বিশ্বকাপে পাওয়া আত্মবিশ্বাস ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পক্ষেও বড় কিছু অর্জনে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন সদ্য বিদায়ী নেদারল্যান্ডস কোচ লুইস ফন গল। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের বিদায়ের পর ধুঁকতে থাকা ইউনাইটেডকে পুরনো কক্ষপথে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি এই ডাচ ধন্যবাদ জানিয়েছেন নেদারল্যান্ডস সমর্থকদেরও। গত শনিবার রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে জয় দিয়েই নেদারল্যান্ডসকে বিদায় জানিয়েছেন ফন গল।
গত আসরের শিরোপা জয়ী স্পেনকে বিধ্বস্ত করে টুর্নামেন্ট শুরু করা ডাচরা পুরো বিশ্বকাপেই খেলেছে দুর্দান্ত। আরিয়েন রোবেন, রবিন ফন পার্সিদের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স মন ভরিয়েছে সমর্থকদের। যদিও, শেষ পর্যন্ত বহু আকাঙ্ক্ষিত প্রথম শিরোপা ছোঁয়া হয়নি তাদের। টাইব্রেকার ভাগ্যে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে থমকে যেতে হয়েছে সেমিফাইনালেই। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক ব্রাজিলকে হারিয়ে তারা শেষবারের মতো প্রমাণ দিয়েছে নিজেদের শক্তিমত্তার।
কোস্টারিকার বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালসহ টুর্নামেন্টের বেশ কিছু খেলায় নিজের কৌশলগত দক্ষতার প্রমাণ দেয়া ফন গল, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে বদলী হিসাবে মাঠে নামায় অতিরিক্ত গোলরক্ষক মাইকেল ভ্রমকেও। যাতে নিশ্চিত হয়ে যায়, নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ দলের ২৩ জনই কোন না কোন সময়ে এই টুর্নামেন্টে মাঠে নেমেছেন। ফন গলের সন্তোষ ছিল এ নিয়েও, ‘এটা সত্যিই ভালো একটি অনুভূতি যে, আমরা ২৩ জন খেলোয়াড়কেই মাঠে নামাতে পেরেছি। খেলোয়াড়রা চাইছিল ভ্রমকে মূল একাদশে খেলাতে। কিন্ত আমি তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছিলাম এটা সম্ভব নয়। কারণ আমি সেরা একদশ নিয়েই মাঠে নামতে চেয়েছিলাম। ২-০ গোলে এগিয়ে যাবার পরে আমি তাকে নামানোর আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলাম।’
ম্যাচ শেষে ফন গল বললেন, এই দলের সবাই তার মনের মণিকোঠায় থাকবেন সারাজীবন। ৬২ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, ‘এই ২৩ জন সবসময়ই আমার হূদয়ে থাকবেন। তারা সত্যিই দুর্দান্ত। আমি আশা করবো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেও আমার দলটা এদের মতোই হবে।’
টুর্নামেন্টে ডাচদের পারফরম্যান্সই তাকে ইউনাইটেডের হয়ে বড় কিছু অর্জনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে জানিয়ে সাবেক আয়াক্স আমস্টারডাম কোচ বলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টে আমরা ১৫ টি গোলের বিপরীতে মাত্র চারটি গোল হজম করেছি। যার মধ্যে দুটি এসেছে পেনাল্টি থেকে এবং সেগুলো অন্যায্য ছিল। আমার মনে হয়, আমরা নিজেদের সফল ভাবতে পারি এবং এই দলটাকে নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত।’
এই বিশ্বকাপে ডাচদের খেলার স্টাইলও ভবিষ্যতে তাদের ভাল খেলতে উত্সাহিত করবেন বলেও জানান ফন গল।
এদিকে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে পরাজিত হবার পরে ফাইনালে না খেলার হতাশা কাটিয়ে যেভাবে দল ফিরে এসেছে তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ফন গাল বলেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। সবকিছুই আমাদের বিপক্ষে ছিল। ব্রাজিল আমাদের থেকে একদিন বেশি অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে। আমরা পেনাল্টিতে পরাজিত হয়ে মানসিক ভাবে দারুণ বিপর্যস্ত ছিলাম। আমরা ফাইনালে যেতে পারতাম। কিন্তু সেমিফাইনালে এভাবে পরাজিত হওয়ায় আমাদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেছিল। দলীয় মিটিংগুলোতে আমি শুধুমাত্র ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে কথা বলেছি, আর্জেন্টিনা নয়। সৌভাগ্যবশত:আবারো প্রমাণ করতে পেরেছি আমরা কতটা মানসম্পন্ন দল।’
গ্রুপ পর্বে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন, অস্ট্রেলিয়া এবং চিলিকে পরাজিত করে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল নেদারল্যান্ড। এরপর মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টিতে কোস্টারিকাকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে আর আর্জেন্টিনার সাথে পেরে উঠেনি বর্তমান রানার্স-আপরা।
