নিউ মার্কেট, চাঁদনি চক, গাউসিয়া ও ধানমন্ডি হকার্সে চলছে ঈদের জমজমাট কেনাকাটা। রাজধানীর এই চারটি মার্কেটে প্রথম রমজান থেকে শুরু করে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই মার্কেটগুলোতে থাকে ব্যাপক ভিড়। এ বছর রমাজানের প্রথম দিন থেকে দেখা গেছে লক্ষণীয় ভিড়। সকাল থেকে রাতপর্যন্ত বিক্রেতাদের ফুরসত্ মেলে না অন্য কাজে। ক্রেতাদেরও দেখা যায় এ মাকের্টগুলোকে ঘিরেই তাদের আনাগোনা বেশি।
নিউ মাকের্টে শপিং করতে এসেছেন রুবাইয়াত আফরোজ, তিনি বলেন, এই মার্কেটে আমরা ছেলেবেলা থেকে কেনাকাটা করছি। এখন ছেলে-মেয়েরাও এখানে আসে। তিনি বলেন, মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে একসঙ্গে সব পণ্যসামগ্রী পাওয়া যায় নিউ মার্কেটে, যার কারণে এখানে শপিং করতে আসতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তিনি বলেন, আমার ছোট মেয়ে থাকে লন্ডনে। তার জন্যে কিছু কেনাকাটা করবো আর কাজের মেয়ের জন্য কিছু কেনাকাটা আছে বলে জানান। তিনি বলেন, এবার ঈদবাজারে বেশি চলছে লিনেনের থ্রিপিস।
ধানমন্ডি থেকে চাঁদনি চক মার্কেটে থ্রিপিস কিনতে এসেছেন মিমি, বীনা ও জুথী। তারা বলেন, ওয়ানপিস জামার কাপড় পাওয়া যাচ্ছে, লনের ও লিনেনের। কাপড়ের মান খুবভালো; কিন্তু দামটা একটু বেশি। যেমন একপিস লিনেনের কাপড়ের দাম রাখছেন ৬০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। লনের থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। মিমি বলেন, এখানে কোন পণ্যের একদাম নেই। বিক্রেতারা যার কাছে যেমন পাচ্ছে, তার কাছ থেকে সেরকম ভাবে বিক্রি করছে। তাতে করে যারা দামাদামি করতে অভ্যস্ত না তারা অনেক সময় ঠকে যাচ্ছেন। তবে একদর হলে ভালো হতো বলে জানান তিনি।
ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে পাইকারি শাড়ির দোকানি রুহুল আমিন বলেন, এবার বেচাকেনা আগের মতো নয়। তিনি বলেন, সব জিনিসের দাম বেশি। আমরা ক্রেতাদের কাছে বেশি দাম নিতে গেলে কথা কাটাকাটি হয়। এদিকে আমরা সবকিছু হিসেব করে মিনিমাম লাভ ছাড়া তো বেচতে পারি না। যার কারণে আমাদেরও দাম চাইতে হয়। তিনি বলেন, সুতার খরচ, তাঁতির খরচ, দোকান ভাড়া সব মিলে পুরো মাসের খরচ তুলতে মাঝে মধ্যে হিমশিম খেতে হয়। অনেক মাসে লোকসান গুণতে হয়। তাই ব্যবসায়ীরা বসে থাকে ঈদের বেচাবিক্রির আশায়।
টিস্যু কাতান,বেনারসি কাতান, মিরপুরি কাতান, জুটকাতান, কোটা কাতান, সিল্ক কাতানসহ হাফসিল্ক, তসর, সুতি, জামদানি, সিল্ক জামদানি, কোটা জামদানি, এসব শাড়ি এখন চলছে বেশি বলে জানান আরাফাত সিদ্দিকি। তিনি বলেন, এবার গরমে ঈদ হওয়ায়, হাফসিল্ক, সুতির টাঙ্গাইল ও জামদানি শাড়ি চলছে বেশি। তবে রঙের মধ্যে নীল, নেভিব্লু, আকাশি, গোলাপী, রাল, হাল্কা বেগুনী, গাঢ় বেগুনি, কালো সবুজ এসব রঙ বেশি চলছে। তবে এ মার্কেটে বেশির সব শ্রেণীর ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষণীয়।
ধানমন্ডি হকার্সে শাড়ির পাশাপশি পাওয়া যায়, শিশুদের শার্ট, প্যান্ড, টি-শার্ট। ওই মার্কেটে আরো পাওয়া যায় মেয়েদের হাল ফ্যাশনের সব পোশাক। যেমন, ফতুয়া, জিন্স, টি-শার্ট, শার্ট। বাসায় পড়ার জন্য থ্রিকোয়াটার প্যান্ট, ট্রাউজার, ছেলেদের প্যান্ট, শার্ট ইত্যাদি। এসব পোশাক একদিকে যেমন খুব সস্তায় পাওয়া যায়, তেমনি এর কোয়ালিটিও থাকে ভালো। তবে একটু দেখে বুঝে এসব পোশাক কিনতে হয়।
গুলশান থেকে সানজিদা সুরমা এসেছেন ধানমন্ডি হকার্সে জিন্স প্যান্ট ও টপস কিনতে। তিনি বলেন, এখানে যে সব জিনিস পাওয়া যায়, তাই বড় বড় মার্কেটে আমরা অনেক দাম দিয়ে কিনি। যে টাকা দিয়ে একটি টপস বা জিন্স কিনি, সেই টাকা দিয়েই ধানমন্ডি হকার্সে কয়েকটি টপস ও জিন্স পাওয়া যায়। তাই এখানে আসা।
