নতুন ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের টাকায় ভাগ বসিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে ৩ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যেকের কাছ থেকে রসিদের মাধ্যমে নেয়া হয়েছে ৪ হাজার টাকা। অনেকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেবারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বরগুনা সদর ইউএনও অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরগুনায় ৭১ জন মুক্তিযোদ্ধা নতুন করে ভাতার জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছেন। যাদের গত ১ বছরের টাকা বাবদ এককালীন ৩৬ হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে। বরগুনা সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তাদের টাকার দেবার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার কথা থাকলেও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কয়েকজন নেতা সহায়তা করার নামে ভাতার টাকায় ভাগ বসিয়েছেন।
বরগুনা সদর ইউএনও গোলাম মোহাম্মদ ভূইয়া জানান, প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার নামে বরগুনা সোনালী ব্যাংক কোর্ট ব্লিডিং শাখায় হিসাব নম্বর খুলে টাকা দেয়া হয়েছে। বরগুনা সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তাদের নামে পাস বই ইস্যু করা হয়েছে। পাস বইতে ইস্যু করে ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা নেয়ার কথা থাকলেও সমাজসেবা অফিস থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পাস বই দেয়া হয়নি।
সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের উচ্চমান সহকারী জামাল হোসেন জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে সদর উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার নুরুল ইসলাম সকলের পাস বই নিয়ে গেছেন। গত ৭ জুলাই থেকে মুক্তিযোদ্ধারা সোনালী ব্যাংক থেকে ভাতা নেয়া শুরু করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভাতা গ্রহণকারী একাধিক মুক্তিযোদ্ধা জানান, সোনালী ব্যাংকে যাবার পরে তাদের স্বাক্ষরে ৩৬ হাজার টাকা ওঠানো হয়। পরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব আবদুর রশিদ মিয়া, জেলা সংসদের সাংগঠনিক কমান্ডার বজলুর রশিদ দুলাল, জেলা সংসদের প্রকল্প ও সমবায় কমান্ডার শামসুল আলম ও সদর উপজেলার ডেপুটি কমান্ডার নুরুল ইসলাম তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে টাকা রেখে দিচ্ছেন। একজন ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার কাছে ৩টি রশিদ পাওয়া গেছে। যেখানে ঐ মুক্তিযোদ্ধার ভাতা থেকে জেলা কমান্ড কাউন্সিলের নামে ৩ হাজার টাকা, সদর উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের নামে ৫ শত টাকা ও নামবিহীন সমবায় সমিতির নামে ৫ শত টাকা রাখা হয়েছে।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব আবদুর রশিদ মিয়া সদর উপজেলা কমান্ড কাউন্সিল ও সমবায় সমিতির নামে এক হাজার টাকা নেবার কথা স্বীকার করলেও জেলা কমান্ডের নামে ৩ হাজার টাকা নেবার কথা স্বীকার করেননি।
সদর উপজেলা কমান্ডার মতিয়ার রহমান জানান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে টাকা রাখার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি টাকা রাখার ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আবদুস সালাম হাওলাদার জানান, ব্যাংক থেকে টাকা গ্রহণের পরে কেউ অন্য কাউকে টাকা দিলে তাদের করার কিছুই থাকে না। সদর ইউএনও গোলাম মোহাম্মদ ভুইয়া জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
