শবেবরাতের পর থেকে আমরা রমজানের বেচা-কেনা শুরু করি। শেষ করি পঁচিশ রমজানে। সকালে দোকান খুলে ইফতারের পরও ক্রেতাদের ভিড়ে দোকান বন্ধ করতে পারি না। কিন্তু এবার আট রোজা হয়ে গেলেও তেমন ক্রেতা নেই। ৬ জন কর্মচারির ইফতার, তাদের বেতন-বোনাস, দোকান ভাড়া, কারেন্ট বিল কিভাবে যে কি করবো, বুঝে ওঠতে পারছি না। এমন করেই আক্ষেপ করেন ইসলামপুরের পাইকারি ব্যবসায়ী হ্যাভেন লাইট ফেব্রিকসে্র স্বত্বাধিকারী মো. কবীর হোসেন। এই অভিযোগ শুধু কবীর হোসেনের নয়, প্রায় প্রতিটি পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, তাদের এবার গতবছরের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেচা-কেনা কম। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এর মূল কারণ উল্লেখ করে তারা আরও বলেন বৈধ-অবৈধ পথে আসা বিদেশি পণ্যে সয়লাব বাজার, একশ্রেণির মানুষের হাতে টাকা যাওয়া, মধ্যবিত্তের আয় কমা প্রভৃতির কারণে বাজার ধরে রাখতে পারছে না ইসলামপুরের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। অথচ মোট কাপড়ের ৬০ শতাংশ এক সময় এই মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা হত বলে জানান তারা।
হাজ্বী আহমেদ মার্কেটের মার্কস ফেব্রিকসের ইসমাইল সেলিম বলেন, গতবছর এক নাগাড়ে তিন/চার দিন হরতাল হলেও রমজানে এর চেয়ে অনেক ভাল বাজার ছিল। এবছর হরতাল নেই তারপরও গত বছরের চেয়ে বেচা-কিনি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কম। খুচরা বিক্রেতারা কিছু কাস্টমার পেলেও তাদের ‘বিসমিল্লাহ’ করতেই বেগ পেতে হয়। একই মার্কেটের আপন টেক্সটাইলের মোহাম্মদ হান্নান জানান, জানুয়ারিতে তাদের যেই মাল বিক্রি হয়েছে সেই মালই নাকি খুচরা বিক্রেতা বিক্রি করতে পারেনি। রোজার মাসে কোন কোন দোকানে বিক্রি কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেলেও এবার সে আশায় গুড়েবালি। ইসলামপুরে সার্টিং-স্যুটিং, থান কাপড়, সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি ও যাকাত সামগ্রীর বিশাল পাইকারী বাজারের প্রায় সব রকম বিক্রেতারা তাদের অবস্থা খারাপ বলে অভিযোগ করেন।
৩৫ বছর ব্যবসা করছেন বন্ধন টেক্সটাইল মিলস-এর মালিক হাজ্বী মো. মজিবুর রহমান, ছেলে পড়াশুনা শেষ করে বাবার সাথেই ব্যবসা শুরু করেন। ছেলে তাইয়েবুর রহমান বলেন, রেডিমেট গার্মেন্টস ও ইউনিফর্ম তৈরিতে তাদের কাপড় ব্যবহার হয়। এই সময় তাদের এত ব্যস্ততা থাকতো যে সেলসম্যানরা বসার সময় পেতো না। ইফতার করার ফুরসুত্ থাকতো না। আর এবার তাদের ইফতারের আগেই দোকান বন্ধ করে বাড়ি যেতে হয়। যাকাতের কাপড় ব্যবসায়ী রহিম মন্ডল বলেন, এখনও মানুষ যাকাতের কাপড় কিনতে শুরু করেনি। তবে ঢাকার বাইরের ক্রেতারা একটু আধটু যা কিনছেন, সেই টাকাও হাতে আসছে না , চেক বাউন্স হয়। কারণ সেই একই, তারা বিক্রি করতে পারে না। \
