শুভ হোক মমর পুনঃযাত্রা

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৪, ১৮:৩৪
একজন চিত্রনায়িকা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর লাক্স সুপারস্টার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। একটি কিংবা দুটি চলচ্চিত্রে কাজ করলেই চিত্রনায়িকার উপাধি পাওয়া যায় না। তাই একের পর এক ভালো ভালো চলচ্চিত্রে কাজ করে মম সেই নায়িকা খেতাব ‘চিত্রনায়িকা’ উপাধি পেতে আগ্রহী। এ জন্য তিনি এখন চলচ্চিত্রেই কাজ করছেন। নাটকে তার উপস্থিতি আগের তুলনায় কম। এনটিভিতে প্রচার চলতি ধারাবাহিক নাটক ‘ভালোবাসার চতুষ্কোণ’ নাটকের শুটিংয়ে তাকে নিয়মিত অংশ নিতে হয়। গত সোমবার এই নাটকেরই লোকেশনে কথা হয় মমর সাথে। লিখেছেন সাবিহা সুলতানা জেমি উত্তরার একটি শুটিং হাউজে শিহাব শাহীন পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ‘ভালোবাসার চতুষ্কোণ’-এর শুটিং হচ্ছিল। সেদিন সারাদিন শুটিং করলেন মম। যেহেতু মম এখন চলচ্চিত্রের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত তাই তার সিডিউল মেলানো একটু কঠিনই বৈকি। তাই পরিচালকের ইচ্ছেতে মম ও অপূর্ব এই ধারাবাহিকেরই শুটিং করলেন। শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে কথা হলো গুণী এই অভিনেত্রীর সঙ্গে। যেহেতু রমজান মাস তাই শুটিংস্পটে খাওয়াদাওয়ার খোলামেলা কোনো আয়োজন নেই। প্রশ্ন রাখি মমর কাছে, রোজা রাখার চেষ্টা করেন। মম বলেন, ‘কষ্ট হলেও রাখার চেষ্টা করি। মুসলিম বলে কথা। ধর্ম-কর্ম আমি মেনে চলার চেষ্টা করি। বিশ্বাস করি সবকিছু আল্লাহই নিয়ন্ত্রণ করছেন। তা না হলে এই পৃথিবীটা এত সুন্দরভাবে কীভাবে চলত। আসলে আমাদের ভাগ্য বলেন, যাই বলেন সবই তো আল্লাহর হাতে।’ আপনি ভাগ্যে বিশ্বাস করেন তাহলে? ‘নিশ্চয়ই। কেন নয়। আমি জানতাম আমি একদিন চলচ্চিত্রেই বেশি বেশি কাজ করব। অনেক অপেক্ষার পর আমার সেই সময় এসেছে। এখন কিন্তু আমি চলচ্চিত্রেই মনোযোগী বেশি। এখানেই সময় দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ তারমানে একজন চিত্রনায়িকা হওয়ার আপাদমস্তক চেষ্টা? ‘ওইরকমই কিছু একটা। যদি ভালোবেসে কেউ আমাকে চিত্রনায়িকা লিখেন তাহলে সে তো আমার কাজেরই জয়, খারাপ কিছু নয়। তাছাড়া আমাদের দেশের লিজেন্ড যারা আছেন যেমন চিত্রনায়িকা শাবানা, চিত্রনায়িকা কবরী তারা তো এই বিশেষণে সম্মানবোধ করেন। আমার তো অসম্মানিত হওয়ার কিছু নেই।’ ঠিক তা নয়, আসলে অনেকেই টিভি মিডিয়া থেকে কাজ করতে আসেন চলচ্চিত্রে, তারা চিত্রনায়িকা শব্দটি নিজের নামের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চান না। জবাবে মম বলেন , ‘যারা চান না, তারা কেন চান না জানি না। তবে আমি খুব সম্মানিত বোধই করব।’ আচ্ছা, বলছিলেন টিভি নাটকে সময় দেন না বা এখানে কাজ করার তেমন ইচ্ছে নেই। কিন্তু তারপরও তো বেশ কিছু নাটকে আপনি কাজ করেছেন। ‘দেখুন বিগত বেশ কয়েকবছর যাবত আমি শুধু টিভি নাটকেই অভিনয় করেছি। সেখানে আমার অনেকের সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সেই সম্পর্কের কারণে অনেকেরই অনুরোধ ফেলতে পারিনি। যেমন ঈদ উপলক্ষে কাজ করেছি সকাল আহমেদের ‘কাব্য কথা’, বি ইউ শুভর ‘শেকড়’, এস এ হক অলিকের ‘দ্য ফেইথ ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট’ ও ‘টুকরো মেঘের গল্প’ নাটকে। এ নাটকগুলোর গল্প অনেক ভালো। আমার সাথে এগুলোতে কাজ করেছেন রিয়াজ ভাই, অপূর্ব ও সজল। নিশ্চিত বলতে পারি এই নাটকগুলো ঈদে অনেক নাটকের ভিড়ে অন্যরকম দর্শকপ্রিয়তা পাবে।’ বাণিজ্যিক ধারার দুটি ছবিতে কাজ করলেন। কেমন লাগল? ‘এক কথায় অনেক ভালো। প্রায় সাত বছর আগে আমি তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ছবিতে অভিনয় করেছিলাম। এই ছবিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছিলাম। অনেক বছর বিরতির পর নিজের ভালোলাগার জায়গা থেকে অভিনয় করেছি মিলন ও জায়েদ খানের বিপরীতে রকিবুল আলমের নির্দেশনায় ‘প্রেম করব তোমার সাথে’ ছবিতে। আর এরপরপরই আমার প্রিয় পরিচালক শিহাব শাহীনের পরিচালনায় ধ্বনি কথাচিত্রের ব্যানারে আরিফিন শুভর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছি ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিতে। দুটি ছবিতেই চেষ্টা করেছি নিজের সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে অভিনয় করতে।’ কী মনে হয়, পারবেন এখানে স্থায়ী হতে? ‘নাটক থেকে নানা সময়ে অনেকেই চলচ্চিত্রে জায়গা করে নিতে চেয়েছেন। এক ফরীদি ভাই ছাড়া আর কেউই এখানে স্থায়ী আসন করে নিতে পারেনি। চেষ্টা করতে তো আর কারো আপত্তি নেই। আমিও না হয় সেই চেষ্টাই করছি।’ মম চেষ্টা করুন, আমরাও আপনার জন্য দোয়া করি স্বামী এজাজ মুন্না, সন্তান উদ্ভাসকে নিয়ে সুখে থাকার পাশাপাশি চলচ্চিত্রে আপনার পুনঃযাত্রা যেন শুভ হয়।