ভেজাল ঘি তৈরির কারখানার সন্ধান

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৮
বার বার গ্রেফতার হলেও ভেজাল ঘি তৈরি করা ছাড়েননি পুরান ঢাকার বেগম বাজারের ষাটোর্ধ আব্দুস সামাদ এবং তার ছেলে সোহেল। এবারের ঈদকে টার্গেট করে ভেজাল ঘি তৈরির জন্য আরো বড় আয়োজন করে তারা। নিজেরাই ঘি তৈরি করেন, আর বিভিন্ন নামি দামি ব্রান্ডের কৌটায় ভরে পাঠান বাজারে। কিন্তু বিধি বাম। ব্যবসা জমে ওঠার আগেই র্যাবের মোবাইল কোর্ট অভিযান চালায় তাদের কারখানায়। এবার তারা মোবাইল কোর্টের আগমনের টের পেয়ে কারখানা ফেলেই চম্পট দেয়। মোবাইল কোর্টের পরিচালনাকারী র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচএম আনোয়ার পাশা জানান, ইতিপূর্বে একাধিকবার গ্রেফতারও হন এই বাপ-ছেলে। সর্বশেষ ২০১১ সালের ১২ জুলাই একই স্থান থেকে ঐ দু’জনকে একই অপরাধে আটক করে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। জেল থেকে বেরিয়ে এসেই আবারো ভেজাল ঘি তৈরি শুরু করেন তারা। র্যাব জানায়, গত সোমবার রাত একটা থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত বেগম বাজারের ৭০/২ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসময় তিন ড্রাম ভেজাল ঘি, নামি দামি ব্রান্ডের খালি কন্টেইনার, প্যাকিং মেশিন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে বাড়ির মালিক আব্দুস সামাদ (৬৩) এবং তার ছেলে সোহেলের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় মামলা করা হয়। অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন র্যাব-১০ এর মেজর শামীম আহমেদ ও মেজর সোহেল হাসান এবং বিএসটিআই’র প্রতিনিধি নিখিল চন্দ্র রায়। ভেজাল ঘি ঃ পাম ওয়েলের সঙ্গে ডালডা এবং রং মিশিয়ে তারা ভেজাল ঘি তৈরি করেন। ঘি কারখানার ফেলে দেয়া ছাকা দানা পাম ওয়েলে ভিজিয়ে রাখলে ঘি-এর হালকা ঘ্রাণ যুক্ত হয়। মিল্কভিটা, আড়ং, প্রাণ, রেডকাউ, বাঘাবাড়ি প্রভৃতির ব্যবহূত খালি টিনে ভেজাল ঘি রিফিল করা হয়। টিনের কৌটার ঢাকনার তলায় প্লাস্টিকের সিল থাকে। ব্যবহারের সময় তা ফুটো করা হয়। তাই রিফিল করতে কৌটার উপরের রিং তুলে ফেলে ভেজাল ঘি ভরে তার উপর প্লাস্টিক দিয়ে নতুন রিং লাগিয়ে দেয়। এই রিং লাগানোর জন্য সামাদ একটি প্যাকিং মেশিন ব্যবহার করে। প্লাস্টিকের উপর সত্যিকারের আসল ঘি অল্প পরিমাণে মেখে ঢাকনা লাগিয়ে দেয়। ক্রেতা সাধারণত ঘি কেনার সময় ঢাকনা খুলে গন্ধ পরীক্ষা করেন। তাই কৌটার মুখে প্লাস্টিকের সিলের উপর আসল ঘি’র প্রলেপ দিয়ে প্রতারণা করে আসছে তারা।