বুয়েট ছাত্র মাহাদী। শৈশব থেকে তার লক্ষ্য উদ্যোক্তা হবেন। নিজের মত করে কিছু করবেন। কিন্তু তার বাবা-মায়ের লক্ষ্য ভিন্ন। তারা চান ছেলে প্রকৌশলী হবেন। বাবা-মায়ের স্বপ্নপূরণে মাহাদী এখন বুয়েটে পড়ছেন। কিন্তু তার মনের ভেতর কাজ করছে উদ্যোগী মনোভাব। যে কাজে মন বসে না, সে পেশায় কতটুকু সাইন করবেন, তা নিয়ে এখনো সে দ্বিধাগ্রস্ত। মাহাদীর মত অবস্থা বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর। তারা যেন বাবা-মায়ের পছন্দকে বাস্তবায়ন করতে পড়াশোনা করছে, নিজের লক্ষ্যকে নয়। এতে পেশার প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগী মানুষ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে। ক্যারিয়ার নিয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে লাইফ কার্নিভাল ফাউন্ডেশন। তাদের উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের অন্যতম বরেণ্য ব্যক্তি জামিলুর রেজা চৌধুরী, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, এম এ মুহিত, গাউসুল আজম শাওনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
শিক্ষার্থীদের সঠিক লক্ষ্য চেনাতে এবং সে অনুযায়ী পৌঁছাতে এ সংগঠন বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ক্যারিয়ার কার্নিভাল তার একটি। স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এ কার্যক্রমের অংশ। অষ্টম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণীতে ওঠার সময় শিক্ষার্থীদের কোন গ্রুপ নেয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে হয় কলেজ পর্যায়ের কার্যক্রম। স্নাতক পর্যায়ে তাদের কোন বিষয় পড়া প্রয়োজন, সে বিষয়ের সম্ভাবনা কতটুকু, এ বিষয়ের সাথে নিজের ম্যাচিং হবে কিনা এবং বাজারদরের পুরোপুরি চলে আসে এ দিকনির্দেশনায়।
লাইফ কার্নিভালের আরেকটি প্রোগ্রাম ‘স্বপ্ন নিয়ে জেগে ওঠো’। এ প্রোগ্রামে লক্ষ্য স্থির এবং সে অনুযায়ী কি কি কাজ করতে হয়, তার নির্দেশনা দেয়া হয়।
