ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদদ দেয়ার অভিযোগে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে রাশিয়ার বেশিরভাগ ব্যাংকসমূহ যার মধ্যে রয়েছে গ্যাজপ্রমব্যাংক, প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং বিদ্যুত্ কোম্পানি রসনেফট। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ককে অচল করে দিবে।
ইইউ জানিয়েছে, তারা এ মাসের শেষের দিকে এ নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত জানাবেন। তবে একটি বিষয় জোর দিয়ে বলা হয়, তা হলো রাশিয়ার ব্যাংকিং খাতে তথা বিভিন্ন প্রকল্পে আর বিনিয়োগ করা হবে না। নতুন করে মার্কিন এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হয়। এতে করে ওয়াশিংটন পূর্ববর্তী জারি করা নিষেধাজ্ঞাগুলো আরো বাড়িয়েছে। এর আওতায় রাশিয়া এবং ইউক্রেনের বিভিন্ন কোম্পানিতে তাদের লোকদের কমিয়ে আনবে। এসবের তালিকায় রয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক, বিদ্যুত্ উত্পাদন কারখানা এবং কালাশনিকভ অস্ত্র তৈরির বিষয়টি। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পূর্ব ইউক্রেনের দুটি স্বঘোষিত বিদ্রোহী গ্রুপ দোনতেস্ক পিপলস রিপাবলিক এবং লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিককে টার্গেট করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানায়, নতুন এই নিষেধাজ্ঞায় হবে বিস্তৃত এবং গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রাশিয়ার তেল কোম্পানি রোজনেফ্ট পড়বে যারা ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের সঙ্গে দেড় বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। হোয়াইট হাউস আরো জানায়, বর্তমান এ নিষেধাজ্ঞার অর্থ হচ্ছে রাশিয়ার অর্থনীতিকে আঘাত করা; যার মাধ্যমে রাশিয়াকে বাধ্য করা হবে ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উস্কে দেয়ার পথ থেকে ফিরে আসতে।
মঙ্গলবার পেন্টাগন জানায়, তারা বর্তমানে ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সৈন্যের উপস্থিতি বেশি দেখতে পাচ্ছেন। সেখানে ১২ হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এটা ধরে নেয়া হচ্ছে যে, রাশিয়া বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তাদের সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। পেন্টাগন আরো জানায়, এরপরেও যদি রাশিয়া তার অবস্থা থেকে ফিরে না আসে তাহলে পরবর্তীতে আরো পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, রাশিয়ার উপর নতুন এ অবরোধের কারণ রাশিয়া তার অঙ্গীকার পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
