অনুবাদ :ফজল হাসান
শহরে লোকজন পারাপার করার জন্য লি-র নৌকা নদীর ঘাটে বাঁধা আছে।
এই সময়ে পাহাড়ের চূড়া বেয়ে ভরা পূর্ণিমার নিটোল গোল চাঁদ অলস ভঙ্গিতে ক্রমশ ওপরে উঠে আসছে এবং আস্তে আস্তে চাঁদের স্নিগ্ধ নরম আলো ছড়িয়ে পড়ছে নদীর ধারে এবং প্রবাহিত পানির ওপর। পাহাড়ের পাদদেশে নদীটা খুবই সরু। টলটলে পানির ওপর চাঁদের আলো ভেসে বেড়াচ্ছে এবং বেশ শান্তভাবেই নদীটা বয়ে যাচ্ছে। মনে হয় পাহাড়ি এই সরু নদীটা যেন ইয়াংসি নদীতে বিলীন হতে চায়। যদিও প্রতি মুহূর্তে চাঁদের আলোয় অন্ধকার মুছে যাচ্ছে, কিন্তু চারদিকে এখনো হালকা অন্ধকারের চাদর বিছানো। পাহাড়-পর্বত, গাছপালা, নদী-নালা, মাঠ-ঘাট এবং ঘর-বাড়ি সবই আধো অন্ধকারে ঢেকে আছে। তাই চাঁদের নরম আলো এখনো চারপাশের অন্ধকারকে পুরোপুরি সরিয়ে দিতে পারেনি।
নদীর ধারে একটা পাথরের ঘাট রয়েছে এবং সেই ঘাটে লি-র নৌকা বাঁধা আছে। নৌকার চারপাশে ঘন হয়ে অসংখ্য শাপলা ফুল ফুটে আছে। গাঢ় বেগুনি রঙের অনেক ফুল পূর্ণ বিকশিত। ঢেউয়ের তালে তালে ভাসমান শাপলা পাতাগুলো যেন নৌকাটাকে সামনের দিকে ঠেলছে।
নৌকার ভেতর একটা তেলের বাতি অস্পষ্ট আলোয় টিমটিম করে জ্বলছে। দূর থেকে দেখে মনে হয় পানির ওপর নিস্তরঙ্গ একটা নৌকা আবছা অন্ধকারে ঘাপটি মেরে আছে। কোথাও কোনো সাড়া-শব্দ নেই, যেন একটা বিরান ভূমি। তবে নৌকার ভেতরে মানুষ আছে।
শুকনো পাতার ছইয়ের ভেতর দুজন যাত্রী নৌকায় শুয়ে আছে। নৌকার গলুইয়ে বসে একটা ছোট ছেলে ঝিমুচ্ছে। নৌকার চালক লি পেছনে বসে নিবিড় মনে সিগারেট টানছে। কারোর মুখে কোনো কথা নেই। নিস্তব্ধতা দেখে মনে হয় যেন সবার সব কথা ইতিমধ্যে বলা হয়ে গেছে এবং নতুন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে আলাপ চালিয়ে যাওয়া যায়। সময় সম্পর্কে সবারই স্পষ্ট ধারণা আছে। যাত্রীরা সবাই নিয়মিত যাতায়াত করে। প্রত্যেকদিন সন্ধ্যেবেলা নৌকা নিয়ে লি শহরে যায় এবং পরদিন ভোরে ফিরে আসে। কদাচিত্ এট চিরাচরিত নিয়মের হেরফের হয়। নিয়মিত যাত্রীরা নৌকায় চড়ে সপ্তাহে কয়েকবার শহরে যায় এবং প্রতিবার একই সময়ে ফিরে আসে। বেশির ভাগ সময় তারা আলতুফালতু কথা না বলে নৌকার ভেতর ঘুমায় এবং নৌকা শহরের ঘাটে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা জেগে ওঠে। কখনো তারা বড় শহরে যায় এবং অন্য সময় ছোট জাহাজে করে প্রাদেশিক রাজধানীতে যায়। আজ রাতের সবচেয়ে কম বয়সী যাত্রীটি গ্রামের এক স্কুলের শিক্ষক। শহরে তার বাসা। তাই সে প্রতি শনিবার শহরে যায়। এছাড়া শহরের এক দোকানের বুড়ো কেরানির বাড়ি গ্রামে। কিন্তু তার মনিব তাকে প্রায়ই বিশেষ কাজের জন্য প্রাদেশিক রাজধানীতে পাঠায়।
