এদেশের গুণী কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিত্। অডিও ইন্ডাস্ট্রির এই বৈরী পরিবেশেও যিনি একই জনপ্রিয়তায় কাজ করে চলেছেন। কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
ঈদকে সামনে রেখে আপনার ব্যস্ততা?
এবার ঈদের কাজ নিয়ে তেমন কোনো ব্যস্ততা নেই আমার। যেহেতু এই সময়টা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করব, তাই কোনো লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হচ্ছে না। তবে কয়েকটি চ্যানেলে ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানের রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈশাখী টেলিভিশনে ‘সময় কাটুক গানে’সহ বেশ কয়েকটি চ্যানেলে শুটিং শেষ হয়েছে। সেগুলোর মাধ্যমেই শ্রোতাদের পাশে থাকার সুযোগ হয়েছে।
কিছুদিন আগে রাশিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেন। প্রবাসীদের দেশের গানের প্রতি ভালোবাসা কেমন?
রাশিয়া-বাংলাদেশ সম্মিলিত আয়োজনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে প্রবাসীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। যেন রাশিয়ার মতো বিরাট দেশে ছোট্ট এক টুকরো বাংলাদেশ। শুধু রাশিয়াতেই না, বিশ্বের যে দেশেই গান করতে গিয়েছি সেখানে দেখেছি যে দেশের বাইরের মানুষদের দেশের প্রতি টান একটু বেশি থাকে। আমাদের পেয়ে তারা আরও আবেগী হয়ে উঠে।
রিয়্যালিটি শোগুলোর মাধ্যমে যেসব শিল্পী আসছেন, তারা কিছুদিন পরই উধাও হয়ে যাচ্ছেন। একজন বিচারক হিসেবে কী মনে করেন?
শিল্পী শুধু তৈরি করলেই তো আর হবে না, তাদেরকে সুযোগ দিতে হবে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর দশজনকে নিয়ে একটি অ্যালবামের পরই যেন দায়িত্ব শেষ। তারা তো টিকে থাকার প্লাটফর্ম পাচ্ছে না। তবে আমি রিয়েলিটি শোর দোষ পুরোটা দিচ্ছি না। কারণ আমাদের দেশের বাজারটাও এখন সুবিধাজনক না। আরেকটা বড় সত্য—যেসব শিল্পীরা বের হচ্ছে তাদের আগ্রহের জায়গাটাও খুব একটা আমার চোখে পড়ে না।
পরবর্তী অ্যালবাম নিয়ে কোনো কাজ শুরু করেছেন?
পরবর্তী অ্যালবাম নিয়ে এখনও কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রতিবছর তো আর অ্যালবাম বের করি না। এই বছরেই আমার ‘প্রিয় অনুভব’ অ্যালামটি রিলিজ পেয়েছে। তাই পরবর্তী অ্যালবামের জন্য একটু সময় লাগবে। যেকোনো কাজই একটু সময় নিয়ে ভালো করে করার চেষ্টা করি।
অ্যালবাম প্রকাশের ক্ষেত্রে তো এখন অনেকের অনীহা। কেউ টাকা দিয়ে অ্যালবাম কিনছে না। এর ভবিষ্যত্ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন?
আমি হতাশাবাদী নই। এখন মাধ্যম পরিবর্তন হচ্ছে। অবশ্যই আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে। সেক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে ইতিবাচক হতে হবে।
আপনি যেমন অধিকাংশ সময়ই দেশের বাইরে কাটাচ্ছেন, তেমনি অনেকেই এখন দেশের বাইরে যাচ্ছেন মিউজিক নিয়ে টিকে থাকার জন্য...
হ্যাঁ, এটাই তো বাস্তবতা। এ ছাড়া আমাদের আর কীই বা করার আছে। আমাদেরও তো সবকিছু নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে।
