আর্জেন্টিনা মিডফিল্ডার জাভিয়ের ম্যাশেরানো বলেছেন, ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ের হারটি নিয়েই তাকে বাকি জীবন কাটাতে হবে। রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত মারাকানায় গত রবিবার রাতে ১-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা। এই হারটির পর বার্সেলোনা মিডফিল্ডারটি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে এই হতাশা জীবনভর মনে থাকবে। কেননা এবার আমাদের সুযোগ ছিল।’
শুধু ফাইনালেই নয়, নক-আউট পর্বের চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই অতিরিক্ত সময় খেলতে হয়েছে কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার দলকে। তাছাড়া গত বুধবার সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারানোর পর ফাইনালের আগে বিশ্রামের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানির তুলনায় একদিন কম সময় পায় লিওনেল মেসির দল।
ম্যারিও গোটজে অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে যখন জার্মানির জয়সূচক গোলটি করেন সেই সময়ে আর্জেন্টিনা প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল বলেও জানান ম্যাশেরানো। ৩০ বছর বয়সী এ ফুটবলার বলেন, ‘এটা ব্যাখ্যা করা খুবই কঠিন। শেষ মিনিটে ম্যাচটি আমাদের হাত থেকে ফসকে গিয়েছিল। তবে আমরা সবকিছু দিয়েই চেষ্টা করেছিলাম; জিততে চেয়েছিলাম। শক্তি ফুরিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেরা সুযোগগুলো ছিল আমাদের।’
একেবারে কাছে এসেও বিশ্বকাপ জিততে না পারায় হতাশ ম্যাশেরানো। তিনি বলেন, ‘এই হতাশাটা অনেক বড়। আমরা আর্জেন্টিনায় বিশ্বকাপ ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলাম। আমরা এখন রিক্ত। আমাদের যা ছিল এর সবটুকুই দিয়ে দিয়েছিলাম। যেসব মানুষ এখানে এসেছেন এবং যারা আর্জেন্টিনায় অবস্থান করছেন তাদের জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। ফুটবলটা এমনই। আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে এবং এই বেদনা মোকাবেলা করতে হবে।’
গঞ্জালো হিগুয়াইনকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ার লাফিয়ে পা দিয়ে বিপজ্জনকভাবে রুখে দিলে পেনাল্টির দাবি তুলেছিল আর্জেন্টিনা। যদিও ইতালিয়ান রেফারি নিকোলা রিজ্জোলি তা অগ্রাহ্য করেন। খেলা শেষে রেফারির ভূমিকা নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি ম্যাশেরানো, ‘এগুলো ফুটবল খেলায় ঘটে থাকে। রেফারি আদৌ খেলাটিকে প্রভাবিত করেননি।’
ম্যাশেরানো ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেরা দশ খেলোয়াড়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তবে ২৪ বছর পর দলকে বিশ্বকাপ এনে দিতে পারলে আরো বেশি গর্ববোধ করতেন বলে জানালেন তিনি, ‘এটা খেলা। এখানে ব্যক্তির চেয়ে দলীয় পারফরম্যান্সটাই আসল ব্যাপার। যে রকম খেলার প্রয়োজন ছিল, তেমন প্রস্তুতিই আমরা নিয়েছিলাম। আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েই খেলেছি। তবে ফাইনালে আমাদের ভাগ্য তেমন সহায় ছিল না। ভাগ্যটা তাদের পক্ষেই ছিল।’
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দারুণ খেলছিলেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার মার্টিন ডেমিচেলিস। গোটজের গোলটির আগে গত পাঁচ ম্যাচে ৪৮৬ মিনিটে দলের গোল হজম না করার পেছনে অবদান রাখেন তিনি। ম্যানচেস্টার সিটির ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘এটা অনেক বড়, গভীর ও তীব্র বেদনা। আমি মনে করি এটা মাথা উঁচু করে হারার সমান ঘটনা। এটা হলো দুর্দান্ত চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে এটা একটি দুর্দান্ত খেলা। আমাদের ব্যর্থতা এই যে তারা শেষ আক্রমণটি থেকেই গোল করে ফেলে।’
এদিকে, আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর বিশ্বাস ফাইনালে হারলেও তারুণ্যসমৃদ্ধ দলটি নিয়ে আগামী বছর কোপা আমেরিকায় এবং চার বছর পর রাশিয়া বিশ্বকাপে ভাল করার আশা করতে পারেন তারা। তিনি বলেন, ‘ফুটবলে সবসময় প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ থাকে। আমরা যেসব বিষয়ে ভাল করেছি ও যে দিকগুলোয় খারাপ করেছি সেগুলোর উপর আবারও মনযোগ দেয়া দরকার যাতে ভালটির পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে। আর খারাপগুলোয় উন্নতি করতে পারি।’
