সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আইসিসি সভাপতি

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২২:১৪
প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে আইসিসি সভাপতির পদ অলংকৃত করা পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটির প্রধানের ভূমিকায় থাকলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটে সরাসরি অবদান রাখার সুযোগ নেই তার। তবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চাইলে একজন ক্রিকেটানুরাগী হিসাবে যে কোন সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তিনি। গতকাল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এক সাক্ষাত্কারে তিনি একথা বলেন। আইসিসির একাদশতম সভাপতি নির্বাচিত হবার পরে ঢাকা ফিরে তিনি জানিয়েছিলেন, পদটা অনেকটাই অলংকারিক। এই পদে থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য খুব বেশি‘ অবদান রাখার সুযোগ নেই। গতকাল সে কথারই পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি। মুস্তফা কামাল বলেন, আইসিসির নিয়মানুযায়ী কোন দেশের ক্রিকেট সংক্রান্ত যে কোন বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা কেবল সেদেশের ক্রিকেট বোর্ডেরই। তারাই ঠিক করবে তারা কোন পথে হাঁটবে, কিভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। সুতরাং, আমার এক্ষেত্রে সরাসরি কোন অবদান কিংবা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, ‘আইসিসি এবং আমাদের সবার জন্যই বিষয়টি ইতিবাচক যে, আইসিসির সর্বোচ্চ পদগুলোয় যারা আছেন—প্রেসিডেন্ট বা প্রধান নির্বাহী—তারা সরাসরি কোন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারেন না। ভোটাধিকার নেই তাদের। তবে, পরিস্থিতি দাবি করলে এই নিয়মের মধ্যে থেকেই যতটুকু সম্ভব সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিলেন আইসিসি সভাপতি। বললেন, ‘বিজ্ঞাপন, বিপণন, নতুন আইন তৈরি করা কিংবা কোন নিয়ম পাল্টানো সব কিছুর জন্যই নির্ধারিত কমিটি আছে। আমাদের কাজ শুধু বোর্ডে বসে সেগুলোর অনুমোদন দেয়া। আসলে এর চেয়ে বেশি কিছু করার সুযোগ নেই। তবে এর বাইরে যদি খুব বড় কোন প্রয়োজন দাঁড়ায় তাহলে তো আমাকে কিছু একটা করতেই হবে। তবে সেটাও হয়তো প্রত্যক্ষভাবে করা যাবে না। নিয়মের মধ্যে থেকে, পরোক্ষভাবে করতে হবে।’ তবে সাবেক বোর্ড প্রধান বা ক্রিকেট সংগঠক হিসাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অবদান রাখতে আপত্তি নেই তার। বিসিবি চাইলে যেকোন সময় তাকে পেতে পারে জানিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন হয়তো আমার পক্ষে প্রত্যক্ষ অবদান রাখা সম্ভব নয়। তবে বোর্ড যদি আমার অভিজ্ঞতা এবং কিংবা ক্রিকেটানুরাগের কথা বিবেচনা করে একজন সাবেক বিসিবি সভাপতি হিসাবে আমার কাছে কোন পরামর্শ চায় আমি সেটা করতে প্রস্তুত।’ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সর্বশেষ ঘটনার দিকে উল্লেখ করে বিসিবি’র সাবেক এই সভাপতি বলেন, এ ধরনের ঘটনা গোটা ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্সের উপর বাজে প্রভাব ফেলবে। মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, প্রতিটি খেলোয়াড়ের সবার উপরে দেশের কথা ভাবতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থকে দেশের উপরে গুরুত্ব দিলে সেটা হবে অন্যায়। দেশের মানুষ ক্রিকেট এবং ক্রিকেটারদের খুব বেশি ভালোবাসে। খেলোয়াড়দের অবশ্যই সেটা ভাবা উচিত।’ নিজে বিসিবি প্রধানের পদে থাকাকালীন শৃঙ্খলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘কোন একজন খেলোয়াড় শৃঙ্খলা ভাঙ্গলে সেটা সমগ্র দলের উপর প্রভাব ফেলে। এটা খুব ভয়ের কারণ। আপনি যদি ক্রিকেটকে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে রাখতে পারেন তাহলে সাফল্য আসবেই।’