কোচের লড়াইটাও জমবে

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৪, ২১:২৪
মাঠে লড়বেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। শুধু এতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না আজকের ফাইনালটি। কেননা মাঠের বাইরেও লড়বেন আর্জেন্টিনা ও জার্মানির কোচরা। তারাই গেম প্ল্যান তৈরি করছেন। কিভাবে বিপক্ষকে ঘায়েল করা যায়, ঘর সামাল দিয়ে কিভাবে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ভাঙ্গতে হয়, এসব ছক ঠিক করবেন তারা। খেলা চলাকালীন কোচকেও মাঠের বাইরে খেলতে হয়। খেলা চলাকালীন ক্ষণে ক্ষণে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়। সেই চিন্তা-ভাবনায় জার্মানির কোচ জোয়াকিম লো এবং আর্জেন্টিনার আলেসান্দ্রো সাবেলা এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সফল। কারণ তারাই তো দল দুটিকে ফাইনালের মঞ্চে তুলে এনেছেন। তারা দাবি করতেই পারেন, ‘আমরাই সেরা’। এবার শেষ লড়াইয়ে দু’জনের মধ্যে প্রমাণ হবে কে শ্রেষ্ঠ? সাবেলা নাকি জোয়াকিম লো। জার্মানি এবং আর্জেন্টিনা একটি ম্যাচেও হারেনি। আজকের ফাইনালের আগ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা গোল করেছে ৮টি, জার্মানির গোল ১৭টি। এরই মধ্যে রেকর্ডও হয়ে গেছে জার্মানির। বিশ্বকাপে ২২৩ গোল করে এগিয় আছে জার্মানরা। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে প্রথম সেমিফাইনালে ৭-১ গোলের জয়ে জার্মানরা কি ধরনের ফুটবল খেলেছে, এটা এখনো ব্রাজিলের ফুটবলামোদীরা বুঝতে পারছেন না। গতির সাথে ওয়ান টাচ ফুটবলের রসায়ন দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন জোয়াকিম লো। ওয়ান টাচের ফুটবলে কিভাবে চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যে গোল আদায় করা যায় সেটা দেখিয়েছেন জার্মানিকে টানা দুটি বিশ্বকাপে সামলানো এই কোচ। ফিলিপ লামকে ডান দিকে সরিয়ে নিয়ে নিজেদের শক্তিটা কিভাবে দ্বিগুণ করা যায় তাও সবাই দেখেছে। দুর্দান্ত খেলেছেন স্যামি খেদিরা, টমাস মুলার, ম্যাটস হামেলস, টনি ক্রুস, মিরোস্লাভ ক্লোসা, শোয়েন স্টাইগাররা। এরই মধ্যে ফিফার গোল্ডেন বুটের প্রাথমিক তালিকায় টনি ক্রুস, ফিলিপ লাম, হামেলস ও লামের নাম উঠে গেছে। খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সঠিক খেলাটা আদায় করতে আর্জেন্টাইন কোচ সাবেলাও কম যাচ্ছেন না। ইউরোপের পাওয়ার ফুটবলকে কিভাবে দমিয়ে দেয়া যায় সেটা দেখিয়েছেন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে। নেদারল্যান্ডসের রোবেন, ফন পার্সি, স্নেইডারকে রুখতে পারা সহজ কাজ নয়। খ্যাপা বাঘের মতো যারা বল নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর আক্রমণ করেন, তাদের অদম্য শক্তি আর গতিকে দারুণভাবে বশ মানিয়ে খেলেছেন হিগুয়েন, ম্যাশেরানো, ডেমিচেলিস, রোজো, পাবলো জাবালেটারা। মেসিনির্ভর সাবেলা দারুণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। মেসি নামের সোনার চাবিটা যেন ভেঙ্গে না যায় সেজন্য তাকে মাঠে রাখলেন খুব যত্ন করে। নিজেকে নিরাপদ রেখে কিভাবে খেলতে হবে সেটা আবার বুঝিয়ে দিলেন। কারণ চোখের সামনে নেইমারের করুণ চিত্রটা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। মেসি ঠিক থাকলো। ম্যাচ বাঁচলো। টাইব্রেকারে গিয়ে আর্জেন্টিনা নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালটা জিতে নিল ৪-২ গোলে। সাবেলা আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের হয়ে আট ম্যাচ খেলেছিলেন। তার জার্সিটা আছে। ৫৯ বয়সের এই মানুষটি জোয়াকিম লো’র তুলনায় একটু উপরে ভাবতেই পারেন। কারণ লো জার্মানির জাতীয় দলে খেলেননি, ক্লাব ফুটবলে ছিলেন জনপ্রিয়। তারপরও ৫৪ বছর বয়সের লো’ দারুণ জনপ্রিয়। বেলায় বেলায় বয়সটা কম না হলেও এখনও দেখতে খুব স্মার্ট এবং তারুণ্যে ভরা একজন মানুুষ। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জার্মানির সহকারী কোচ ছিলেন। ২০০৬ সালেই পুরো দায়িত্ব পান তিনি। খেলোয়াড়দের নিয়ে দীর্ঘদিন এক সাথে কাজ করে আসছেন। কার স্নায়ু কতটা শক্তিশালী, কাকে দিয়ে কতটা এগিয়ে যাওয়া যাবে। নাড়ি-নক্ষত্র তার সবাই জানা। অনেকেই বলেন জার্মানি হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে ভালো দল। ওদেরই চ্যাম্পিয়ন হওয়া উচিত। একক কোন খেলোয়াড় নির্ভর নয় দলটি। ব্রাজিলের কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারিও বলেছিলেন, ‘জার্মানির বর্তমান ফুটবল দলটা অনেক দিন এক সাথে খেলার কারণে টিম কম্বিনেশন ভালো।’ বিশ্বকাপ ফুটবলে জার্মানি সাতবার ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তিনবার (১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০)। আবার তাদের সামনে সুযোগ এসেছে। লো এখন জার্মান ফুটবলের স্বপ্নের মানুষ। রিও ডি জেনেরিওতে আসা জার্মানরা বিশ্বাস করেন জোয়াকিম লোই পারেন আরেকটা শিরোপা এনে দিতে। বর্ষীয়ান কোচ সাবেলার দিকেও তাকিয়ে আর্জেন্টাইনরা। ১৯৭৮ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন, চারবার ফাইনাল খেলা আর্জেন্টিনা ১৯৯০ ইতালী বিশ্বকাপের পর কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডিটাই পার হতে পারেনি। ২৪ বছরের খরা কেটেছে সাবেলার হাত ধরে। আজ ৬৪ নম্বর ম্যাচ, ফাইনালটা জিতে অবসর নিতে চান আলেসান্দ্রো সাবেলা।