নৌকার গলুইয়ে বসা ছোট ছেলেটির এলোমেলো চুলের ওপর চাঁদের নরম আলো এসে বিলি কেটে দিচ্ছে। সেদিকে ছেলেটার কোনো খেয়াল নেই। সে শুধু মন্থরগতিতে এপাশ-ওপাশ মাথা দোলাচ্ছে। ভীষণ ক্লান্তিতে তার পারদের মতো ভারী চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আছে। মাঝেমধ্যে ছেলেটি আচমকা চোখ খোলে এবং তির্যক দৃষ্টিতে নদীর পাড়ের দিকে কিংবা পানির দিকে তাকায়। যখন দেখে সবকিছুই স্বাভাবিক, তখন সে আপনমনে বিড়বিড় করে এবং পুনরায় চোখের পাতা বন্ধ করে।
‘অদ্ভুত! জেনসেঙ কেন এখনো আসেনি?’ ছইয়ের ভেতর স্কুল-শিক্ষক গড়াগড়ি করার সময় নিচু গলায় জিজ্ঞেস করে। তারপর সে মাথাটা সামান্য তুলে গলুইয়ের দিকে তাকায়।
চারপাশ সুনসান। কোথাও কোনো শব্দ নেই, কোনো বাতিও নেই। এমনকি নদীর তীরের উপাসনালয়ে কোনো আলো নেই। মনে হয় প্রকৃতি যেন গভীর ঘুমে নিমগ্ন। শুধু রাস্তার ওপর এসে চাঁদের আলো লুটোপুটি খাচ্ছে। কারোর কোনো পায়ের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না। তবে স্কুল-শিক্ষকের মাথার কাছে পানির ওপর অসংখ্য বেগুনি রঙের শাপলা ফুল ফুটে আছে।
স্কুল-শিক্ষক মাথা সরিয়ে এনে পুনরায় শোয়। ওয়াং সেঙ, দোকানের বুড়ো কেরানি, রীতিমতো চিত্কার করে বলল, ‘লি, তুমি কি জানো এখন ক’টা বাজে? নৌকা কেন ছাড়ছ না?’
‘জেনসেঙ এখনো আসেনি। এছাড়া নৌকা ছাড়ার সময় হয়নি। আপনার তাড়া কিসের?’ নৌকার পেছন থেকে লি পাল্টা প্রশ্ন করে।
‘সব সময় সে সাতটায় আসে। কিন্তু আজ...’ মাঝখানে স্কুল-শিক্ষক ফোঁড়ন কাটে। তারপর সে পাশের ছোট্ট জানালা খোলে এবং হাতের ঘড়িতে সময় দেখে। স্বগোক্তির মতো করে সে বলল, ‘এখন সাতটা বেজে চল্লিশ মিনিট। আজ সে আর আসবে না।’
‘হ্যাঁ, আসবে। অবশ্যই সে আসবে। কেননা তাকে শহরে কিছু জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে যেতে হবে,’ নৌকার মাঝি লি জোর গলায় বলল। একটু থেমে সে আরো বলল, ‘মিস্টার জুন, চিন্তা করবেন না। মিস্টার ওয়াং, আপনি একজন বয়স্ক যাত্রী। আপনি জানেন, তার সঙ্গে আমার প্রতিদিন দেখা হয় এবং আজ অবধি আমি কখনো তাকে ফেলে রেখে যাইনি।’
স্কুল-শিক্ষক মিস্টার জুন বলল, ‘কখনোই জেনসেঙের দেরি হয়নি। সব সময় সে সবার আগে চলে আসে। অথচ আজ সে আমাদের অপেক্ষা করিয়ে রেখেছে।’
‘হয়তো কোনো বিশেষ কারণে আজ দেরি হচ্ছে,’ ডান পা বাম পায়ের ওপর রেখে মন্তব্যের সুরে দোকানের কেরানি ওয়াং সেঙ বলল।
‘তা হতে পারে না। আমি তাকে চিনি। সে কোনো মাদকসেবন করে না এবং মদও খায় না। তার দেরির কোনো কারণ দেখছি না। শীঘ্রই সে এসে পড়বে।’ ধীরগতিতে মাঝি নৌকার কিনার ঘেঁষে গলুইয়ের কাছে যায় এবং আস্তে করে সে ডাকে, ‘লিন।’ যে ছেলেটি ওখানে ওপর বসে ঝিমোচ্ছিল, লি-র ডাকে তত্ক্ষণাত্ সে চোখ মেলে তাকায়।
