বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাপোর্টার নীলাঞ্জনা জানান, তার সবচেয়ে পছন্দের খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। পড়ালেখার বাইরে আরজে হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বন্ধুদের মিস করেন তিনি?
বেতার তরঙ্গে ভেসে আসা গানে, আলোচনা, খবরে একসময় মুখর হতো সারাদেশ। রেডিওই ছিলো সেসময়ে বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রযুক্তির কল্যাণে পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে পুরোনো রেডিও ফর্মেটের উত্তরন ঘটে আধুনিকতায়। সে সঙ্গে হাতে হাতে পৌঁছে যায় এফএম রেডিও। আর এসব এফএম রেডিওতে কথা, আড্ডা, আলোচনায় মাতিয়ে রাখেন যেসব কুশলী কথার জাদুকর তাদের আমরা চিনি আরজে বা কথাবন্ধু হিসেবে। বর্তমান সময়ের তেমনি এক জনপ্রিয় কথাবন্ধুর নাম তাসনিমা জাহান নীলাঞ্জনা। ‘আরজে নীলাঞ্জনা’ নামেই তিনি পরিচিত। এবিসি রেডিও এফএম ৮৯.২ এর এই কথাবন্ধুই আজকের প্রিয়মুখ।
সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এরই মধ্যে বিবিএ শেষ করেছেন। একই ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ’তে পড়ছেন। প্রথমেই জানতে চাই বিজনেস রিলেটেড সাবজেক্টে পড়ে কেনো মিডিয়ায়? আর ভবিষ্যত্... সহাস্যে তার উত্তর, ‘খুব ছোটবেলা থেকে প্রচুর কথা বলতাম। এরপর এফএম রেডিও যখন জনপ্রিয় হতে থাকে তখনও প্রচুর রেডিও শুনতাম। সে থেকেই আরজে হওয়ার প্রতি প্রচণ্ড আকর্ষণ তৈরি হয়। ক্যারিয়ারের শুরুটা হয় ঢাকা এফএম দিয়ে।’ ২০১০ সালে ঢাকা এফএম যখন অনলাইন সম্প্রচার শুরু করে তখন থেকেই চ্যানেলটির সঙ্গে ছিলেন। এরপর ২০১২ সালে তারা এফএম সম্প্রচার শুরু করলে সেখানে নীলাঞ্জনা নিয়মিত শো করতে থাকেন। শ্রোতাদের সঙ্গে আড্ডাবাজি আর তাদের অনুরোধের গান শোনান সপ্তাহে পাঁচ দিন। এরপর এবছর যোগ দেন এবিসি রেডিওতে। নিয়মিত প্রোগ্রাম করছেন। বিশ্বকাপ নিয়ে ‘গোল’ নামে কুইজ ভিত্তিক একটি শোও করছেন তিনি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাপোর্টার নীলাঞ্জনা জানান, তার সবচেয়ে পছন্দের খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। পড়ালেখার বাইরে আরজে হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বন্ধুদের মিস করেন তিনি? জানতে চাইলে বলেন, তারা আমার সবচেয়ে বড় ফ্যান। তারাও আমার প্রোগ্রাম শোনে। ভালো লাগা মন্দ লাগা জানায়। তবে বেশি সময় না পাওয়ায় তাদের সব আড্ডাবাজিতে সঙ্গী হওয়া সম্ভব হয় না। তবে ছুটি বা অবসর পেলে সেটা পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। পরিবার প্রসঙ্গে বলেন, বাবা-মা আর ৫ বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। কাজের ক্ষেত্রে পরিবারের সাপোর্ট আছে। বিশেষ করে মা’ তার প্রোগ্রাম নিয়মিত শোনেন। যারা আরজে বা কথাবন্ধু হতে চায় তাদের ব্যাপারে কী বলার আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রচুর বই পড়া দরকার। আর নিয়মিত শুনতে হবে। দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন উপস্থাপকের উপস্থাপনা দেখলে বিষয়টি আরো ক্লিয়ার হবে। আর আবৃত্তি-বিতর্কও দারুণ কাজে দেয়। বিবিএ-এমবিএ পড়লেও পড়া শেষ করে তিনি মিডিয়াতেই ক্যারিয়ার গড়তে চান। থাকতে চান শ্রোতাদের নানা ভালো লাগা মন্দ লাগার সঙ্গেই। আর কথার জাদুতেই মাতিয়ে রাখতে চান সবাইকে।
