বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৩ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৪, ২০:২০
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও মাইন বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২৭ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে। তবে এরই মধ্যে রুশপন্থিদের দখলে থাকা একটি শহর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। পূর্ব ইউক্রেনের লুহান্সকের কাছে জেলেনোপুল সীমান্ত চৌকিতে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শুক্রবার কমপক্ষে ২৩ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ভোর পাঁচটার দিকে ঐ সীমান্ত ফাঁড়িতে একের পর এর ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে। এতে তাত্ক্ষণিকভাবে ২৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও এ সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঐ হামলায় ৯৩ সেনাসদস্য আহত হয়েছে। ৩০ জুন ইউক্রেনের একতরফা যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর সরকারি বাহিনীর ওপর এটি রুশপন্থি বিদ্রোহীদের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কো হামলার ঘটনাটি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিটি সেনার জীবনের বিনিময়ে বিদ্রোহীদের নিজেদের দশ এবং একশ’জন করে মূল্য দিতে হবে। কোনো সন্ত্রাসীই দায় এড়াতে পারবে না, তাদের দিকে যা আসছে— প্রত্যেকেই তা পাবে।’ এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দেশটির আরো চার সেনা এবং ডোভজহানস্কিতে পাঁচ ব্যক্তির নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুই সেনাসদস্য এবং একজন সীমান্তরক্ষীকে বহনকারী একটি সাঁজোয়া যান মাইনের ওপর দিয়ে গেলে সেটি বিস্ফোরিত হয়ে তারা নিহত হয়। লুহান্সক অঞ্চলের আলেকসান্দ্রোভস্কেও এক ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র ভ্লাদিস্লাভ সেলেঝনিয়ভ বলেছেন, ডনেতস্ক অঞ্চলের কারলোভকা শহরের কাছে বিদ্রোহীরা এক সেনাসদস্যকে হত্যা করেছে। এছাড়া, ইউক্রেনের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে মর্টার হামলায় পাঁচ বেসামরিক নাগরিকের নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। এরই মধ্যে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের আরও একটি শহর নিজেদের দখলে নিয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্লোভিয়ানস্কের পূর্বে অবস্থিত সিভারস্ক শহরটি ছেড়ে পালিয়ে গেছে বিদ্রোহীরা। তবে এক রুশপন্থি যোদ্ধা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা নিজ থেকেই সিভারস্ক ছেড়ে যেতেন। লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী যখন রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্ত এলাকাগুলোতে আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তখন রুশপন্থিদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধ ও অন্যান্য কারণে তারা প্রাণহানির মুখে পড়েছে। উল্লেখ্য, এসব অঞ্চলে সহিংসতা বৃদ্ধি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধাদেরকে মদদ দেয়ার জন্য প্রথম থেকেই রাশিয়াকে দোষারোপ করছে কিয়েভ।