সরকারের অব্যাহত ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে গ্রিসে সরকারি কর্মচারীদের ডাকা ২৪ ঘন্টা ধর্মঘটে সেখানকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে হাসপাতালসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজকর্মে দারুণ ব্যাঘাত হয়। বুধবারে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটে বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে তাদের চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে। তারা বলেন, সরকার যেভাবে ব্যয় সংকোচন করছে, তাতে তাদের পথে নামা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। সরকারের এই কৃচ্ছ্রতাসাধনের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা জানান, রাষ্ট্র যদি এই অবস্থা থেকে সরে না আসে তাহলে তারাও রাজপথ ছাড়বেন না। তারা জানান, সরকার ব্যয় সংকোচন নীতির মাধ্যমে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন-ভাতা ও পেনশন সুবিধা কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা কোনভাবেই এ পদক্ষেপকে মেনে নেবেন না। তাদের এ ধর্মঘট এমন সময়ে হচ্ছে যখন গ্রিসে আন্তর্জাতিক ঋণদান কর্তৃপক্ষ দেশটির অবস্থা পর্যবেক্ষণে সেখানে অবস্থান করছেন। ইউরোপীয় কমিশন, আইএমএফ এবং ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক যাদেরকে সমন্বিতভাবে ট্রইকা বলা হয়। তারা এখন দেশটির ব্যয় সংকোচন নীতি পর্যবেক্ষণে সেখানে রয়েছেন। গ্রিসকে পরবর্তী ২৪ হাজার কোটি ইউরো ডলার ঋণ পেতে গেলে সরকারকে এসব নীতি গ্রহণ করতে হবে। ঋণদানকারী কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সরকারের এ ব্যয় সংকোচন নীতিকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তারই দেখভালের পদক্ষেপ হিসাবে তারা এখন রাজধানীতে অবস্থান করছেন। এ সংক্রান্ত এক সভায় বলা হয়, প্রাথমিক বাজেট উদ্বৃত্ত তারা অর্জন করতে পেরেছেন। যাতে করে তারা তাদের ঘাটতি কাটিয়ে উঠে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার ছয় বছর পর সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন এর মাধ্যমে তারা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
এদিকে বিবিসির সংবাদদাতা মার্ক লোয়েন বলেছেন, বিচারক, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য, জরুরি সেবাকর্মীদের বেতনভাতা কাটছাঁটের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুলে বলা হয়েছে এটা অবশ্যই অবৈধ। তাদের বেতনভাতা তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হবে।
