ফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুণ্যে থাকা জার্মানকে কী হারাতে পারবে আর্জেন্টিনা? জার্মানদের হারিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিততে পারে এখানে এমন ৫টি কারণ উল্লেখ করা হল:
লিওনেল মেসির উপস্থিতি
আর্জেন্টিনার অন্যতম শক্তির আধার হলেন তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে নিজেদের চার ম্যাচে চারটিতেই ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার উঠেছে তার হাতে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলর লড়াইয়ে পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার! তার জাদুকরী পারফরম্যান্স নতুন করে পরিচয় করে দেয়ার কিছু নেই। চাপের সময়ও চুম্বকের মতো পায়ের সঙ্গে আটকে রাখতে পারেন বার্সেলোনার এই তারকা। জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালেও মেসি চমক দেখাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বদেশী সমর্থকদের উপস্থিতি
আর্জেন্টিনার সমর্থকরা সত্যি সত্যিই ব্রাজিল দখল করে নিয়েছে! এক লাখেরও বেশি আর্জেন্টািইন প্রতিবেশী দেশে দলের এগিয়ে যাওয়ার পথে গলা ফাটাচ্ছে। স্বদেশী এসব সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রত্যেকটি ম্যাচই আর্জেন্টিনা দল নিজেদের মাঠে খেলার মতোই অনুভব করেছে। মারাকানায় অনুষ্ঠেয় ফাইনালেও আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উপস্থিতি মেসিদের জন্য ১২তম সদস্য হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে!
উইংয়ে পেরেজ-জেবালেতার কঠিন অবস্থান
অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার চোট নিশ্চিতভাবে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনায় আঘাত হেনেছিল। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফাইনালে অতিরিক্ত মিডফিল্ডার এনজো পেরেজ ডি মারিয়ার জায়গায় খেলে সংকটের সময় নিজের যোগ্যতা তুলে ধরেছেন। স্বভাবতই ডি মারিয়ার চেয়ে অধিকতর ডিফেন্সিভ উইঙ্গার পেরেজ। পেরেজ ছাড়াও আর্জেন্টিনার রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিষ্ঠিত রাইট-ব্যাক পাবলো জেবালেতা। আর্জেন্টিনার ডান পার্শ্বের এই রক্ষণব্যুহ ভাঙ্গা জার্মানির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে তারা স্ট্রাইকারদের কার্যকরী পাসের মাধ্যমে আক্রমণভাগ আরও কার্যকরী করে তুলবেন বৈকি।
রক্ষণভাগে দক্ষ মাশেরানো
আরিয়েন রোবেন ব্রাজিলে অনেক রক্ষণভাগই শাসন করেছেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জাভিয়ের মাশেরানো নিয়ে গড়া একব্যক্তি কেন্দ্রিক রক্ষণভাগে নিজের খেলাটা দেখাতে পারেননি এ ডাচ উইঙ্গার। নেদারল্যান্ডসের আক্রমণগুলো দক্ষতার সঙ্গে ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন ডিফেন্ডার মাশেরানো। বিশেষ করে রোবেনের পেছনে আঠার মতো করে লেগেছিলেন তিনি। ফাইনালে জার্মানির থমাস মুলার, মেসুত ওজিল এবং টনি ক্রুসকে আটকে দিতেও মাশেরানো সেরাটা দিয়েই খেলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রেমেরো ও পেনাল্টি অভিজ্ঞতা
এটা জার্মানি কৃতীত্ব বলা যেতে পারে যে, ফাইনালে আসা পর্যন্ত কোনো ম্যাচে টাইব্রেকারে যেতে হয়নি। সবগুলো ম্যাচেই নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই জিতেছে তারা। তবে ফাইনাল ম্যাচে প্রতিপক্ষ জার্মানিকে টাইব্রেকারে নিতে পারলে কিছুটা হলেও সুবিধা পাবে আর্জেন্টিনা। কেননা সেমিফাইনালে তাদের টাইব্রেকারের অভিজ্ঞতা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে রেমোরো আবারও প্রতিপক্ষের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন, যিনি দু’টি শট আটকে দিয়ে নেদারল্যান্ডসকে হতাশায় ডুবিয়েছেন।