ছেলেটির দিকে একপলক তাকিয়ে লি পাথরের জেটির ওপর দাঁড়ায়। তারপর নদীর তীর ঘেঁষে কয়েক কদম এগিয়ে যায়, কিন্তু পুনরায় সে ফিরে আসে। তার সামনে বিশাল আকাশের গায়ে ভরা চাঁদ ঝুলে আছে। শীতল পানির মতো চাঁদের রুপালি আলো যেন তার মাথাটা ধুয়ে পুনরায় সজীব করে তোলে।
উপাসনালয়ের পাশের বটবৃক্ষের ভেতর থেকে একটা কালো মূর্তির ছায়া বেরিয়ে আসে।
‘জেনসেঙ আসছে,’ আপনমনে লি বলল। এবার সে আদেশের সুরে ছেলেটিকে বলল, ‘তৈরি হও।’ সঙ্গে সঙ্গে সুর পাল্টিয়ে সে আরো বলল, ‘জেনসেঙ এলেই আমরা যাত্রা শুরু করব।’
বিড়বিড় করে ছেলেটি কিছু বলল। তারপর সে লগির এক মাথা পানিতে ডুবিয়ে খানিকটা জোরে ঠেলা দেয় এবং জেটির আরো কাছাকাছি নৌকা নিয়ে আসে।
পাথরের জেটির ওপর লি দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধকার ফুঁড়ে ছায়ামানুষটা ক্রমশ এগিয়ে আসছে। লি দেখে ছোট বাঁশের ঝুড়ি মাথায় নিয়ে একটা বেঁটে লোক তার দিকেই আসছে। লোকটা গেনসেঙ নয়। তার নাম চ্যাং। সে গ্রামের ছোট একটা মুদি দোকানের মালিক। সেও আজ রাতে শহরে যাচ্ছে।
‘তাহলে এখনো তুমি যাওনি?’ চ্যাং জেটির ওপর উঠে হাসিমুখে লি-র দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে।
‘তুমি সঠিক সময়ে এসেছ। আমরা গেনসেঙের জন্য অপেক্ষা করছি।’ লি-র কণ্ঠস্বরে একধরনের উত্কণ্ঠার চিহ্ন ফুটে ওঠে।
‘এখন রাত আটটা বাজে। আজ সে আর আসবে না,’ ছইয়ের ভেতর বসে স্কুল-শিক্ষক অধৈর্য হয়ে প্রায় চিত্কার করে বলল।
‘এটা খুবই অস্বাভাবিক যে সে এখনো আসেনি। সাধারণত সে আগেভাগে চলে আসে।’
বলেই চ্যাং নৌকায় ওঠে। সে ঝুড়িটা মাথা থেকে নামিয়ে একপাশে রেখে পাটাতনের ওপর বসে এবং পকেট থেকে বের করে একটা সিগারেট ধরায়। তারপর নিবিড় মনে জ্যোত্স্না মাখা চাঁদের দিকে মুখ করে আয়েশের সঙ্গে সিগারেট টানতে থাকে।
‘আজ রাতে জেনসেঙের জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। হয়তো সে কোথাও ঘাঁপটি মেরে আছে। নিশ্চয়ই সবার জানতে ইচ্ছে করছে যে সে আসলে কোথায়,’ স্বাভাবিক গলায় লি বলল।
‘তাহলে বলতে চাও, সে এখনো আসেনি?’ উদ্বিগ্ন এক মহিলা সরাসরি জিজ্ঞেস করে।
‘এমনকি তার অশরীরী ছায়াটাও আসেনি।’
‘আমার সঙ্গে মশকরা করছ, তাই না? আমি কিন্তু ভীষণ উত্কণ্ঠিত।’ মহিলার কণ্ঠে রীতিমতো হতাশার সুর বেজে ওঠে।
‘কে মশকরা করছে? আমার মোটেও সময় নেই। আমি শুধু জানতে চাই তোমার স্বামী কি এই নৌকা নিয়ে আদৌ শহরে যাবে, নাকি যাবে না,’ লির কণ্ঠস্বর বেশ গম্ভীর শোনাল।
মহিলা আর্তচিত্কার করে ঘুরে দাঁড়ায় এবং দৌড়ে চলে যায়।
‘এই থামো, থামো,’ লি পেছন থেকে তারস্বরে ডাকে।
