নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের নির্ধারিত খাবার না দেওয়া এবং পচা ও বাসী খাবার পরিবেশনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোগী ও তাদের স্বজনরা এ বিষয়ে অভিযোগ করলে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স ও কর্মকর্তারা নানা ভাবে হয়রানি করছে। হাসপাতালে এক যুগ ধরে খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার বিপ্র টেড্রার্স বলছে, অভিযোগ গুলো মিথ্যা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে ভর্তি থাকা কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে নাস্তা হিসাবে পচা কলা ও বাসী রুটি দেওয়া হয়। যা খাওয়া যায় না। দুপুরের ভাত দেওয়া হয় বিকেল ৩টায়। নিম্নমানের চালের ভাত মুখে দিতে পারেন না রোগীরা। খাবার গুলো নিতে না চাইলেও ঠিকাদারের লোকজন জোর করে দিয়ে যায়। প্রতিবাদ করলে তারা বলেন, ‘খেতে না পারলে ফেলে দেন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, রোগী প্রতি দিনে দুইশ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। যা দিয়ে সকালের নাস্তা এবং রাতে ও দুপুরে খাবার সরবরাহ করতে হবে। নাস্তাতে কলার সঙ্গে একশ গ্রাম ওজনের একটি পাউরুটি দিতে হবে। দুপুরের ও রাতের খাবারে রুই মাছ বা ২৫০ গ্রাম পরিমাণ মাংস সরবরাহ করতে হবে। সপ্তাহের রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শুক্রবার দিনে রোগীদের খাবারে মাংস সরবরাহ করতে হবে।
আরও পড়ুন: মুক্তিপণ দিলে মেলে গরু, না দিলে মাংস বিক্রি
ঠিকাদার বিমান কুমার জানান, আমি খারাপ খাবার পরিবেশন করি না। মেন্যু অনুযায়ী রোগীদের খাবার পরিবেশন করা হয়। অভিযোগ গুলো মিথ্যা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাবার মনিটরিং এর দায়িত্বে থাকা আরএমও ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ঠিকাদারকে সর্তক করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি। নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মোমিনুল ইসলাম জানান, নিম্নমানের খাবারের বিষয়টি জানতে পেরেছি। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/অনি
