ডাচ হিরো গোলরক্ষক ক্রুল

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২২:১২
স্নেইডার, আরিয়েন রোবেন, ডার্ক কুইয়েট, ফন পার্সি একশ বিশ মিনিট লড়াই করলেন কোস্টারিকার বিরুদ্ধে। কিন্তু একবারও তাদের জালে বল রাখতে পারলেন না। ম্যাচ চলে গিয়েছিল অনিশ্চয়তায়। খেলা গড়ালো টাইব্রেকারে। তাতে আগের সব ব্যর্থ চেষ্টার পর সাইড লাইন থেকে এসে ম্যাচ জেতালেন গোলকিপার টিম ক্রুল। একাদশে না খেলেও একটা গোলকিপার ম্যাচের হিরো বনে যেতে পারেন। যারা শনিবার রাতে নেদারল্যান্ডস কোস্টারিকার ম্যাচ দেখেছেন, তারাই ভালো বুঝবেন। উত্তেজনাকর ম্যাচটির প্রতিটি মুহূর্ত টেনশনে কেটেছে। কে জানতো টিম ক্রুলের হাতেই লুকিয়ে ছিল ম্যাচ জয় ভাগ্যের চাবিটা। টাইব্রেকারে দুটি শট ঠেকালেন। কোস্টারিকার অধিনায়ক বায়ার্ন রুইজ এবং ডিফেন্ডার মিশেল উমানার শট হাত দিয়ে টেকিয়েছেন দীর্ঘ দেহী গোলকিপার টিম ক্রুল। ম্যাচ জেতালেন। নেদারলান্ডসকে সেমিফাইনালে তুললেন ২৬ বছর বয়সি গোলকিপার টিম ক্রুল। ডাচদের মুখে হাসি ফোটালেন। আরো একবার সেমিফাইনালে গেলো নেদারল্যান্ডস। অথচ ১২০ মিনিট লড়াই করেছেন দলের এক নম্বর গোলকিপার জাপার সিলেসিন। তিনিও দারুণ খেলছিলেন। কিন্তু তার কাজ তো আর গোল করা নয়। গোল ঠেকানো। তিনি তো কোস্টারিকার আক্রমণগুলো সামাল দিয়ে দলকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু আক্রমণ ভাগে রোবেন, ফন পার্সি, স্নেইডাররা যেভাবে গোল মিসের মহড়া দিলেন। তার বিচার করবে কে। কোস্টারিকার বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের একটা সহজ ম্যাচ ছিল। বলে কয়ে জিততে পারতো নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের শুরু থেকে হেলাফেলায় খেলতে গিয়ে দুর্বল কোস্টারিকা সুযোগই পেয়ে যায়। সেটাই ধরে রেখে নেদারল্যান্ডসকে থামিয়ে দিতে প্রাণপণ লড়াই করেন স্ট্রাইকার রুইজ, ক্যাম্বেল, দিয়াজ, বোরগেজ, বেলানোসরা। কোস্টারিকার কলম্বিয়ান কোচ লুইস পিনতো নিশ্চিত জানতেন। রোবেনদের স্ট্যামিনা, স্ট্র্যান্থের কাছে কোনো ভাবেই পেরে উঠবেন না। সে কারণে কোস্টারিকা খেলেছে ডিফেন্সিভ ফুটবল। ১০ জন ফুটবলার চলে যায় ডিফেন্সে। উপরে তুলে আনার সব চেষ্টাই করেছেন রোবেন, স্নেইডাররা। কিন্তু কোস্টারিকা তো নাছোড় বান্দা। ঘর ছেড়ে বাইরে যাবেন না। রোবেনরা নিজেদের ডিফেন্সে চলে এসেছেন। তারপরও কোস্টারিকার আক্রমণভাগ মাঝ মাঠের সীমানা ছেড়ে আসতে রাজি না। নেদারল্যান্ডসের শট ক্রস পিসে লেগেছে সাইড পোস্ট ঘেঁষে চলে গেছে। কিন্তু গোল হয়নি। ভাগ্যটাও ফেভার করেনি নেদারল্যান্ডসকে। কোস্টারিকা যোগ্য দল হয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। তাই বলে ডাচ ফুটবলের সাথে এমন লড়াই ? তাজ্জব বনে গেছেন ফুটবল দর্শকরা। কোস্টারিকার মতো দল নেদারল্যান্ডসকে ১২০ মিনিট গোল করতে দেয়াটাই তো মানসিক জয়। পেনাল্টি শ্যুটআউটে গিয়ে তুরুপের তাস মাঠে ছেড়ে দিলেন নেদারল্যান্ডসের কোচ লুইস ভ্যান গাল। যে গোলকিপার পুরো ম্যাচ খেললো অতিরিক্ত সময়ের মিনিট দুই আগে জাপার সিলেসিকে তুলে নিয়ে সাইড বেঞ্চ থেকে ডেকে পাঠালেন গোলকিপার টিম ক্রুলকে। তখনও ডাচদের চোখে মুখে উত্কণ্ঠা। বর্তমান রানার্সআপ দলের দর্শকদের চোখে ম্যাচের ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা। কোচ জানতেন টিম ক্রুলই পারবেন কোস্টারিকাকে উচিত জবাব দিতে। কারণ এই গোলকিপার পেনাল্টি ঠেকানোর বিশেষজ্ঞ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নিউ ক্যাসেল ফুটবল দলের গোলকিপার। টাইব্রেকিং শট ফেরানোর মাস্টার ক্রুল। কোচ বিরাট ঝুঁকি নিয়ে দলের এক নম্বর গোলকিপারকে বসিয়ে দিলেন। পেনাল্টি ঠেকানোর জন্য টিম ক্রুলকে নামিয়ে দিলেন। ক্রুলও তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ খেলতে নেমে চমক দিলেন। সবার চোখে তারকা বনে গেলেন এ ম্যাচ দিয়ে। না খেলে। শুধু টাইব্রেকিং শট ঠেকিয়ে তারকা খ্যাতি পাওয়া যায় সেটাই দেখালে ডাচদের হিরো টিম ক্রুল। বেঁচে গেলেন গোল করতে না পারার ব্যর্থতায় রোবেন, ফন পার্সি, স্নেইডাররা।