নদীর পাড় ঘেঁষে মহিলা দৌড়াতে থাকে। হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে সে তার স্বামী জেনসেঙের নাম ধরে ডাকতে থাকে।
মহিলার কান্না লি-কে রীতিমতো বিব্রত করে তোলে। কাঠের মূর্তির মতো সে জেটিতে দাঁড়িয়ে থাকে।
‘কী হয়েছে?’ একসঙ্গে তিন জন যাত্রী জিজ্ঞেস করে। চ্যাং স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। একনজর দেখার জন্য দোকানের কেরানি হামাগুড়ি দিয়ে কেবিনের এক পাশে সরে আসে। স্কুল-শিক্ষক পুনরায় ছাউনির ছোট জানালা খুলে মাথা বের করে।
‘শুধু শয়তানই জানে,’ মুখ ঘুরিয়ে অসন্তোষ গলায় লি বিড়বিড় করে বলল।
‘হয়তো স্বামী ও স্ত্রী ঝগড়া করেছে এবং জেনসেঙ অভিমান করে স্ত্রীকে ফেলে চলে গেছে। নিশ্চয়ই বিষয়টা এ ধরনের,’ অনুমান করে চ্যাং বলল। ‘এবং লোকেরা বলে যে স্বামীর ভাগ্যই সুখের উত্স। হা-হা।’ বলেই সে সিগারেটের শেষাংশটুকু টুসকি মেরে পানিতে নিক্ষেপ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে এক দলা থুতু ফেলে। তারপর পুনরায় সে শব্দ করে হেসে ওঠে।
‘জেনসেঙ কখনোই স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে না। নিশ্চয়ই অন্য কিছু হয়েছে। আমি নিশ্চিত,’ যদিও জোর গলায় লি বলল, কিন্তু তার মন কেমন যেন আনচান করছিল। তাহলে কী ঘটনা ঘটতে পারে?
‘জেনসেঙ, জেনসেঙ!’ মহিলার তীব্র আর্তনাদের শব্দ নিস্তব্ধ রাতের আকাশ ফুঁড়ে দূরে কোনো অচিন গাঁয়ে ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে। একটা আর্তনাদ পরবর্তী আর্তনাদের চেয়ে আরো বেশি করুণ এবং মর্মস্পর্শী, যেন হতাশায় থিরথির করে কাঁপছিল।
‘লি, এখন তাহলে কী করবে?’ ছইয়ের নিচে মাচার ওপর একপাশে গড়িয়ে এসে স্কুল-শিক্ষক জিজ্ঞেস করে এবং সে ছোট জানালা বন্ধ করে। কেউ তার প্রশ্নের জবাব দেওয়ার তাগিদ অনুভব করল না।
‘চলো, আমরা রওনা হই,’ অধৈর্য হয়ে দোকানের কেরানি তাড়া দেয়। পাছে তার ভয় হচ্ছিল, সে হয়তো আঞ্চলিক এলাকায় যাওয়ার ছোট স্টিমার ধরতে পারবে না।
লি তখনো মহিলার কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছে এবং প্রতি মুহূর্তেই সে বিরক্ত হচ্ছে। যাত্রীদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার বদলে সে জেটিতে মূর্তির মতো স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে মহিলার ডাক শুনছে। মহিলা তারস্বরে তার স্বামীকে ডাকছে।
‘এভাবে হবে না,’ হঠাত্ লি আপনমনে বলল। ‘মহিলা নির্ঘাত পাগল হয়ে গেছে,’ পুনরায় স্বগোক্তির মতো করে বলেই সে জেটি থেকে লাফ দিয়ে নেমে দৌড়াতে শুরু করে।
যে ছেলেটা নৌকার গলুইয়ের ওপর বসে ঝিমোচ্ছিল, সে-ও তত্ক্ষণাত্ নৌকা থেকে লাফ দিয়ে লি-র পেছনে পেছনে নেমে দৌড়াতে থাকে। ‘বাবা, তুমি কোথায় যাচ্ছো?’
