শেষ দেখছেন সিজার

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৪, ১৯:৪৬
বিপর্যয়, হতাশা, কান্না — টানা দুই ম্যাচের লজ্জাজনক পারফরম্যান্স দিয়ে ব্রাজিল দলের প্রতীক হয়ে উঠেছে এই তিনটি শব্দ। এর এই পতনটা সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেছেন গোলরক্ষক হুলিও সিজার। গত দুই ম্যাচে তাকেই যে হজম করতে হয়েছে ১০টি গোল! বিশ্বকাপের যাত্রা শেষ হওয়ার পর তাই অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই হতাশ সিজার। জার্মানির কাছে সেমিফাইনালে ৭-১ গোলে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩-০ গোলে অসহায় আত্মসমর্পণ। হতাশাজনক বিশ্বকাপ দিয়েই সিজার নিজের ক্যারিয়ারের শেষ দেখতে পাচ্ছেন। গত শনিবার ব্রাসিলিয়ার গ্যারিঞ্চা স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমের কাছে এমনটাই আভাস দিলেন তিনি, ‘খুব সম্ভবত এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। আগামী বছরই কোপা আমেরিকা। কিন্তু ৩৫ বছর বয়স নিয়ে তাতে খেলা আমার জন্য বেশ কষ্টকর হবে। আর যেহেতু আমার ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ খেলার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনাও নেই, তাই ওখানে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করাটা স্বার্থপরের মত একটা ব্যাপার হবে।’ বিদায় বেলায় কি একটু কলঙ্কিত হয়ে গেল না হুলিও সিজারের এতোদিনের অর্জন। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল হজম করা দলের নামটি হল ব্রাজিল। আর সেলেচাওদের হয়ে প্রতিটি ম্যাচেই গোলপোস্টের সামনে ছিলেন এই সাবেক ইন্টার মিলান গোলরক্ষক। একটা সময় সিজার ব্রাজিলের তো বটেই ছিলেন বিশ্বেরই অন্যতম সেরা গোলরক্ষকদের একজন। ইন্টারমিলানে কাটিয়েছেন সাতটি বছর। পাঁচবার জিতেছিলেন স্কুডেট্টি। ২০০৯ ও ২০১০ সালে টানা দু’বার জিতেছিলেন সিরিএ’র সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার। ২০০৯ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়েও ছিলেন তিনি। জিতেছিলেন ইউরোপ সেরা গোলরক্ষকের খেতাব। সাবেক ইতালিয়ান ও ইন্টারমিলানের গোলরক্ষক জিয়ানলুকা পাগলিউকার মতেও সেই মুহূর্তে বিশ্বসেরাদের একজন ছিলেন সিজার। কিন্তু সবকিছু এলোমেলো করে দেয় কেবল একটি ম্যাচ। সদ্য ইন্টারের হয়ে ট্রেবল জয় করে এসেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। দ্বিতীয় পর্ব পর্যন্ত সবসময় ঠিকঠাক ছিল। গোল বাধলো কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে এসে। এই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেই। ওয়েন্সলি স্নেইডারের দু’গোলে নেলসন ম্যান্ডেলা স্টেডিয়াম দেখেছিল কমলা উত্সব। সেই থেকেই একটু-একটু করে ফুরিয়ে যেতে থাকেন সিজার। ২০১২ সালে চলে আসেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুর্বল দল কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সে। দল নেমে যায় দ্বিতীয় বিভাগে। সিজার দলের জন্য একরকম বোঝা হয়ে দাঁড়ান। ট্রান্সফার উইনডো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দল বদলানোর জন্য তাকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে এই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্লাব পর্যায়ে খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ। এখন আছেন মেজর লিগ সকারের ক্লাব টরেন্টো এফসিতে। হারিয়েই গিয়েছিলেন সিজার। তারপরও তার উপরই ভরসা রেখেছিলেন কোচ লুইস ফিলিপ স্কোলারি। অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোচের ভরসার প্রতিদান দিয়ে গেছেন তিনি। দ্বিতীয় পর্বে টাই-ব্রেকারে চিলির বিপক্ষে দুটি শট ঠেকিয়ে দিয়ে নায়ক হয়ে উঠেছিলেন। চার বছর আগের বিশ্বকাপের যন্ত্রণা মুছে দিয়েছিলেন। এবার আর দুঃখ ভোলানোর সুযোগ আসছে না তার। বিদায় বেলায় সেই কষ্টটাই যেন তার অন্তর ফেটে বের হয়ে আসতে চাইলো। ৮৬তম আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘এটা ব্রাজিল ফুটবলের জন্য খারাপ একটা সময়। সবকিছু ভুলে যেতে হবে। নতুন করে সব শুরু করতে হবে। অন্য গোলরক্ষক যারা আছেন তাদের আরও যোগ্য হয়ে উঠতে হবে। লড়াইটা এখন তরুণদের জন্যই।’