ব্রাজিল আর নেইমার যেন ঠিক একই সুঁতোয় বাঁধা। স্বপ্নটাও ছিল একই। স্বপ্ন ছিল দেশের মানুষের সামনে বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে ধরার। স্বপ্ন ছিল ফুটবল অমরত্বের শিখরে উঠে যাওয়ার। কিন্তু হলো না! কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে মেরুদণ্ডের ইনজুরি নিয়ে ছিটকে পড়তে হলো নেইমার জুনিয়রকে। একই হাল হলো ব্রাজিলেরও। নেইমার নেই তো নেই ব্রাজিল। সেমিফাইনালে সেলেচাওরা বিধ্বস্ত হলো জার্মানির কাছে। মারাকানার কান্না মুছে ফেলার মিশন নিয়ে মাঠে নামা ব্রাজিল ফিরলো মিনেইরোর কান্না নিয়ে।
জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার দুদিন বাদে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন নেইমার। পরনে ছিল চিরচেনা হলুদ জার্সি। তাতে শত শত ভক্তের শুভেচ্ছা বাণী লেখা। মাথায় কালো রঙা টুপি। সেখানে লেখা — ‘নেইমার জুনিয়র’!
সমর্থকদের এতো ভালবাসার মধ্যে আরেকবার কাঁদলেন নেইমার। কান্না চোখেই ২২ বছর বয়সী বার্সেলোনা তারকা জানান, ম্যাচের ওই মুহূর্তটায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার ভয় পেয়েছিলেন তিনি।
নেইমারকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সকরা জানান, তার মেরুদণ্ডের একটি কশেরুকায় চিড় ধরেছে। বিশ্বকাপে আর খেলতে পারবেন না ব্রাজিলের স্বপ্ন-সারথী। তবে এরপরও ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন নেইমার। তিনি বলেন, ‘আর দুই সেন্টিমিটার এদিক-সেদিক হলেই আমাকে আজ হুইল চেয়ারে থাকতে হতো।’
সুনিগা পরের দিনই ফোন করে নেইমারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তিনি ক্ষমা পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে না, ‘আমি তাকে ঘৃণা করছি না, তার ওপর রাগও পুষে রাখছি না। কিন্তু আমি অন্য কোনো কিছুও অনুভব করছি না। আমার ক্যারিয়ারের এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঘটা এই ঘটনা নিয়ে কথা বলা খুবই কঠিন।’
তবে সুনিগার ওই ট্যাকলটাও মেনে নিতে পারেননি নেইমার। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলবো না যে সে আমাকে আহত করতে চেয়েছিল। আমি জানি না তার মাথায় কি খেলছিল। তবে যারা ফুটবল বোঝে তারা বুঝবে যে এটা স্বাভাবিক চ্যালেঞ্জ ছিল না।’
ব্রাজিলের বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়দের অনেকেই সুনিগার ট্যাকলটিকে দেখছেন ‘কাপুরুষোচিত’ হিসেবে।০ সুনিগার ওই ট্যাকল নিয়ে ফিফা তদন্ত করেছিল; তবে তারা কোনো শাস্তি দেয়নি।
হেলিকপ্টারে সাওপাওলোর নিজের বাড়ি থেকে রিও দে জেনিরোর টেরেসোপলিসে ব্রাজিল শিবিরে আসেন নেইমার। সতীর্থদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। আজ শনিবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
গোটা ক্যারিয়ারে মেসির যা কীর্তি, সে সব মনে রেখে এবারের বিশ্বকাপটা তার হাতেই সবচেয়ে বেশি মানায় বলে মনে করছেন নেইমার, ‘মেসি তার ক্যারিয়ার জুড়ে যেসব অবিশ্বাস্য কীর্তি করে গেছে, তাতে একটা বিশ্বকাপ তার অবশ্যই প্রাপ্য। আমি ফাইনালে তাকেই সমর্থন করবো।
নেইমারের এখন পুরোদমে চিকিত্সা চলছে। গত শনিবার তাকে হেলিকপ্টারে করে সাওপাওলোতে নিয়ে আসা হয়, গত বৃহস্পতিবার তিনি দলের সাথেও দেখা করেছেন। আগামী ৫ আগস্ট তিনি ব্রাজিল ছাড়বেন। যোগ দিবেন কাতালান ক্লাব বার্সেলোনার অনুশীলন ক্যাম্পে।
নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সেখানেই নিজেকে প্রস্তুত করে তুলবেন!