পেছন থেকে ছেলের ডাক শুনেও লি কোনো সাড়া না দিয়ে আগের মতোই দৌড়াতে থাকে। একসময় ছেলেটির কণ্ঠস্বর চারপাশের বাতাসে মিলিয়ে যায়। বরং সেই সময় মহিলার আর্তনাদ খোলা হাওয়ায় অনুরণিত হচ্ছিল। চন্দ্রিমায় একের পর এক কান্নার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে বাতাসের গায়ে। হূদয় বিদারক সেই কান্নার কোনো শেষ নেই। মনে হয় একটা জীবন যেন শেষ হয়ে গেছে এবং সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙে চূরমার হয়ে গেছে।
মেঠো পথ ধরে তিন জন দৌড়াতে থাকে। মহিলা, নৌকার মাঝি লি এবং ছেলেটি—মনে হয় যেন একজন আরেকজনকে পেছন থেকে ধাওয়া করছে। একসময় হুট করে ছেলেটি থেমে যায় এবং অবশেষে সে ফিরে আসে।
তখনো নৌকাটি ঘাটে বাঁধা আছে। তিন জন যাত্রী নৌকায় উঠে সামনের দিকে বসে। অনুসন্ধিত্সু হয়ে তারা জেনসেঙের প্রসঙ্গ তোলে। কিন্তু তাদের কথাবার্তার পুরোটাই ধারণা। প্রত্যেকেই নিজ নিজ চিন্তাকে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং কথার সঙ্গে কল্পনার রঙ মিশিয়ে পরিবেশটাকে তারা আরো বেশি প্রাণবন্ত করে তোলে।
মহিলার মর্মস্পর্শী কান্নার রেশ ক্রমশ ফিকে হয়ে আসে এবং একসময় তা থেমে যায়। লি মহিলাকে একটা গাছের নিচে নাগাল পায়। প্রচণ্ড ক্লান্তি আর অবসাদে মহিলা গাছের গুড়ির সঙ্গে হেলান দিয়ে বসেছিল। তার মাথার চুল এলোমেলো, অশ্রুর শুকনো দাগ লেগে আছে গালে এবং সে সামনের দিকে ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মাঝে মাঝে হেঁচকি তুলে হালকা স্বরে কাঁদছে। মহিলাকে দেখে মনে হয় গাছের নিচে আস্ত একটা ভূত বসে আছে।
‘আপনার কী হয়েছে? মাথা খারাপ হয়েছে? সমস্যা কী? নির্দ্বিধায় আমাকে খুলে বলুন,’ মহিলার হাত চেপে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে প্রায় চিত্কারের মতো করে লি বলল।
জেনসেঙের স্ত্রী কান্না থামিয়ে মাথা তুলে ফ্যালফ্যাল করে এমন ভঙ্গিতে তাকায়, যেন সে লি-কে চিনতে পারেনি। বেশ কিছুক্ষণ অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থেকে সে আবার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলল, ‘জেনসেঙ, জেনসেঙ ...’
‘জেনসেঙের কী হয়েছে? কথা বলুন,’ লি রীতিমতো জোরাজুরি করে।
‘জানি না,’ অনিশ্চয়তার সুরে মহিলা জবাব দেয়।
‘ছি!’ বলেই লি রীতিমতো বিরক্তির সঙ্গে মাটিতে এক চিমটি থুতু ফেলে। ‘আপনি জানেন না। তাহলে অযথা কেন এমন করে কাঁদছেন? আসলে আপনি একটা আস্ত পাগল।’
‘ওরা হয়তো তাকে গ্রেফতার করেছে। নিশ্চয় ওরা গ্রেফতার করেছে।’ বলেই মহিলা চোখেমুখে একধরনের ভয় এবং আতঙ্কের চিহ্ন ফুটিয়ে পুনরায় ভীষণ জোরে চিত্কার করে ওঠে।
‘তাকে গ্রেফতার করেছে? কারা করেছে? একটু আগে আপনি বললেন, কেউ গ্রেফতার করেছে?’ ভীষণ ভয় পেয়ে লি প্রায় এক নিঃশ্বাসে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করে। তার বুকের ধুকপুকানির শব্দ আরো বেশি দ্রুত হয়। জেনসেঙ তার বন্ধু। মনে মনে লি ভাবে, জেনসেঙ একজন নির্ভেজাল মানুষ। কে এবং কেন তাকে গ্রেফতার করবে।
