তিন যুগ পর মুখোমুখি আর্জেন্টিনা নেদারল্যান্ডস

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৪, ২২:০৩
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষিণ আমেরিকার মাটিতে মুখোমুখি হচ্ছে। ১৯৭৮ সালের বিতর্কিত বিশ্বকাপের ফাইনালে রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে ডাচদের আতিথ্য দিয়েছিল স্বাগতিক আর্জেন্টাইনরা। সেবারের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে হেরে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। তাই আসন্ন সেমিফাইনালটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে গেলবারের ফাইনালিস্টদের শোধ নেয়ার পালাও। আর্জেন্টিনার তখনকার নির্দয় সেনাশাসনের কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্বকাপটি। তাতে উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে মারিও কেম্পেসের জোড়া গোলে ডাচদের ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডের সেটা ছিলো টানা দ্বিতীয় হার। পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ১৯৭৪ বিশ্বকাপের ফাইনালেও স্বাগতিকদের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ডাচরা। এই অঞ্চলের মাটিতে এর আগে ইউরোপের কোনো দলই বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারেনি। নেদারল্যান্ডই একমাত্র ইউরোপীয় দল, যাদের দক্ষিণ আমেরিকার মাঠে বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত ওঠার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। পর পর বিশ্বকাপের দুই আসরের ফাইনালে খেলা নেদারল্যান্ডস দলে তেমন কোনো পরিবর্তন ছিল না। পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপে খেলা অধিনায়ক রুড ক্রল এবং রব রেনসেনব্রিঙ্কসহ নেদারল্যান্ডসের মূল একাদশের সাতজন খেলোয়াড়ই আর্জেন্টিনা আসরের ফাইনাল খেলেছিলেন। শিরোপার ঐ চূড়ান্ত লড়াইয়ে ক্যাম্পেসের গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের প্রায় শেষের দিকে বদলি খেলোয়াড় ন্যানিনজা গোল করলে সমতা ফেরায় নেদারল্যান্ড। এরপর রেবসেনব্রিঙ্ক আর্জেন্টিনা গোলপোস্টে আরো একটি শট নিলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যায়। তবে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা স্কোরার ম্যারিও ক্যাম্পেস (৬)। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে বের্তোনির গোলে জয়ের পাল্লা ভারি করে আর্জেন্টিনা। ফাইনাল ম্যাচে ওই পরাজয় আজো পীড়া দেয় নেদারল্যান্ডসকে। শিরোপা নির্ধারণী ঐ লড়াইয়ের আগে নেদারল্যান্ডসের উইঙ্গার রেনে ভেন দে কের্কদফ কব্জিতে প্লাস্টার নিয়ে খেলতে চাইলে বিরোধিতা করে আর্জেন্টাইন শিবির। এ ঘটনাটি তাদের মানসিকভাবে নড়বড়ে করে দেয় বলে ডাচ শিবির দাবি করে থাকে। এই অভিযোগে ম্যাচ স্থগিত করে দিতে চেয়েছিল তারা। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে নেদারল্যান্ডের ডিফেন্ডার রুড ক্রল ডেভিড উইনারের বই ‘ব্রিলিয়ান্ট অরেঞ্জ’ এ বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনা দেরি করছিল। রেফারিও কোনো কিছু করছিল না।’ ক্রুল তার বইয়ে আরো বলেছেন, ইতালির সার্জিও গনেলাকে রেফারি হিসাবে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার জন্য আর্জেন্টিনা ফিফাকে চাপ দিয়েছিল। এ ব্যাপারে আর্জেন্টিনার সেনাশাসিত সরকারের প্রধান হোর্গে ভিদেলার প্রভাব ছিল বলে ধারণা করা হয়। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় পর্যায়ে পেরুর বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ম্যাচটির ফল নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। ব্রাজিলকে টপকে ফাইনালের টিকেট পেতে পেরুর বিপক্ষে অন্তত চার গোল ব্যবধানে জয়ের প্রয়োজন ছিল আর্জেন্টিনার। ওই ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে ৬-০ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। খেলাটিতে পেরুর আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত গোলরক্ষক র্যামন কুইরোগার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। পরিস্থিতি ভীতিকর ছিল ডাচদের জন্য। ফাইনালটিতে নেদারল্যান্ডের রেসেনব্রিঙ্কের শেষ মুহূর্তের একটি শট জালে যায়নি। কিন্তু তিনি ভাবছিলেন জালে গেলে তারা হোটেলে ফিরতে পারতেন কিনা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বলটি ভেতরে গেলে, তাহলে আমরা জিততে পারতাম। আর্জেন্টিনার মাটিতে আমরা বিশ্বকাপ জিততাম। এটা ছিল দুঃখজনক।’ আর্জেন্টিনার এইসব ঘটনা আসন্ন লড়াইয়ে রেখাপাত করে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।