মারাকানায় ফাইনাল খেলবে ব্রাজিল। ১৯৫০ বিশ্বকাপ ফুটবলে হারানো ট্রফি জয়ের উত্সব করবে। ইতিহাস লিখবে আমরা পেরেছি। জাতীয় ট্র্যাজেডি যেটা হয়েছিল সেটা মুছে দিয়েছি। এই সব নানা পরিকল্পনায় মারাকনায় স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন করা হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা রাখা হয়েছিল এখানে। ইতিহাস সৃষ্টি করবে যে দল তাদের জন্য আলাদা কিছু থাকা চাই এবং স্টেডিয়ামটাও সেরকম হওয়া উচিত। স্টেডিয়াম নিয়ে ব্রাজিল আলাদা করে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিল এই স্টেডিয়ামের নানা গুণকির্তনের কথা। নেইমাররা এখানে ফাইনাল খেলবেন। তাই ফাইনালের আগে মারাকানায় ব্রাজিলের কোনো ম্যাচ রাখা হয়নি। রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় উদ্বোধনীয় ম্যাচ না দিয়ে সাও পাওলোয় উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিল মাঠে নামলো। সেখান থেকে পাঠানো হলো ফোর্তালেজা শহরে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলার জন্য। তৃতীয় ম্যাচ খেললো ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায়। শেষ ষোলোর ম্যাচ আর বেলে হরিজোন্তোয়। কোয়ার্টার ফাইনাল আবার ফোর্তালেজায়। আর সেমিফাইনাল খেললো আবার সেই বেলে হরিজোন্তের মাঠে। তারপরও মারাকানায় আনা হয়নি ব্রাজিলকে। তারা একবারে ফাইনাল ম্যাচ খেলবে এই স্বপ্ন নিয়ে নেইমারদের ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে শহরে উড়ে যেতে হলো। ব্রাজিলের মরণটা হয়েছে বেলে হরিজোন্তোয় মানে গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে। জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের হার। এবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটা খেলতে হচ্ছে ব্রাসিলিয়ায়। মারাকানায় খেলা হবে। আবার খেলা হবে। হয় তো অন্য কোনো টুর্নামেন্ট হবে। সেখানে হয় তো ব্রাজিল অনেক ভালো খেলবে। ম্যাচ জিতবে। উল্লাস করবে। কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হবে। তবে পুনরায় ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা হলে নেইমারদের আর খেলা হবে না। এবারই স্বপ্নের সমাধি হয়ে গেলো। সব প্রস্তুত রেখেও ব্রাজিলীয়দের খেলা হলো না মারাকানায়। ৬৪ বছর বাঁচিয়ে রাখা স্বপ্নটা স্বপ্নের মাঝেই শেষ হয়ে গেলো। সেই ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালই ৬৪ বছর ধরে মারাকানায় ব্রাজিলের শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ হয়ে থাকলো।