‘নিশ্চয়ই এটা তাং সিফানের কাজ,’ কাঁদতে কাঁদতে মহিলা বলল। অল্প একটু পরেই সে কান্না থামিয়ে পুনরায় বলল, ‘গতকাল জেনসেঙ বলেছে যে তার সঙ্গে ডাকাতদের সম্পৃক্ততার কথা জানানোর জন্য তাং ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়েছিল। আমি বিশ্বাস করিনি। কিন্তু আজ বিকেলে সে যখন বাইরে গিয়েছে, তখন কয়েকজন লোক পেছন থেকে তাকে অনুসরণ করেছে। লোকগুলোর সঙ্গে একজন গুপ্তচরও ছিল। সেই থেকে জেনসেঙ বাড়ি ফিরেনি, এমনকি তার কোনো হদিসও নেই। আমি নিশ্চিত যে ওরাই তাকে গ্রেফতার করেছে।’
‘সেই বুড়ো তাং একটা আস্ত শয়তান। অন্যের কাছ থেকে সে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে। কিন্তু জেনসেঙের বিরুদ্ধে তার কী আক্রোশ? নিশ্চয়ই আপনি কোথাও ভুল করছেন। তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া কি আপনি নিজের চোখে দেখেছেন?’ লি মহিলাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে। এক মুহূর্ত আগে তার কণ্ঠস্বর যেমন কর্কশ এবং উত্তেজিত ছিল, এখন আর কণ্ঠস্বরে সেরকম ঝাঁঝ নেই। অনেকটা থিতিয়ে এসেছে।
‘ভুল? শুধু আপনি বিশ্বাস করেন না বলেই কি ভুল! তাং শহরের প্রধান কর্মকর্তার পদটি হারিয়েছে এবং বর্তমানে সে প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে আছে। মিস্টার ই-কে খুন করার জন্য সে একজন লোককে পাঠিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে মিস্টার ই-কে খুন করতে পারেনি, বরং তার ফ্রধান কর্মকর্তার পদটি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার জন্য জেনসেঙ এবং মিস্টার ই-র ভাই মিলে কৃষকদের নিয়ে একটা দল গঠন করেছে। অই শয়তানের বিরুদ্ধে কোনো কিছু না করার জন্য আমি জেনসেঙকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু সে আমার কথা কানে তোলেনি। উল্টো সে চিত্কার করে বদমাশটাকে শায়েস্তা করার ঘোষণা দিয়েছিল। এখন সে নিজেই গুম হয়ে গেছে। শরীর থেকে তার মস্তক আলাদা না করলেও জেনসেঙকে কোনোদিনই জীবিত পাওয়া যাবে না। ইতর ডাকাতদের মধ্যে এটাই হলো চরম অপরাধ।’
‘আমি বিশ্বাস করি না তাং এতটাই জঘন্য,’ বিড়বড় করে লি বলল।
‘সে বিত্তশালী। তার অঢেল টাকা আছে। এছাড়া এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট তার ইয়ার দোস্ত। সবসময় ম্যাজিস্ট্রেট তাংয়ের কথা শোনে,’ জেনসেঙের স্ত্রী বলল।
কথাগুলো বলার পরপরই জেনসেঙের স্ত্রীর কান্নার স্রোতে ভাটা শুরু হয় এবং সে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে। তবে তখনো তার কণ্ঠস্বর তীব্র এবং চোখের তারায় বিদ্যুত্ ঝিলিক। মনের ভেতর জমে থাকা রাগ-অভিমান সমস্ত দুঃখকে ঢেকে ফেললেও সে উত্তেজিত গলায় বলল, ‘মিস্টার ই-র মতো সজ্জন এবং নিরীহ লোককেও সে খুন করতে চেয়েছিল। আপনি কি আহলিউর কথা ভুলে গেছেন? তার এবং জেনসেঙের ঘটনা একই, কোনো ফারাক নেই।’ পুনরায় অদৃশ্য ভয় ও আতঙ্কের এক খণ্ড কালো মেঘ উড়ে এসে জেনসেঙের স্ত্রীর সমস্ত চোখেমুখ ঢেকে ফেলে।
লি-র মুখে কোনো রা নেই। হ্যাঁ, আহলিউর ঘটনা তার স্পষ্ট মনে আছে। আহলিউ ছিল একজন সত্ এবং ভদ্রলোক। ভরা মৌসুমে সে অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করত এবং অন্য সময় সে কুলির কাজ করত। একসময় সে উপার্জনের ওপর অতিরিক্ত কর দিতে অস্বীকার করে এবং অন্য কুলিদের সঙ্গে মিলে তাংয়ের বাড়ির সম্মুখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তখন তাং এই কর সংগ্রহের দায়িত্বে ছিল। দু’দিন পরে মহকুমার পুলিশ আহলিউকে গ্রেফতার করে। ডাকাতদের সঙ্গে তার সম্পৃক্তার সন্দেহে তাকে পনের বছরের হাজতবাস দেওয়া হয়। যখন আহলিউকে গ্রেফতার করে, তখন সে বোঝা নিয়ে লি-র নৌকার দিকে যাচ্ছিল। সবকিছু লি তার নিজের চোখে দেখেছে। একজন সত্ লোক, যে জীবনে কোনো খারাপ কাজ করেনি, হওয়া সত্ত্বেও বিচারক বলেছে যে আহলিউ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে জড়িত ছিল। কোন দিকে এই দুনিয়া যাচ্ছে? লি এখন জেনসেঙর স্ত্রীর কথা বিশ্বাস করেছে।
