ব্রাজিলের দুঃখ অনুভব করছেন জার্মান কোচ!

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৪, ২১:৪২
জার্মান কোচ জোয়াকিম লো জানিয়েছেন, মঙ্গলবার নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তাদের কাছে ৭-১ গোলে হারের পর শোকাহত ব্রাজিলের দুর্ভোগ ও কষ্টের ব্যাপারটি বুঝতে পারছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে একই পর্যায়ে ইতালির কাছে জার্মানদের কি অনুভূতি হয়েছিল সেটাও স্মরণে আনেন তিনি। ওই আসরে সেমিফাইনালে ইতালির কাছে হেরে ব্রাজিলের মতোই হতাশ হতে হয়েছিল জার্মানিকে। নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করে লো জার্মান টেলিভিশনকে বলেন, ‘আমরাও ২০০৬ সালের আসরে এমন হতবাক হয়েছিলাম এবং একই অভিজ্ঞতা আমাদেরও হয়েছিল। তারাও খুবই দুঃখ পেয়েছিল এবং এভাবে পিছিয়ে পড়াটা তারা আশা করেনি। এরপর ম্যাচটি আমাদের জন্য সহজ হয়ে যায়।’ ইতালির কাছে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ২-০ গোলে হারটির সময় জোয়াকিম লো ছিলেন জার্মানির প্রধান কোচ জার্গেন ক্লিন্সম্যানের সহকারী। তিনি মনে করেছিলেন- সেই হারটির অবর্ণনীয় চাপ স্বাগতিকদের উপর বিরাট এক বোঝা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। লো এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘২০০৬ আসরে আমাদের উপরও প্রত্যাশার চাপ ছিল। স্বাগতিকরা যখন এমন একটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়, স্বভাবতই অনেক চাপ বোধ করে। এখানকার ২০ কোটি জনগণই চায় আপনি ফাইনালে খেলুন। সেটা আপনার খেলোয়াড়দের চাপে ফেলতে পারে। আমি তার (স্কোলারি) জন্য দুঃখ বোধ করছি। আমি মনে করি- আমি তার অনুভূতি বুঝতে পারছি। কোচ লো এই ভেবে সন্তুষ্ট যে, তার খেলোয়াড়রা ব্রাজিলের ম্যাচটির জন্য সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে রেখেছিল। এটা ছিল এমনই এক গোল বন্যা যাতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলয় ২-১ গোলের কষ্টকর জয়টির পর দেশে যে সমালোচনা উঠেছিল সেটাকে মুছে দেয়। তিনি বলেন, ‘১৮ মিনিটেই পাঁচটি গোল! এটা পরিষ্কার যে, তারা হতবাক হয়ে গিয়েছিল এবং মনে হয় তারা বুঝতে পারছিল না কি করবে। আজ সবাই অনেক মনোসংযোগ দেখিয়ে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেছে। তবে এটা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদেরকে বিনয়ীও থাকতে হবে। আমরা এটাকে অনেক বড় করে দেখতে চাই না। রবিবারের আগ পর্যন্ত আমাদের মনোসংযোগ ধরে রাখতে হবে। ’ আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডের মধ্যে যেই ফাইনালে আসুক না কেন- এ ব্যাপারে তার কোন পছন্দ নেই। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় নেই। খেলোয়াড়দের সবার পা মাটিতেই আছে এবং তারা এ জয়টিকে তাদের মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাওয়াবে না।’