আবারও হাজির অস্কারজয়ী কেট

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২০:০৯
‘টাইটানিক’খ্যাত অভিনেত্রী কেট উইন্সলেটের সিনেমা মানেই একটু ব্যতিক্রমধর্মী কিছু। পাশাপাশি প্রতিটা ছবিতে কিছু চমক উপহার দেওয়াটাও যেন তার নিত্য অভ্যাস। বরাবরের মতো আবারও এমন ব্যতিক্রমধর্মী ছবি ‘ডাইভারজেন্ট’ নিয়ে পর্দায় এলেন এ জনপ্রিয় অভিনেত্রী। জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম আবারও নতুনরূপে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন ‘টাইটানিক’খ্যাত অস্কারজয়ী অভিনেত্রী কেট উইন্সলেট। দর্শকরা ‘ডাইভারজেন্ট’ নামে নতুন একটি ছবিতে তাকে দেখতে পাবেন। লেখিকা ভেরোনিকা রথের বেস্ট সেলার উপন্যাস ‘ডাইভারজেন্ট’ অবলম্বনে ছবিটি তৈরি হয়েছে। ছবিতে ৩৭ বছর বয়সী কেটকে উপন্যাসের জেনিন মেথিউসের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। এ সিনেমা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উইন্সলেট বলেন, ‘আমার নতুন ছবিটি নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। এটা অনেক ভালো একটা গল্প। সামনে আমার মেয়ের বয়স ১৩ হবে এবং আমার ছেলের বয়স ১০ বছর। ভেরেনিকা রোথসের লেখা বইটি আমার সন্তানরা শিগগিরই পড়বে। তাদের জন্য আমি কাজটি করব।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার মেয়ে দুইদিন আগে স্কুল থেকে এসে জানায় তার ক্লাসের বন্ধুরা জানতে চেয়েছে আমি ডাইভারজেন্ট ছবিতে অভিনয় করছি কি না। আমি আমার মেয়ে চোখে মুখে আমার প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা দেখতে পেয়েছি। আমি সবসময় আমার সন্তানের কাছে এমনটিই আশা করি।’ উপন্যাসে ভেরোনিকা পাঁচ স্তরে বিভক্ত সমাজে একজন ব্যক্তির যাপিত জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। ভেরোনিকা রুথের ত্রয়ী উপন্যাস ‘ডাইভারজেন্ট’-এর প্রথম খণ্ড অবলম্বনে নির্মিত এ হলিউডি সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেট উইন্সলেট। জানা গেছে, একজন মানুষ কীভাবে বেঁচে থাকে তা নিয়েই গড়ে উঠেছে ‘ডাইভারজেন্ট’ উপন্যাসের কাহিনী। সামিট এন্টারটেইনমেন্ট স্টুডিও জানিয়েছে ৩৭ বছর বয়সী কেট সিনেমাটিতে জেনি ম্যাথিউজ নামের একজন শীতল চরিত্রের নারীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করলেন শাইলিন উডলি এবং নবাগত ব্রিটিশ অভিনেতা থিও জেমস। একজন ইংরেজ অভিনেত্রী এবং অনিয়মিত গায়িকা। নিজ পেশাজীবনে বিভিন্ন রকম চরিত্রে রূপদানের জন্য তিনি সুপরিচিত। বিশেষ করে কিছু চলচ্চিত্রে তার অভিনয়শৈলী সমালোচকদের দৃষ্টিতে সংবর্ধিত হয়েছিল। যেমন—‘সেন্স অ্যান্ড সেন্সসিবিলিটি’তে মারিয়ান ড্যাশউড, ‘টাইটানিক’ (১৯৯৭-এর চলচ্চিত্র)-এ রোজ ডুয়েটবুকেটর, ‘ইন্টারনাল সানশাইন অফ দ্য স্পটলেস মাইন্ড’-এ ক্লিমেনটাইন ক্রুজিনস্কি, ‘লিটল চিলড্রেন’-এ সারাহ পিয়ারস, ‘রেভ্যুলশনারি রোড’-এ এপ্রিল হুইলার এবং ‘দ্য রিডার’-এ হ্যানা শিমিটজ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। উইন্সলেটের জন্ম যুক্তরাজ্যের, বার্কশায়ারের রিডিংয়ে। তার মা স্যালি অ্যান (জন্মসূত্রে ব্রিজেস) ছিলেন পানশালার একজন পরিবেশনকারিণী এবং বাবা রজার জন উইন্সলেট সুইমিং পুল ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন। তার বাবা-মা দুজনই ছিলেন খুচরো অভিনেতা, এছাড়াও উইন্সলেট যেমনটি বলেন, ‘শিক্ষাদীক্ষার সুযোগসুবিধা খুব একটা পাওয়া যায়নি। তাদের অবস্থা ছিল অনেকটা ‘দিন আনি দিন খাই’-এর মতো। উইন্সলেটের নানা-নানী, লিন্ডা (জন্মসূত্রে প্লাম্ব) ও আর্চিবাল্ড অলিভার ব্রিজেস, রিডিং রির্পেটরি থিয়েটার নামে একটি নাট্যদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এটা তারাই চালাতেন। তার মামা রবার্ট ব্রিজেসকে ওয়েস্ট এন্ডের প্রযোজিত ‘অলিভার’ নাটকে দেখা গিয়েছিল। এবং তার দুই বোন, বেথ উইন্সলেট ও অ্যানা উইন্সলেট—দু’জনেই অভিনয়শিল্পী।