লি মুখ নিচু করে আছে। তার বুকের ভেতর যেন একটা জগদ্দল ভারী পাথর চেপে বসেছে। হাতের মুঠো শক্ত করে চেপে ধরে সে ভাবনার অথই দরিয়ায় সাঁতরাতে থাকে। সেই সময় সে কিছুতেই কোনো সমাধান খোঁজার চিন্তা করতে পারে না। গভীর ভাবনা-চিন্তায় তার মাথা ব্যথা শুরু হয়। হঠাত্ একসময় বিদ্যুত্গতিতে তার মনের ভেতর অনেক কিছুই খেলে যায়। সে রীতিমতো বিভ্রান্ত। একসময় সে জেনসেঙের স্ত্রীর হাত জোরে চেপে ধরে নির্দেশের মতো করে বলল, ‘উঠুন, তাড়াতাড়ি উঠুন। জেনসেঙ যদি সত্যি গ্রেফতার হয়, তাহলে তার মুক্তির জন্য অবশ্যই আমাদের কিছু করতে হবে। কিসের জন্য আপনি এখানে বসে এমন করে কাঁদছেন?’ বলেই সঙ্গে সঙ্গে সে জেনসেঙের স্ত্রীকে টেনে তুলে দাঁড় করায়। তারপর তারা দুজনে নদীর তীর ঘেঁষে খুব দ্রুত হাঁটতে থাকে।
বেশি দূর যাওয়ার আগেই লি এবং জেনসেঙের স্ত্রী তাকিয়ে দেখে ছোট ছেলেটি তাদের দিকে দৌড়ে আসছে। ছেলেটি চিত্কার করে কাঁদছে এবং বাবাকে ডাকছে, ‘বাবা।’ তার চোখেমুখে আতঙ্কের কালো ছায়া ছড়িয়ে আছে। ‘জেনসেঙ ...’ বলেই ছেলেটি এবার বাবার প্রশস্ত হাতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে আর কিছুই বলতে পারে না।
পলকেই জেনসেঙের স্ত্রী ছুটে গিয়ে ছেলেটির হাত ধরে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে উত্কণ্ঠিত গলায় জিজ্ঞেস করে, ‘সে কোথায় ?’
‘লিন, কথা বলো। কী হয়েছে?’ লি-ও ভীষণ উত্তেজিত। ভয়ে তার চোখমুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।
লিন প্রচণ্ডভাবে ঘামছে। তার চোখেমুখে ছড়িয়ে আছে আতঙ্কের কালোছায়া। ‘জেনসেঙ ...’, লিন রীতিমতো তোতলাতে থাকে। ‘সে ...,’ কথাটা সম্পূর্ণ না করে লি এবং জেনসেঙের স্ত্রীর হাত ধরে সে উল্টোদকে দৌড়াতে থাকে।
নদীর তীরে একটা গর্তে তিন জন নৌকার যাত্রী জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। গর্তটা রাস্তা থেকে বেশ নিচুতে। ছেলেটি সবার আগে গর্তের কাছে পৌঁছায়। ‘বাবা, দেখ ...’, ভয়ার্ত গলায় সে চিত্কার করে বলল।
আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে জেনসেঙের স্ত্রী আর্তচিত্কার করে সামনের দিকে দৌড়াতে থাকে। পেছনে লি তাকে অনুসরণ করে।
নদীর তীর ঘেঁষে পানির ওপর অসংখ্য নীলপদ্ম ফুটে আছে। স্থানীয় স্কুলের একজন শিক্ষক হাঁটু গেড়ে বসে দু’হাতে ফুল তুলছে। পানিতে একটা মৃত দেহ ভাসছে। গাছের গোড়ার সঙ্গে কালো মসলিনের ফতুয়া বাঁধা আছে। সেই ফতুয়ার সামান্য বাম দিকে একটা ফুটো।
‘জেনসেঙ,’ আর্তচিত্কার করেই মহিলা মৃতদেহের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমন জোড়ে সে বিলাপ করতে থাকে, মনে হয় যেন তার পাঁজরের সব হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।
‘সে মারা গেছে,’ শিক্ষক ঘাড় ঘুরিয়ে লি-র উদ্দেশে ভারাক্রান্ত গলায় ফিসফসিয়ে বলল।
‘নিশ্চয়ই ওরা প্রথমে তাকে গুলি করেছে,’ নৌকার যাত্রীদের মধ্যে দোকানের কেরানি বলল। ‘রক্তের দিকে তাকিয়ে দেখুন।’
