বিশ্বকাপের শুরুই হয়েছিল তার উত্থান দিয়ে। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তার নামেই উচ্ছ্বাস করেছে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা। কিন্তু সব কিছু শেষ হয়ে গেল একটা ঘটনায়।
কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার হুয়ান ক্যামিলো জুনিগার হাঁটুর আঘাতে মেরুদণ্ডের ইনজুরিতে পড়েছেন নেইমার। শেষ হয়ে গেছে নেইমারের বিশ্বকাপ অভিযানও। বড় ধাক্কা লেগেছে ব্রাজিলীয়দের বিশ্বকাপ-স্বপ্নেও। তাঁকে হারিয়ে শুরু হয়ে গেছে হাহাকার। তবে এক ভিডিও বার্তায় নেইমার বলেছেন, তাঁর স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি। নিজে খেলতে না পারলেও সেই স্বপ্ন সতীর্থরাই পূরণ করবেন বলে আশাবাদী ২২ বছর বয়সী ব্রাজিলীয় এই ফরোয়ার্ড।
কথা বলতে গিয়ে নেইমার ছিলেন সেই চির পরিচিত ভঙ্গিতে। মাথায় একটা টুপি পরা। কালো টিশার্ট। এই দুঃসময়েও তিনি হেসে যাচ্ছেন। কিন্তু কথা বলতে গিয়ে আর পারলেন না। কান্না জড়ানো কণ্ঠে বললেন, ‘এটা আমার জন্য কঠিন সময়। কী বলব, বুঝে উঠতে পারছি না। আমার স্বপ্ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। জীবন এগিয়ে যাবে। আমি নিশ্চিত, আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নটা পূরণের জন্য সবকিছুই করবে আমার সতীর্থরা।’
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, নেইমার বসে আছেন। সতীর্থরা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করবেন, এমন আশাবাদের পর নিজের আরেকটা স্বপ্নের কথা বলেন নেইমার। যেটা অন্য কারো পক্ষে পূরণ করে দেয়া সম্ভব নয়। যে ব্যাপারটা শুধুই তাঁর নিজের, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার স্বপ্নও ছিল আমার। এবার সেটা হচ্ছে না। তবে আমি নিশ্চিত, সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাব আমরা। চ্যাম্পিয়ন হয়েই উদযাপন করব আমরা।’
জাতীয় দলের ক্যাম্পও ছেড়েছেন নেইমার। হেলিকপ্টারে করে তাঁকে যখন রাজধানী রিও ডি জেনিরোতে নেয়া হচ্ছিল, তখন এক হূদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্ট হয়। দলের চিকিত্সক হোসে লুইজ রুনকো বলেন, ‘পুরো সুস্থ হয়ে উঠতে দেড় মাস সময় লাগতে পারে নেইমারের। এ সময়ের মধ্যেই দাঁড়াতে ও হাঁটতে পারবেন তিনি। নেইমার ভক্তদের জন্য আরও একটা আশার বাণী উপহার দিলেন রুনকো।’
মাঠে নামতে না পারলেও জার্মানির বিপক্ষে সেমিফাইনালেই দর্শক হিসেবে থাকতে পারেন নেইমার। ব্রাজিল দলের এই চিকিত্সক বললেন, ‘মঙ্গলবারের ম্যাচে দর্শক হিসেবে থাকতে পারেন নেইমার। এটা নির্ভর করছে তাঁর ব্যথার ওপর। যদি ব্যথা না থাকে, তিনি স্বস্তিবোধ করেন, তাহলে কোনো কিছুতেই
নিষেধাজ্ঞা নেই।’
