যাকাত প্রদানের উত্কৃষ্ট সময় রমজান মাস

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৬
যাকাত ইসলামী অর্থব্যবস্থার অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। ঈমান আনয়ন ও নামায আদায়ের পর যাকাত নিয়মিত আদায় করেই একজন ব্যক্তি মুসলিম সমাজের অন্তর্ভুক্ত হবার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। যাকাতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অপরের জন্য স্বার্থত্যাগের মানসিকতা সৃষ্টি, কৃপনতা বর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা। যাকাত কাকে বলে ঃ ‘যাকাত’ শব্দটির অর্থ প্রবৃদ্ধি, বর্ধিত হওয়া। শরীয়তের পরিভাষায় “নির্দিষ্ট সম্পদ থেকে, নির্দিষ্ট পরিমাণ, নির্দিষ্ট সময়ে, বিশেষ একটি শ্রেণিকে, বিশেষ শর্তসাপেক্ষে, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে, আত্মশুদ্ধি ও সম্পদের পবিত্রতার জন্য যে সম্পদ ব্যয় করা হয় তাই হলো যাকাত।” যাকাত বাধ্যতামূলক ঃ নিসাব (সাধারণভাবে ৫২.৫ তোলা (ভরি) রূৌপ্য বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা এর সমমূল্যের সম্পদ) পরিমাণ সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির উপর যাকাত বাধ্যতামূলক। কুরআন মাজীদে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ৮২বার যাকাতের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, “তোমরা নামায কায়েম কর এবং যাকাত দাও” (সূরা বাকারা, ২:১১০)। মহানবী (স.) বলেছেন, ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি ঃ এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, হজ্জ্ব সম্পন্ন করা এবং রমযানের রোযা রাখা” (মিশকাত)। যাকাত বাধ্যতামূলক হবার ব্যাপারে সকল যুগের এবং সব দেশের মুসলিম উম্মাহ একমত। সুতরাং যাকাত অস্বীকারকারী মুরতাদ হবে। মহান আল্লাহ বলেন, “যারা যাকাত দেয় না তারা হলো সেসব লোক যারা আখেরাতের প্রতিও অবিশ্বাসী” (সূরা হা-মীম আস-সাজদা, ৪১:৭)। যাদের ওপর যাকাত ফরয ঃ প্রাপ্তবয়স্ক এবং বুদ্ধি-জ্ঞান সম্পন্ন নারী ও পুরুষের মালের ওপর কতিপয় শর্তসাপেক্ষে যাকাত ফরয করা হয়েছে। কোনো অমুসলিম ব্যক্তির ওপর যাকাত ধার্য করা যাবে না। অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো বালক, বালিকা এবং পাগলের মালের ওপর যাকাত ফরয নয়। মহানবী (স.) বলেন, “তিন ব্যক্তির আমল লেখা হয় না-নাবালিগ- যতক্ষণ না বালিগ হয়, ঘুমন্ত ব্যক্তি-যতক্ষণ না জাগ্রত হয় এবং পাগল ব্যক্তি যতক্ষণ না বিবেকসম্পন্ন হয়” (আবূ দাউদ, নাসাঈ)। অবশ্য মালিকী, শাফিঈ ও হাম্বলী মাযহাব মতে নাবালিগ এবং পাগলের মালের ওপর যাকাত ধার্য হবে এবং তা তাদের অভিভাবকগণ পরিশোধ করবেন (ফিকহুল ইসলামী, ২য় খ. ৭৩৯)। যে সব শর্তসাপেক্ষে উপরোক্ত ব্যক্তির মালের ওপর যাকাত ধার্য হয় তা হলো ঃ ১. মালের উপর পূর্ণ একটি (চান্দ্র) বছর তার পূর্ণ মালিকানা বিদ্যমান থাকতে হবে, ২. মাল এমন প্রকৃতির হতে হবে যার ওপর যাকাত ধার্য হতে পারে, ৩. মাল নিসাব পরিমাণ বা নিসাবের মূল্যের সমপরিমাণ হতে হবে এবং ৪. ঐ নিসাব পরিমাণ মাল তার মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে হবে। মালিকানা বলতে “কোনো বস্তু ও ব্যক্তির মধ্যকার শরী‘আ সম্মত যোগসূত্রকে বুঝায়, যা ব্যক্তিকে ঐ বস্তু নিঃশর্তভাবে ভোগ ব্যবহারের অধিকার দেয় এবং অপর লোকের হস্তক্ষেপে বাধা দেয়।” নগদ অর্থ, সোনা-রূপা, ব্যবসায়িক পণ্য, পালিত পশু, কৃষিজ পণ্য ইত্যাদির ওপর যাকাত ধার্য হয়। আমরা রমজান মাসের মধ্যেই যাকাত প্রদানে সচেষ্ট হই, আমীন।