চারপাশের গুমোট হাওয়ায় লি একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে ছেলের হাত শক্ত করে ধরে এবং নদীর পানির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
ভাঙা হূদয়ের চূর্ণ-বিচূর্ণ টুকরোর মতো জেনসেঙের স্ত্রীর করুণ কান্না চারদিকের ভারী বাতাসকে অবিরাম আঘাত করছে। অমলধবল স্নিগ্ধ চাঁদের আলোয় চারপাশের বাতাস, মাটি, পানি—সবকিছুই গভীর শোকে মুহ্যমান, এমনকি প্রতিটি গাছ-পালা, সবুজ ঘাস, বাহারি রঙের ফুল এবং নদীর পানির ওপর ভেসে থাকা নীলপদ্মও।
নিস্তব্ধ গ্রাম এবং ছোট নদী ভরা চাঁদের রুপালি জ্যোত্স্নায় ডুবে আছে। এই মর্মস্পর্শী এবং নৃশংস ঘটনায় সারা গ্রাম যেন কাঁদছে। সবার বেদনার্ত চোখ অশ্রুর নোনা পানিতে ভরা।
সুনসান চাঁদনি পশর রাইত। কোথাও বাতাস কিংবা বৃষ্টির ছিটাফোঁটা নেই। লি-র নৌকা, যা অতীতে কোনোদিনই স্টিমার ধরতে বিলম্ব করেনি, সেই রাতে প্রথমবারের মতো স্টিমার ধরতে পারেনি।
লেখক পরিচিতি : বিংশ শতাব্দীর চীনের অন্যতম বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক বা জিন ১৯০৪ সালের ২৫ নভেম্বর সিচুয়ান প্রদেশের জেংদু শহরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বা জিন তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। পোশাকী পরিচয় লি ইয়াওতাং। ১৯১৯ সালের ‘মে ফোর্থ আন্দোলন’ তাঁকে সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করে। ১৯২২ সালে তিনি চীনা মাতৃভাষায় (‘ভ্যারন্যাকিউল্যার ল্যাংগুয়েজ’) ‘কার্নিভাল অফ দ্য অপ্রেসড্’ রচনা করেন। ১৯২৭ সালে তিনি ফ্রান্সে গমন করেন এবং সেখানে প্রথম অনু-উপন্যস (‘ডিসট্রাকশন’) রচনা করেন। এই অনু-উপন্যাসে তিনি একজন নৈরাজ্যবাদী যুবকের করুণ কাহিনি তুলে ধরেন, যা ১৯২৯ সালে ধারাবাহিকভাবে চীনে প্রকাশিত হওয়ার সময় তাঁর নাম সেই দেশের সাহিত্য মহলে ভীষণ আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে—‘ডিসট্রাকশন’ (১৯২৯), ‘দ্য ডেড সান’ (১৯৩০), ‘ফ্যামিলি’ (১৯৩১), ‘ফগ’ (১৯৩১) এবং ‘রেইন’ (১৯৩২)। ১৯৩৫ সাল থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি একাধিক উল্লেখযোগ্য ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বা জিন ১৯৪৯ সালে চীনের প্রথম জাতীয় ‘কংগ্রেস অফ চায়নিজ লিটারেচার অ্যান্ড আর্ট ওয়ার্কার্স’-এ অংশগ্রহণ করেন এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯০ সালে তিনি ‘ফুকুওয়া এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ২০০৫ সালের ১৭ অক্টোবর সাংহাইয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
গল্পসূত্র : ‘চাঁদনি পশর রাইত’ বা জিনের ইংরেজিতে ‘এ মুনলিট নাইট’ গল্পের অনুবাদ। ১৯৩৩ সালে লেখা এই গল্পটি চীনা ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন সিডনি শ্যাপিরো। ইংরেজিতে গল্পটি ১৯৬২ সালে ‘চায়নিজ লিটারেচার’ ম্যাগাজিনে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে গল্পটি ‘অ্যট্যাম ইন স্প্রিং অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ (১৯৮১) গল্প সংকলনে এবং ‘এ রেট্রোস্পেকটিভ অফ চায়নিজ লিটারেচার—শর্ট স্টোরিজ’ ও ‘সিলেক্টেড শর্ট স্টোরিজ অফ বা জিন’ (২০০৪) গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
