তাহলে কি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাই খেলছে ফাইনালে? কতজন সমর্থক এমনটা চান তা গুনে বলা না গেলেও বাস্তবে শেষ চারের পক্ষ -বিপক্ষ ঠিক হয়ে যাওয়ার পর ল্যাটিন ফুটবলের দল দুইটির মুখোমুখিতার সম্ভাবনা বেড়েছে। এ জন্য দরকার কেবল শেষ চারের লড়াইয়ে ব্রাজিল-জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস-আর্জেন্টিনার খেলা দুইটিতে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ দুইটির জয়। তাহলে ১৩ জুলাইয়ের ফাইনালে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকেই দেখা যাবে। তবে সেমিফাইনাল দুইটিতে হারলেও আবার ব্রাজিল- আর্জেন্টিনা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় মুখোমুখি হবে।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ফাইনালের স্বপ্ন দেখছেন ব্রাজিল কিংবদন্তী রোনালদোও। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এখনও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ফাইনালের স্বপ্ন দেখছি।’ শুধু রোনালদোই নন, বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারিও বলেছিলেন, তার বিশ্বাস ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাই মুখোমুখি হচ্ছে ২০১৪ বিশ্বকাপে।
ইতিহাস অবশ্য এখন পর্যন্ত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিশ্বকাপে কোন ফাইনাল ম্যাচ দেখেনি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে দল দুইটি মুখোমুখি হয়েছে চারবার। তাতে আর্জেন্টিনার একমাত্র জয়টি ছিল ইটালিতে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ এর বিশ্বকাপের শেষ ষোলর খেলায়। সেই খেলাটিতে দিয়েগো ম্যারাডোনার জোগান থেকে ক্লদিও ক্যানিজিয়া ৮১ মিনিটে ১-০ ব্যবধানের জয়টি নিশ্চিত করেন। ব্রাজিলের জয় দুইটি। প্রথমটি ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাতে ২-১ গোলে জয়ী হয় ব্রাজিল। এরপর ১৯৮২’র বিশ্বকাপে একই রাউন্ডের খেলায় ৩-১ গোলে আর্জেন্টাইনদের হারায় ব্রাজিলীয়রা। ১৯৭৮ সালে দুইদলের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলাটি ছিল গোলশূন্য। সেবার আর্জেন্টিনা নিজেদের মাটিতে শেষ পর্যন্ত তাদের প্রথম বিশ্বকাপটির দেখা পেয়েছিল। এর বাইরে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে খেলেছে ছয় বার।
বিশ্বকাপের আগে থেকেই দুই দলের মধ্যে ফাইনাল হতে পারে এমন একটা সম্ভাবনার কথা শোনা গিয়েছিল। অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান সাচ পূর্বাভাস করেছিল, ‘এবারই প্রথমবারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। আর তাতে জিতে শিরোপা ঘরে তুলবে স্বাগতিকরাই।’
এমনকি বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিলিয়ান কোচ লুইস ফিলিপ স্কোলারিও ফাইনালের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকেই প্রত্যাশা করছিলেন। স্কোলারি জানান, তিনি এবং তার সহযোগীরা মিলে টুর্নামেন্টের খেলাগুলোর ছক বিশ্লেষণ করে দেখেছেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ দুইটিই ১৩ জুলাইয়ের ফাইনালে মুখোমুখি হবে। তিনি বলেন,‘আমাদের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, ব্রাজিল একদিকে এবং অপরদিকে থাকবে আর্জেন্টিনা।’
রিওডি জেনিরোতে দলের অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে স্কোলারি বলেন, তার আশা এ ভবিষ্যত্বাণী সঠিক হবে। কারণ ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী দুইটি দলের দক্ষিণ আমেরিকায় শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হওয়াটা হবে অসাধারণ ঘটনা। আপাতত স্কোলারির ধারণা বাস্তবে সত্য হতে যাচ্ছে বলেই মনে করেন দুই দলের সমর্থকরা।
যদিও স্বাগতিকদের বিশ্বকাপের জয়ের পথে এখন আকাশচুম্বি বাঁধা। মেরুদণ্ডের ইনজুরি নিয়ে ছিটকে গেছেন দলের অন্যতম মূল ভরসা নেইমার। স্বস্তিতে নেই আর্জেন্টিনাও। মিডফিল্ডার অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া পড়েছেন ইনজুরিতে। উরুর মাংসপেশীর ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপে তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এই অবস্থায় দল দুইটিকে মাঠে নামতে হবে দারুণ ফর্মে থাকা দুই ইউরোপিয়ান শক্তির বিপক্ষে। জার্মানী ও নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে কারও জন্যই লড়াইটা সহজ হবে না। তবে, কোনভাবে যদি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সেই বাধা পার করে ফেলতে পারে তাহলে হবে নতুন এক ইতিহাস। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ দেখবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল।
জয় হবে ফুটবলের!
