শহীদ আনোয়ারা পার্কে মাদকসেবীদের আড্ডা

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৩
একসময় ছিল সবুজের সমারোহ। এলাকার একমাত্র মুক্ত বায়ু সেবনের জায়গা। আশপাশের পাড়া মহল্লার শিশুরা খেলাধুলা করতে আসতো। আর বয়স্করা আসতেন ব্যায়াম করতে। সুন্দর পরিবেশে বসে এলাকার লোকজন গল্পগুজব করতো। বলছিলাম শহীদ আনোয়ারা পার্কের কথা। ফার্মগেট পার্ক নামেই এটি পরিচিত। তবে এটা এখন অতীতের গল্প। কেননা রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকার এই পার্কটিতে এখন নিঃশ্বাস টানা দায়। গাছপালা কমে গিয়ে সবুজ উধাও হওয়ার উপক্রম। চারপাশে ময়লা-আবর্জনার ভাঁগাড়। খুপরি ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন ভাসমান মানুষ। সন্ধ্যা নামতেই ছিনতাইকারী, মাদকসেবীসহ বিভিন্ন শ্রেণির অপরাধীদের আনাগোনা শুরু হয়। এই পার্কটির দায়িত্ব নিতে আগ্রহী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। তবে গণপূর্ত অধিদফতর মালিকানা ছাড়তে রাজি নয়। এই অবস্থা চলতে থাকলে পার্কটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফসিহ উল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, পার্কটি বর্তমানে গণপূর্ত বিভাগের অধীনে রয়েছে। এটি হস্তান্তর করা হলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারব। অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার কবির আহমদ ভূঁইয়া জানান, পার্কের পরিবেশ ভালো না। এটা আমরা অবগত হয়েছি। অচিরেই স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে পার্কটি হস্তান্তর করতে গণপূর্ত অধিদফতর আগ্রহী নয় বলে জানান তিনি। ইন্দিরা রোডের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, এরশাদ শাসনামলে পার্কটি নির্মাণ করা হয়েছে। এক সময় পার্কটিতে ঢাকার অনেক নামি-দামি লোকজন ব্যায়াম করতে আসতেন। আমরাও ব্যায়াম করতাম। তবে খারাপ মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় কেউ পার্কে আসেন না। আমিও অনেক দিন আগে ব্যায়াম করা ছেড়ে দিয়েছি। সরেজমিন দেখা যায়, পার্কে বসার জন্য ছাতাসহ বেঞ্চ ছিল। এখন আর সেখানে বেঞ্চের অস্তিত্ব নেই। ছাতার কয়েকটি দণ্ড পড়ে থাকলেও তাতে ছাউনি নেই। সীমানা প্রাচীরও অনেক জায়গায় ভেঙ্গে গেছে। ছিন্নমূল কিছু পরিবার অস্থায়ী খুপরি ঘর বানিয়ে বসবাস করছে। দর্শনার্থীদের বসার জন্য কংক্রিটের তৈরি বেঞ্চগুলোও ভেঙে গেছে। যে দুটি বেঞ্চ মোটামুটি ভালো তা বাদামের খোসা, ঝালমুড়ি ও সিগারেটের প্যাকেটসহ নানা ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। ফলে নেই বসার কোনো পরিবেশ। আজিজুল করিম। বাসা ফার্মগেটের সেজান পয়েন্টের পেছনে। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ পার্কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এছাড়া যে অবস্থায় আছে সেটি ধরে রাখারও কোনো চেষ্টা করেনি। সৌন্দর্য বৃদ্ধির দিকে নজর দেয়নি বলে পার্কটি বরাবরই অবহেলিত। এলাকার বাসিন্দা তানিয়া সুলতানা। পার্ক নিয়ে তিনি বলেন, আগে এই পার্কে সকাল-সন্ধ্যায় ফার্মগেট এলাকার নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধদের সমাগম থাকলেও এখন আর কেউ আসে না। অথচ এলাকার আশপাশে আর কোনো পার্ক নেই। এলাকার মানুষ ছাড়াও পথচারীদের বিশ্রামের একমাত্র ভরসা ছিল পার্কটি। এখন পার্কটির যে অবস্থা, তাতে এক মিনিট দাঁড়ানোর সাধ্য কারো নেই।