০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০
জার্মানি হারাবে আর্জেন্টিনাকে
স্পোর্টস ডেস্ক
ফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুণ্যে থাকা আর্জেন্টিনাকে কী হারাতে পারবে জার্মানি? সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে বিধ্বস্ত করা জার্মানরা আগামীকাল তাদের চতুর্থ শিরোপা জিততে পারে এখানে এমন ৫টি কারণ উল্লেখ করা হল:
দুর্দান্ত মিডফিল্ড
মিডফিল্ডেই রয়েছে জার্মানির মূল শক্তি। গতি, কুশলী পাস তাদের মিডফিল্ডটাকে সমৃদ্ধ করেছে, যা যেকোনো দলের রক্ষণভাগের বিপক্ষে রাস্তা তৈরি করে নিতে পারে। জার্মান দলটি বুন্দেস লিগা এবং বায়ার্ন মিউনিখের একগুচ্ছ খেলোয়াড় নিয়ে গড়া জার্মানির বিশ্বকাপ দল। ফলে খেলোয়াড়দের মধ্যে বুঝাপড়াও ভাল। মিডফিল্ডার টনি ক্রুস পাসিং এবং গোল করা দু’দিক থেকেই টুর্নামেন্টে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রাখছেন। কিছু সমালোচনা থাকলেও মেসুত ওজিল পাস এবং বল রাখার সক্ষমতার ক্ষেত্রে তাল রেখে চলেছেন তিনি। এদিকে, দীর্ঘ সময় ইনজুরি থাকার পর সামি খেদিরাও দারুণভাবে ফিরে এসেছেন। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন বাস্তিয়ান শোয়েনস্তেইগারও।
তারকা নির্ভরতা নেই
এবারের বিশ্বকাপের দলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় জার্মানিরই পুরো মাঠে শক্তি রয়েছে। সবদিক থেকেই দলটির গভীরতা রয়েছে। তাদের দলে একক কোনো তারকা নেই, পুরো মাঠেই তাদের মূল খেলোয়াড়দের দেখা যায়। আর্জেন্টিনার আছে লিওনেল মেসি আছে, ব্রাজিলের আছে নেইমার, নেদারল্যান্ডসের আছে আরিয়েন রোবেন। সে ক্ষেত্রে জার্মানি একক কোনো ব্যক্তি নন, ম্যাচজয়ী অনেক খেলোয়াড়ই রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন হলেন ক্রুস, ওজিল, থমাস মুলার এবং ফিলিপ লাম। এমন একটি দলকে হারানো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিনই হতে পারে।
অতীত অভিজ্ঞতা
কিভাবে জিততে হয় এই মন্ত্র লালন করেই বছরের পর বছর অতিক্রম করছে জার্মান ফুটবল। দলটির তিনটি বিশ্বকাপ ট্রফি এবং ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশিপই এর দলিল। দলের জন্য কী প্রয়োজন অতীত থেকেই তারা তা জানে। সমৃদ্ধ ও বিচক্ষণ মিডফিল্ডই জার্মানিকে যত দূর সম্ভব এগিয়ে নিচ্ছে। অতীতেও এই শক্তিই তাদের প্রেরণা যুগিযেছে। যদিও ২০০৬ এবং ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে অনেক দূর গিয়েও ব্যর্থ হতে হয়েছে তাদের। এবারের বিশ্বকাপে অভিজ্ঞ মিরোস্লাভ ক্লোসা, লড়াকু মুলারের উপস্থিতিতে শক্তিশালী আক্রমণভাগ পেয়েছে জার্মানি। মিডফিল্ডের সহায়তায় দারুণ খেলছে তারা।
সহনীয় রক্ষণভাগ
গ্রুপ পর্বের খেলাগুলোতে জার্মানির রক্ষণভাগ নড়বড়ে মনে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রক্ষণভাগে চারজন সেন্টারব্যাক মোতায়েন করা হয়েছিল। দক্ষ ফুল-ব্যাক না থাকায় পরবর্তীতে অধিনায়ক ফিলিপ লামকে তার যথার্থ জায়গা রাইট-ব্যাকে নিয়ে আসা হয়। আশার কথা, পুরো শক্তি নিয়ে জার্মানির রক্ষণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খাপ খাওয়াতে পারে। প্রতিপক্ষের দ্রুত গতির ফরোয়ার্ডদের থামিয়ে দিতে জেরোমে বোয়েটেং এবং ম্যাটস হিউম্যালস এক সঙ্গেই কাজ করছেন।
বিশ্বসেরা গোলকিপার
কোনো স্যুইপার গোল কিপারের কথা বললে প্রথমেই আপনি যাকে খুঁজে পাবেন তিনি হলেন বায়ার্ন মিউনিখের ম্যানুয়েল নুয়ারকে। তার হাত ধরেই জার্মানির সমালোচিত রক্ষণভাগ একটি পর্যায় পেয়েছে। নুয়ার নৈপুণ্য দেখিয়ে রক্ষণভাগের শূন্যতা পূরণ করে থাকেন। পেনাল্টি এরিয়ায় নুয়ারের কার্যকারিতা চোখে পড়ার মতো। চাপের সময় প্রতিপক্ষের আক্রমণগুলো দক্ষতার সঙ্গেই থামিয়ে দিতে পারেন তিনি।
