হুমকির কথা অস্বীকার

দেশের হয়ে খেলতে চান সাকিব

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২২:১৩
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে না খেলার হুমকির কথা অস্বীকার করেছেন। জাতীয় দলের হয়ে আরো বছর দশেক খেলতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি। ক্রিকেট বোর্ডের অনুমতি (এনওসি) না নিয়েই ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পথে থাকা অবস্থায় তাকে ফিরিয়ে আনা হলো। আজ তার ব্যাপারে বিসিবির বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তলব পেয়ে গতকাল রবিবার ঢাকায় ফিরে বেশ নমনীয় কথাবার্তা বললেন সাকিব। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি কখনই বিতর্কে আসতে চাই না। আমি চাই ক্রিকেট খেলতে। এটা আমার পেশা। ক্রিকেট ছাড়া আমার পক্ষে চলা খুবই কষ্টকর হবে। আন্তর্জাতিক এবং বাণিজ্যিক সব ধরনের ক্রিকেটই আমি খেলতে চাই।’ তিনি আরো বলেন,‘ আমার সম্পর্কে এদেশের অনেক ক্রিকেটারদের ধারণা ২০১৯ এর বিশ্বকাপের পর আমি হয়তো আর খেলবো না। কিন্ত আমি ওদেরকে বলছি আমি ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ খেলব। আমি আরো দশ বছর বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলতে চাই।’ তবে জাতীয় দলের নতুন কোচ শ্রীলংকার হাতুরুসিংহের সাথে যে তার বনিবনা হচ্ছে না তা পরিষ্কার সাকিবের কথাতেই। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সমস্যাতো আমি করিনি। সমস্যা করেছেন কোচ।’ তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ক্যারিবীয় লিগে খেলার অনুমতি না পেলে প্রয়োজনে বাংলাদেশ দলের হয়ে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেট ছেড়ে দেয়ার কথা কোচকে বলেছিলেন কিনা? জবাবে সাকিব বলেন, ‘আমি এমন কথা কেন বলবো। এটা আসলে অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এটা একটা সাধারণ বিষয়।’ বোর্ডের অনুমতি না নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘ক্রিকেট বোর্ডের অনুমতি নেয়াটা নতুন কিছু না। দেশের বাইরে যতগুলো টি-টোয়েন্টি লিগ হয় প্রায় সবগুলোতেই আমি খেলেছি। তামিম ইকবালের মত আমারও এনওসি নেয়া ছিল। আমার ধারণা ছিল আগেরটা হয়ত ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগের জন্য কাজে লাগবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগের আগে আমি যখন জানতে পারলাম আমাকে এনওসি নিতে হবে তখন আমি (ক্রিকেট অপারেশন বিভাগ) সাব্বির ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ করি। উনি খালেদ মাহমুদ সুজন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। আমি তখন ওনার সাথে কথা বলি। উনি আমাকে বললেন, আকরাম খানের সঙ্গে কথা বলতে। তখন আমি আকরাম ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলি। আকরাম ভাই আমাকে জানালেন উনি এখন চট্টগ্রাম আছেন। তুমি এনওসিটা সাব্বির আহমেদের কাছে রেখে যাও। আমি ঢাকায় এসে তাতে সই করে দিব। এটাই আসলে এনওসিসির ঘটনা।’ তিনি আরো বলেন,‘মৌখিক অনুমতি নেয়াটা হয়তো ঠিক হয়নি। লিখিত অনুমতি নিলে ভালো হতো। বিস্তারিত জানার জন্য বোর্ডের সাথে কথা বলতে হবে। তাদের কোথায় কনফিউশন আছে জানতে হবে। আমার মনে হয় মিসকমিউনিকেশনের কারণে এমনটা হয়েছে।’ সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দলের এ সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘এটা আমি কখনই চাই না। সেটা চাই না বলেই দেশে ফিরে আশা। আমার যদি দেশের হয়ে খেলার ইচ্ছা নাই থাকতো তাহলে তো আমি আর এখানে ফিরে আসতাম না। আমি এনওসিও নিতাম না কিংবা মোবাইলে সবার সঙ্গে কথাও বলতাম না। এমন যদি হতো তাহলে আমি কাউকে না বলে চলে যেতাম। আমি আসলে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চাই।’ দেশে থেকেও বিসিবির নির্দেশিত সময় ১ জুলাই জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ না দেয়া সম্পর্কে সাকিব বলেন, এটা আসলে ঠিক না। সেদিন আমি মিরপুরে ছিলাম এবং জাতীয় দলের ট্রেনারের সাথে কথাও বলেছি। ট্রেনার বললে ফিটনেস টেস্ট দিতাম।