তাদের ডামিগুলো সাজাতে পারেনি, বসার আসনগুলো দিতে হয়েছে পানিতে পেতে। চেয়ারগুলো অর্ধডোবা অবস্থায় রাখা ছিল। শাড়ি-জামার ডিসপ্লে করতে পারেননি আগের মতো। ঈদ মার্কেটের চিরচেনা সেই সাজানো গোছানো রুপ যেন একদিনের বৃষ্টি দৃশ্যপটই বদলে দিয়েছে। ধানমন্ডি হকার্সের বিক্রেতা মিজান মিয়া জানান, আমাদের ক্রেতা বেশিরবাগ নারী, মনে হচ্ছে তারা আজ আর এ হাঁটু পানিতে নেমে না যাওয়া পর্যন্ত মার্কেটে প্রবেশ করতে পারবে না। মিজান মিয়া বলেন, আমাদের একদিন এমন যাওয়া মানে বেচাকেনা মাটি হয়ে যাওয়া। ঈদের শপিং আর ভাইয়ের বিয়ের শপিং করতে এসেছেন ফাহিমা আক্তার ও তার স্বামী ব্যবসায়ী শামীম আহমেদ। তারা বলেন, আমাদের বিয়ের কেনাকাটা ও ঈদের কেনাকাটা একসঙ্গে করতে হচ্ছে। সবকিছু হিসাব করে সময় ভাগ করে রাখা হয়েছে। তাই বৃষ্টির ভেতরেই আমাদের মার্কেটে আসতে হয়েছে। তারা কিনেছেন শাড়ি, থ্রি-পিস ও কিছু জুয়েলারি। বলেন, ঈদের সময় হওয়ায় দামটা একটু বেশি। তিনি তার ব্যাগের থ্রিপিস দেখিয়ে বলেন, এই থ্রিপিস ঈদের আগে হলে অনায়াসে ২ হাজারে পেতাম কিন্তু সেই থ্রিপিস এখন কিনতে হলো ৩ হাজার টাকা করে। ধানমন্ডি হকার্সের ব্যবসায়ী আজহার মিয়া বলেন, আমাদের এসব পাইকারি দোকান, দূর থেকে ব্যবসায়ীরা আসবেন অনেক টাকার জিনিস একবারে কিনে নিয়ে যাবেন তাদের দোকানের জন্যে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে আজ কোন ক্রেতা বাসার বাইরে বের হতে পারছেন না। রমজানে হটাত্ এতো বৃষ্টি ব্যবসায়ীদের অনেক বড় লোকসান করে দিলো বলে আক্ষেপ করেন তিনি। রাইসা ও সুমাইয়া মোহাম্মদপুর এসেছেন ঈদের শপিং করতে। তারা অভিযোগ করে বলেন, যানজটের কারণে ৩০ মিনিটের পথ এসেছি ২ ঘন্টায়। এখন বৃষ্টি থামছে না। কেনাকাটা আজকের মতো মোটামুটি শেষ কিন্তু রিক্সাওয়ালারা যেতে চাচ্ছেন না। যারাও বা যেতে চাচ্ছেন ভাড়া চাচ্ছেন অনেক বেশি। তারা বলেন, বৃষ্টি ভালো লাগলেও হটাত্ এতো বেশি বৃষ্টি সবাইকে হতাশ করেছে।