‘শুধু পাইরেসি নয়, গানের মান নিয়েও ভাবতে হবে’

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২০:০৯
যারা গান ভালোবাসেন, শুদ্ধ সংগীত ভালোবাসেন তাদের মনের খোরাক দীর্ঘদিন ধরেই পূরণ করে চলেছেন জনপ্রিয় এই গায়ক এবং সংগীত পরিচালক। তিনি বাপ্পা মজুমদার। রোজার ঈদ উপলক্ষে জিরোনা বাংলাদেশের ব্যানারে সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে শিল্পীর দশম একক অ্যালবাম ‘জানি না কোন মন্তরে’। অ্যালবামটি একই সঙ্গে ঢাকা ও কলকাতায় পাওয়া যাচ্ছে। নিজের নতুন অ্যালবামসহ সংগীত ও সংগীতাঙ্গনের সমকালীন নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বাপ্পা। সঙ্গে ছিলেন লিমন আহমেদ অনেকদিন পর কিন্তু গান নিয়ে বাজারে এলেন? হুমমম। আমার সর্বশেষ অ্যালবাম ছিল ‘বেঁচে থাক সবুজ’। সেটি বাজারে এসেছে সে প্রায় বছর দুই হয়ে গেল। অনেকদিন গ্যাপ পড়ে গেছে। তাই ভাবলাম আবার শ্রোতাদের মুখোমুখী হই। তারাই তো আমার সব কিছুর মূলে। বিরহের সুরটা কেটে দিলাম। অডিও শিল্পের এমন দুর্দিনে আরও একটি একক অ্যালবাম। সাহসেরই ব্যাপার বটে! তা আপনি কী ভাবছেন? দুঃসাহসিক ভাবনার আছে অনেক কিছুই, কিন্তু করার মানুষ কই? ইচ্ছেটাই বা কই? অবাক হয়ে দেখতে হয় দিনদিন গানের জগতটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। সত্যিই আমাদের চারপাশে সবকিছুতে দারুণ একটা টানাপড়েন চলছে। এরমধ্যেই সুর বাঁধি, গান গাই, মনের জ্বালা মিটে যায়। ভেতরের সব অনুভূতি কথা-সুরে প্রকাশ করি। তবুও অনেক কিছু অপ্রকাশিত থেকে যায়। তা থাকুক, যে ভালোবাসা পাব বলে বিশ্বাস করে অ্যালবাম নিয়ে হাজির হয়েছি, শ্রোতাদের কাছ থেকে সে ভালোবাসা ফেরত পেলেই আমি খুশি। গানটা তাদের জন্যই করি। শ্রোতাদের ভালোবাসার মাঝেই শিল্পী গান গেয়ে যাওয়ার তৃপ্তি খোঁজেন। তা এখন পর্যন্ত শ্রোতাদের ভালোবাসা কেমন পেলেন বলে মনে হচ্ছে? আসলে জানি না কোন মন্তরে অনেক আনন্দ-বেদনা আর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির অ্যালবাম। এখানে জীবনের নানা রং গড়িয়ে পড়েছে সুরের ক্যানভাসে। আমরা যারা এই গানগুলোর সাথে জড়িত, সবাই খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে অ্যালবামটি ভালো করবে। হলোও তাই। এটি সিডি আকারে বাজারে এসেছে মাত্র গতকাল। তবে তারও আগে থেকেই শ্রোতারা https://www.etunes.com.bd/preorder/ এবং http://www.bappamazumder.com ওয়েবসাইটে গানগুলো কিনার সুযোগ পেয়েছেন। সেখানে আমরা বেশ সাড়া পেয়েছি। এতদিনের বিরতি শেষে নতুন একক নিয়ে শ্রোতাদের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছি তাতে মুগ্ধ আমি! সামনের পথচলায় এই সাফল্য অনুপ্রাণিত করবে আমাকে। নতুন অ্যালবামের নামটা বেশ চমত্কার হয়েছে। এতে কারা কারা কাজ করেছেন? হ্যাঁ, অ্যালবামের নামকরণটা সত্যি সবার ভালো লাগছে। অ্যালবামটিতে মোট ১২টি ট্র্যাক রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি গান ও একটি যন্ত্রসংগীত। শিরোনাম গানটি রাসেল ও’নীলের লেখা। লোকজ আবহে খুবই চমত্কার একটা কাজ হয়েছে এটি। শ্রোতারাও বেশ পছন্দ করেছেন ‘জানি না কোন মন্তরে’ গানটিকে। আমারই সুর ও সংগীতে এ অ্যালবামের জন্য আরও গান লিখেছেন নিয়াজ আহমেদ অংশু, মাসুম, রানা, জয় শাহরিয়ার, রবিউল ইসলাম জীবন, শাহান কবন্ধ ও আবীর আলমগীর। এ ছাড়া প্রয়াত সঞ্জীব চৌধুরীর লেখা একটি গানও রয়েছে। গান লিখে ফেলেছি আমি নিজেও (হাহাহা)। আজকাল গানও লিখছেন তবে? আরে না, সে তেমন কিছু নয়। শখে শখে লেখা। কত চমত্কার সব গীতিকার আছেন আমাদের। তাদের দেখেই লেখার ইচ্ছে জাগে। প্রথম লিখেছিলাম ‘চাঁদের কণা’ শিরোনামের একটি গান। এর পর ‘বেঁচে থাক সবুজ’ অ্যালবামে ‘ঘুম আসে না’ গানটি লেখা হয়। আর সর্বশেষ লিখলাম ‘কি করি’। পাশাপাশি এ অ্যালবামের ‘বাবুই পাখি’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হয়েছে। শীঘ্রই টিভি চ্যানেলগুলোতে এর প্রচার শুরু হবে। এটি নির্মাণ করেছেন তানভীর খান। অডিও শিল্পের দুরবস্থার জন্য পাইরেসিকে কতটা দায়ী মনে করেন? এই যে আমার নতুন অ্যালবাম, এর একটা কপি পেলেই হলো। সেখান থেকে সব কপি হয়ে যাবে। টাকা দিয়ে কেউ আর অ্যালবাম কিনবে না। পাইরেসি পৃথিবীর সব দেশেই আছে। তবে আমাদের দেশের মহামারির মতো নয়। শ্রোতারাও সচেতন, কখনো তারা পাইরেটেড সিডি কেনেন না। শিল্পী এবং শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রায় সব দেশের শ্রোতাই আসল সিডি কেনেন। হলিউডে-বলিউডেও পাইরেসি আছে। তবুও তারা ব্যবসা করছে। তবে আমরা কেন পারছি না? আমাদের সমস্যাটা কোথায়? এখানে এই প্রশ্নের জবাবটা কেউ ভাবতে চাইছি না। কারণ এটা ভাবতে গেলে কিছুটা দায় নিজেদের ঘাড়ে এসে যায় তাই। অ্যাডেলে-শাকিরারাও গান করছেন গানের মান ও বৈচিত্র্য রেখে। শ্রোতারা তাদের অ্যালবাম কিনেই গান শুনছেন। কিন্তু আমাদের দেশে কয়টা মানসম্পন্ন বা বৈচিত্র্য নিয়ে গান গাওয়া হচ্ছে। শিল্পী অনেক কিন্তু সবার একই ধরন। বর্তমানে কোথাও কোনোরকম শিক্ষার প্রয়োজন পড়ছে না। আবার সিনিয়ররাও নিজেদের পরবর্তী জেনারেশন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই ইন্ডাস্ট্রির মন্দার কাটাতে শুধু পাইরেসি নয়, গানের মান নিয়েও ভাবতে হবে।