ঈদে এলে স্বাভাবিকভাবেই অভিনয়শিল্পীদের কাজের চাপ বেড়ে যায়। কারণ দেশের প্রতিটি চ্যানেলই তখন নাটক প্রচারে বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠে। অন্য অনেকের মতো ব্যস্ততা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বেড়ে যায় এই সময়ের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী শারমীন জোহা শশীরও। শশীর সঙ্গে শুটিং স্পটে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য যখন তাকে ফোন করি তিনি তখন সালাহ উদ্দিন লাভলু পরিচালিত ‘পায়েল’ টেলিফিল্মের শুটিংয়ে পূবাইলে। রাত প্রায় দশটার সময় পূবাইলে চটের আগা শুটিং স্পটে পৌঁছালাম। শুভেচ্ছা বিনিময়টা হলো শশীর সঙ্গে মুচকি হেসে ইশারায়। কারণ সেদিনই ছিল টেলিফিল্মটির শেষদিন। নাহ্, কোনোরকম সুযোগই পাইনি কথা বলার। পরিচালক সালাহ উদ্দিন লাভলু জান প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছেন খুব দ্রুত কাজ শেষ করে শিল্পীদের বিদায় দিতে। কারণ তার ইউনিটে যারা কাজ করছেন তাদের প্রত্যেকেরই পরেরদিন শুটিং আছে। যাইহোক ঘড়ির কাঁটায় যখন রাত ১১.৩০, ঠিক সে সময় শুটিং শেষ হলো। একই গাড়িতে চড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হলাম আমি, আমরা এবং আরও অনেকে। প্রশ্ন রাখি, খুব চাপ যাচ্ছে এবার, তাই না? জবাবে শশী খুব ঝটপট বলে উঠলেন, ‘নাহ্, তেমন চাপ না। আমি খুব বেশি চাপ নিয়ে কাজ করতে পাারি না। এই টেলিফিল্মেও কাজটি অনেকটা হঠাত্ করেই করা। কোনো সিডিউল ছিল না। সত্যি বলতে কী লাভলু ভাইয়ের কাজের প্রতি সবসময়ই আমার গভীর আগ্রহ থাকে। কারণ তিনি এত গুছিয়ে কাজ করেন যে তার সাথে কাজ করলে একজন শিল্পী অনেক কিছুই শিখতে পারেন। আমি মনে করি একজন শিল্পী যদি সত্যিকারের অভিনেত্রী হতে চান তাহলে বছরে দু’তিনটি নাটকে কাজ করা উচিত লাভলু ভাইয়ের নির্দেশনায়।’ আবার প্রশ্ন রাখি কেন বলুন তো? ‘কেনই বা নয়’, বললেন শশী। আবার শুরু করেন, ‘লাভলু ভাই মঞ্চে থেকে আসা একজন অভিনেতা, পরিচালক। তিনি বেশ ভালো করেই জানেন শিল্পীর কাছ থেকে কীভাবে অভিনয় বের করে আনতে হয়।’ টেলিফিল্মে তো আপনার সহশিল্পী মীর সাব্বির। কেমন লাগে তারসঙ্গে কাজ করতে? ‘ভীষণ ভালো লাগে। কারণ আমি মনে করি জাহিদ ভাই, সেলিম ভাই, হাকিম ভাইদের পর একমাত্র সাব্বির ভাই তেমন একজন অভিনেতা যার উপর নির্মাতারা যেকোনো চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্ভর করতে পারেন। আমি তার ভীষণ ভক্ত। একজন শিল্পীকে কীভাবে সম্মান দিয়ে কথা বলতে হয়, কীভাবে সহযোগিতা করতে হয়, তা তিনি বেশ ভালো জানেন, বুঝেন।’ শুনলাম চলতি বছরই বিয়ে করতে যাচ্ছেন! ‘যদি পাত্র পাই তাহলে চলতি বছর নয় চলতি সপ্তাহেই বিয়ে করব। আমার বাবা-মা-ভাই পাত্র দেখছেন, খুঁজছেন। মনেরমতো পেলেই বিয়ে করব। প্লিজ, সবাই দোয়া করবেন।’ আপনার জন্মদিন তো ৭ ডিসেম্বর। কী করেন এই দিনটিতে? ‘তেমন কিছুই করি না। আমার বন্ধু-বান্ধবদের সময় দিই। বাবা-মা আর আমার একমাত্র বড় ভাই সূর্য ভাইয়াকে সময় দিই। আমার পৃথিবীটা আসলে খুব বড় নয়। তবে ভালোবাসার পৃথিবীটা অনেক বড়। দর্শক আমাকে এত ভালোবাসেন তা আউটডোরে কোনো শুটিংয়ে গেলে মন থেকে অনুভব করতে পারি।’ ‘ওশান ব্লু’র শুটিংয়ের সময় নিশ্চয়ই টের পেয়েছিলেন? ‘হুম, ঠিক বলেছেন আপনি। এই নাটকের শুটিং ছিল কক্সবাজারে। সেখানে আমার ভক্ত দর্শকের প্রচণ্ড ভিড়ে শেষ পর্যন্ত ইনডোরে শুটিং করতে হয়। তবে ভক্ত দর্শকের ভালোবাসাকে আমি শ্রদ্ধা করি। তাদের কারণেই আমি শশী, অভিনেত্রী শশী। তারা ভালো না বাসলে ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ হয়তো হতো তবে এত ছন্দময়, কাব্যময় হতো না।’
