শখের বসেই প্রথম বইটি লিখি

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৪, ১৯:৪৮
রকিব হাসান, কথাশিল্পী ছাপার অক্ষর চেনার পর থেকেই বই পড়ি। বই পড়তে খুব ভালো লাগে। পরিবারে সবাই বই পড়ত। বাবা তো বই পড়া নিয়ে আমার সঙ্গে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় লেগে যেত। নতুন কোনো বই পেলে বাবা আগে পড়ে তারপর আমাকে দিত। ঘরকুনো স্বভাবের হওয়ায় প্রচুর বই পড়ার সুযোগ পেতাম। যেখানে যা পেতাম তা-ই পড়তাম। রাস্তায় ছেঁড়া কাগজ পেলেও। ছাপার অক্ষর আমার কাছে ছিল নেশার মতো। স্কুল ছুটি থাকলে নিজে নিজে বড়শি বানিয়ে বাসার কাছের পুরোনো পুকুরে মাছ ধরে আনন্দে সময় কাটাতাম। সে-সময়টাও কাটত আমার বইয়ের সাথে। বই পড়া, মাছ ধরা একসঙ্গে। ‘বাল্যশিক্ষা’ পড়েছি। আমেরিকান লেখক ফ্র্যাঙ্ক বম-এর ‘উইজার্ড অব দি ওজ’-এর অনুবাদ পড়ে খুব ভালো লেগেছিল। রাশান রূপকথা পড়তে পড়তে কোনো এক স্বপ্নের জগতে চলে যেতাম। দস্যু বাহরাম, দস্যু মোহন, স্বপন কুমার সিরিজ অসম্ভব ভালো লাগত। তারাশঙ্করের ‘ডাক হরকরা’ বইয়ের নায়কের মৃত্যুতে আমার ভীষণ খারাপ লেগেছিল। কেঁদেই ফেলেছিলাম। তারপর থেকে কোনো উপন্যাস পড়ার আগে বইয়ের শেষটা পড়ে দেখে নিতাম নায়ক-নায়িকার পরিণতি। বিয়োগান্তক কাহিনি হলে পড়তাম না। অসাধারণ ক্লাসিক ‘পথের পাঁচালী’-র বৃদ্ধা ইন্দির ঠাকরুণের মৃত্যুতে এত দুঃখ পেয়েছি, তিন রাত ঘুমোতে পারিনি। সেজন্য রহস্য রোমাঞ্চ অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে থাকতেই ভালোবাসি। এসব বই কষ্ট দেয় না। লেখার ক্ষেত্রেও তাই আমি এ ধরনের বিষয়ই বেছে নিয়েছি। শখের বসেই প্রথম বইটি লিখি। ১৯৭৭ সালে সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার জনাব কাজী আনোয়ার হোসেনের কাছে সেটি নিয়ে যাই। তিনি পছন্দ করলেন। ছাপলেন। পর পর সেবা থেকে আরও তিন-চারটে বই বেরোল। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। জনপ্রিয় হতেও সময় লাগেনি। তারপর শুধু লেখা আর লেখা। সেই ’৭৭ থেকে আজ পর্যন্ত লিখে যাচ্ছি, সেগুলো ছাপা হচ্ছে বিভিন্ন প্রকাশনীতে, পত্রিকায়, একটি বছরও লেখা বাদ যায়নি। হয়ে গেছি পেশাদার লেখক। এবারে আমার লেখা যাচ্ছে পাঁচ-ছয়টি ঈদসংখ্যা পত্রিকায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইত্তেফাক ঈদসংখ্যায় তিন গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিনকে নিয়ে লেখা গোয়েন্দা উপন্যাস। কিশোর আলোতেও গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিন-এর উপন্যাস। সমকালে রহস্য উপন্যাস। নয়াদিগন্তে ওয়েস্টার্ন উপন্যাস। বই পড়ি, লিখি। কোথাও যেতে ভালো লাগে না। ছোটবেলা থেকেই যেতাম না। আড্ডাবাজি আমার অপছন্দ। মনে হয়, অহেতুক সময় নষ্ট। তাই আমার তেমন কোনো বন্ধুও নেই। বাইরে ঘোরার চেয়ে বাসায় বসে থাকতেই ভালোবাসি। বই পড়ি, বই লিখি। আমি কোনো বিষয় সিলেক্ট করে পড়ি না। হাতের কাছে যা পাই তা-ই পড়ি। ইদানীং নেট-এ চিকিত্সা শাস্ত্রের ওপর লেখা প্রবন্ধ পড়ার দিকে বিশেষভাবে ঝুঁকেছি। এগুলো পড়ি, আমাকে ভাবায়, ভালো লাগে। অনুলিখন :ইমরান মাহফুজ