আমি যেন আকাশে উড়ছি

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২১:৩০
নায়কের নাম মারিও গোটজে। তার গোলেই ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে আনন্দের বন্যায় ভাসছে জার্মানি। ঘরে তুলেছে চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা। ফাইনালে জয় এনে দেয়া একমাত্র গোলের কারণেই বায়ার্ন মিউনিখের ২২ বছর বয়সী তারকা গোটজে এখন ব্রাজিল বিশ্বকাপের নায়ক। এই সাক্ষাত্কারে গোটসের বিশ্বকাপ জয়ের অভিব্যক্তিই প্রকাশ পেয়েছে— আপনার এখন কেমন লাগছে? গোটজে: সত্যি বলছি, মনে হচ্ছে যেন আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছি! আমরা এখন বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। আগামী চার বছর আমরাই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন থাকবো। মনে হচ্ছে এখন আমরা স্বপ্নের মধ্যে বসবাস করছি। বিশ্বকাপের ফাইনালে জয়সূচক গোল করবেন, এমনটা কী কখনো চিন্তা করেছিলেন? গোটজে: বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করা, এটা এমন কিছু যা আপনি কেবল স্বপ্নেই দেখতে পারেন। যখন বিশ্বকাপের দলে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল তখনই আমি অনেক শিহরিত বোধ করেছিলাম। বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া আমার কাছে স্বপ্ন ছিল এবং দলে জায়গা পাওয়ায় আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু ফাইনালে পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে নেমেই জয়সূচক গোল করা সত্যিই অবিশ্বাস্য! দক্ষিণ আমেরিকার মাটিতে প্রথম কোনো ইউরোপীয়ান দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জার্মানি। এটাও তো একটা বড় পাওয়া? গোটজে: হ্যাঁ, ফাইনালে পৌঁছানোর পর ব্যাপারটা নিয়ে আবারও আলোচনা করেছিলাম আমরা। ভেবেছিলাম, বিশ্বকাপ জিততে পারলে এখানে প্রথম ইউরোপীয়ান দল হিসেবে আমরাই বিশ্বকাপ জিতবো। অন্যদিকে ব্রাজিলই একমাত্র দক্ষিণ আমেরিকান দল যারা ইউরোপে বিশ্বকাপ জিতেছে। তাই ব্রাজিলে বিশ্বকাপ জিততে পারাটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া ছিল। তবে এটা নিশ্চিত যে, বিশ্বকাপ জয়ের চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কিছুই হতে পারে না। সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারানোটা কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? গোটজে: ম্যাচটিতে আমরা প্রায় কোনো ধরনের ভুল ছাড়াই যথাযথ ফুটবল খেলেছিলাম। একটি গোল হজম করাই ছিল আমাদের একমাত্র ভুল। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এমন ব্যবধানে ব্রাজিলের মাটিতে ব্রাজিলকে হারানো সত্যিই অবিশ্বাস্য! কিন্তু আমাদের মাথায় ফাইনালের চিন্তাটাই ছিল। দলের পক্ষ থেকেও আমাদের সবাইকে এটাই মনে করিয়ে দেয়া হয়েছিল। ফাইনালের আগে ড্রেসিং রুমে কেমন অবস্থা ছিল? গোটজে: আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম এবং মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। আর্জেন্টিনা কেমন খেলে এবং তারা কতটুকু ভয়াবহ হতে পারে এটা আমরা সবাই জানতাম। তারা কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতেছি—এটাই আসল ব্যাপার। পুরো আসর জুড়েই আমরা সবচেয়ে সেরা দল ছিলাম এবং আমরাই এই বিশ্বকাপের যোগ্য দল। আপনি কিন্তু জার্মানির প্লেইং একাদশে নিয়মিত ছিলেন না গোটজে: সব ম্যাচ খেলতে প্রত্যেকেই চায়। কিন্তু এটা সবসময় সম্ভব হয় না। কোচের সিদ্ধান্তকেই আমরা সবসময় সঠিক মনে করি। বায়ার্নের হয়ে যখন খেলতাম তখনও এ অবস্থার সম্মুখীন হতে হতো। বিশ্বকাপে আমি নিয়মিতভাবে খেলিনি। তারপরও আমি আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তাছাড়া আমার প্রতি আমার পরিবারসহ সবার সমর্থন ছিল। সবসময় তারা আমার পাশে ছিল। ধন্যবাদ দিলে তাদেরকে বরং খাটোই করা হবে। পরবর্তী লক্ষ্য কী? গোটজে: এটা উদযাপনের সময়! আমরা এখন তাই করছি। আরও কিছুদিন আমরা এমনটাই করবো। এরপর আমরা আবারো অনুশীলনের কঠিন রুটিনে ফিরে যাবো। এর আগ পর্যন্ত আমরা এই বিজয় উদযান করবো। বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতি উপভোগ করবো।