উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মেসিরা

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৪, ২১:৫২
বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানদের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে শিরোপা ছাড়া সোমবারই দেশে ফিরেছে আর্জেন্টিনা। ফাইনাল শেষে মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই দেশে ফেরার পরে লিওনেল মেসি বাহিনীকে দারুণভাবে বরণ করেছে হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক। এ সময় তাদের গায়ে ছিল জাতীয় দলের জার্সি এবং হাতে ছিল আকাশী-নীল-সাদা পতাকা। আর্জেন্টিনা দলকে বহকারী এ্যারোলাইন্স আর্জেন্টিনাস বিমানটি বুয়েন্স আয়ার্স বিমান বন্দরে অবতরণের সাথে সাথে স্থানীয় টেলিভিশনে তা সরাসরি সমপ্রচার করা হয়েছে। সারা বিমানবন্দর জুড়ে শুধু চোখে পড়েছে আকাশী নীল-সাদা পতাকা, এতে লেখা ছিল ‘ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা।’ এছাড়াও আরো হাজারো সমর্থক বিমানবন্দরের রাস্তার দুই পাশে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আকাশী-নীল ও সাদা পতাকা নেড়ে মেসিদেরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে।বিমানবন্দর থেকে তিনটি বাসে করে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দেরকে নির্দিষ্ট গন্তব্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ সময় সমর্থকদের ভীড়ে শম্বুকগতিতে চলতে দেখা গেছে গাড়ি তিনটিকে। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে ফাইনালে পৌঁছানোও ছিল আর্জেন্টাইনদের জন্য দারুণ প্রতীক্ষিত। তবে ফাইনালে হারের হতাশা কিছুটা হলেও এই কৃতিত্বে ম্ল¬ান হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া যথারীতি দেশের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির হাতে উঠেছে বিশ্ব আসরের সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা গোল্ডেন বল অ্যাওয়ার্ড। মেসিকে এ পুরস্কার দেয়ায় কিংবদন্তী ডিয়েগো ম্যারাডোনা সমালোচনা করলেও এ নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ছিল বাড়তি উত্তেজনা। আর্জেন্টাইন ফু্টবল অ্যাসোসিয়েশনে দেশের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ক্রিচনারের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মেসি বলেছেন, ‘এই ধরনের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ইচ্ছা ছিল শিরোপা নিয়ে ঘরে ফেরার এবং সকলের সাথে সেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবার। এ জন্য আমরা সবকিছুই দিয়েই চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শেষ পর্যন্ত তা হয়ে উঠেনি।’ ম্যাথিয়াস রুইস নামের ১৭ বছর বয়সী এক সমর্থক মেসির কথাই প্রতিধ্বনিত করে বলেছেন, ‘তারা তাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েছে। তাই তারা আমাদের এই সমর্থন পাওয়ার দাবিদার।’ আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনার পুরো অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দেননি। শুধুমাত্র দলের খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি গঞ্জালো হিগুয়েইন, লেভেজ্জি, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াদের সাথে কথা বলেছেন, তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এ সময় ফাইনালে হারের লজ্জায় মাথানত করে রাখা ইজেকুয়েল লেভেজ্জি এবং অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে কাছে ডেকে নিলেন আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্ট এবং তাদেরকে দলের সবচেয়ে সুদর্শন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাদের উদ্দেশ করে ক্রিশ্চনার মজা করে বলেছেন, ‘লেভেজ্জি এখানে এসো। তারা বলে তুমি নাকি দলের সেক্সের প্রতীক। ডি মারিয়া এখানে এসো। মেয়েরা তোমায় ডাকছে।’ বিশ্বকাপ জিততে না পারার হতাশার কথাই শোনালেন লেভেজ্জি, ‘আপনি যাই করেন না কেন, জনগণ এভাবে স্বীকৃতি দিলে অনেক ভাল লাগে। বিশ্বকাপটা জিততে পারলে অনেক ভাল হতো। কিন্তু এটা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি আমরা।’ এদিকে, রবিবার রাতে ফাইনালের পর বুয়েন্স আয়ার্সের আইকনিক স্মৃতিস্তম্ভ অরেলিস্কের নিচে প্রায় দশ হাজারের মতো ভক্তের সমাগম হয়। তিক্ত-মধুর অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শেষ হলেও পতাকা উড়িয়ে, আতশবাজি পুড়িয়ে এবং ট্রাফিক লাইটে চড়ে, বাস থামিয়ে নেচে-গেয়ে ব্যাপক উদযাপন করে ফুটবল পাগুলে দেশটির ফুটবল পাগুলে ভক্তরা। উদযাপনের কয়েকঘণ্টা পর কয়েক ডজন কিছু চরমপন্থি দর্শক ‘হুলিগান’ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়া শুরু করে। রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ছুঁড়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় লুটেরাদের ভয়ে রেস্টুরেন্ট এবং হোটেল লবিগুলোতে বাচ্চাদের নিয়ে আসা পরিবারগুলো হৈ চৈ শুরু করে দেয়। এ সহিংসতায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ প্রায় ১২০ জন সন্দেহভাজন হুলিগানকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় ১৫জন পুলিশসহ মোট ৭০ জন আহত হয়েছে বলে আর্জেন্টিনা সরকার সূত্রে জানা গেছে। এই সহিংসতা লা প্লাটা এবং ম্যার দেল প্লাতায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে সরকারের সূত্র নিশ্চিত করেছে।