ইংলাককে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে সামরিক বাহিনী

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৪, ২০:৪৯
থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এর ফলে সেনা অভ্যুত্থানের পরে প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন ইংলাক। থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইংলাক ২০ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপ ভ্রমণের অনুমতির জন্য অনুরোধ করেছিল। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল উনথাই সুভারি বলেন, অনুরোধটি অনুমোদন দেয়ার কারণ হলো, ২২ মে ইংলাক সরকার উত্খাত হওয়ার পর থেকে তিনি একটি ‘নিম্ন পদের অধিকারী’। ঐ মুখপাত্র আরো বলেন, তারা অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে, কারণ, রাজনীতি এবং বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় তিনি সামরিক জান্তার কোনো আদেশ লঙ্ঘন করেননি। এদিকে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, ইংলাক তার ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রার জন্মদিন উপলক্ষে ফ্রান্সে যেতে পারেন। আগামী ২৬ জুলাই ৬৫ বছরে পা দেয়া থাকসিনও থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগে ২০০৬ সালে সামরিক বাহিনী তাকেও ক্ষমতাচ্যুত করে। থাইল্যান্ডের একটি আদালতে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হওয়ায় থাকসিন দেশের বাইরে স্বেচ্ছানির্বাসনে আছেন। এ বছরের শুরুর দিকে কয়েক মাসব্যাপী সরকার বিরোধী বিক্ষোভের পর গত মে মাসে সামরিক বাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখল করে। সরকার বিরোধী এসব বিক্ষোভে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, ২০১১ সালের নির্বাচনে গ্রামীণ ভোটারদের শক্তিশালী সমর্থনে ক্ষমতায় আসা ইংলাক সরকার তার ভাইয়ের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং সিনাওয়াত্রা পরিবারের অর্থ থাই গণতন্ত্রকে দুর্নীতিপরায়ণ করে তুলছে। সরকার বিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানকে বেআইনীভাবে সরিয়ে দেয়ার অভিযোগে একটি সাংবিধানিক আদালত ইংলাককে পদচ্যুত করে। বর্তমানে তিনি বিতর্কিত ধান ভর্তুকি প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অভিযোগ মোকাবেলা করছেন। এদিকে, বেশ কিছুদিন আগে থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী বলেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবরের আগে দেশে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।