টানা দশ কার্যদিবস দর পতনের পর একদিন দর বাড়লেও গতকাল মঙ্গলবার ফের দরপতন হয়েছে শেয়ারবাজারে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ১৪ পয়েন্ট কমেছে। তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ১৪ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৩৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএস-৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১৯৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২৯২টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১২৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫টি কোম্পানির শেয়ারের। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫০ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৪২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৫ লাখ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২০০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৫টির, কমেছে ১০৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টি কোম্পানির শেয়ারের।
এদিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্জিন ঋণের নতুন অনুপাত চলতি মাস থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে কিছু অস্পষ্টতা তৈরি হওয়ায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো এ বিষয়গুলো স্পষ্ট করার আবেদন জানিয়েছে বিএসইসির কাছে। বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সম্প্রতি বিএসইসিতে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:০.৫ কার্যকর হয়েছে। এমতাবস্থায় যারা নতুন মার্জিন লোন নিবেন, তাদের জন্য এ অনুপাত কার্যকর হবে নাকি ইতিপূর্বে যাদের ঋণের অনুপাত ১:০.৫-এর চেয়ে বেশি রয়েছে তাদেরকেও সমন্বয় করতে হবে। যদি এই অনুপাত সব বিনিয়োগকারীর জন্য প্রযোজ্য হয়, তবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে ফোর্সড সেল করতে হবে। এছাড়াও মার্জিন ঋণের কিছু বিষয় স্পষ্ট করতে অনুরোধ জানিয়েছে বিএমবিএ।
প্রসঙ্গত, শেয়ারবাজারের নাজুক পরিস্থিতি ঠেকাতে ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মার্জিন লোনের বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। বিভিন্ন মেয়াদে মার্জিন লোনের অনুপাত কমিয়ে আনা হয়। বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:২; ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১:১.৫; ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১:১ এবং ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:০.৫-এর মধ্যে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়।
