ইতেকাফে লাইলাতুল কদর নসিব হয়

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৪, ২১:২১
ইতেকাফ শব্দটি আ‘কফুন শব্দ থেকে নির্গত। যার অর্থ কোন কাজের সাথে নিজেকে আটকে রাখা, রত রাখা, লিপ্ত রাখা। ইসলামের পরিভাষায়:‘আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আশায় ইখলাছের সাথে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতেকাফ বলে। মসজিদ বিহীন কোন ঘরে বা খানকায় মহিলা বা পুরুষ কারো জন্য ইতেকাফ করা জায়েয নেই। এমর্মে রমযানের শেষ দশকের সারাংশ, পূর্ণ রমযানের মগজ সম্পর্কে জেনে বিশেষভাবে ইবাদাতের প্রস্তুতি নিন। হয়তো আপনার এই রমাযানই শেষ রমাযান। সুতারং সেইভাবে প্রস্তুতি নিন, যেভাবে আমাদের মহানবী (স.) নিতেন। প্রিয়নবী (স.) নিজে রমযানের শেষ দশক জাগতেন, নিজ পরিবারকে জাগাতেন, (ইবাতদতে) খুবই চেষ্টা করতেন। ‘কোমর বেঁধে নিতেন’ অর্থাত্ ভালরূপে প্রস্তুতি নিতেন, মনকে সবল করতেন এবং ইবাদত করার জন্য তৈরী হতেন। স্ত্রীদের নিকট যেতেন না বরং সারাদিন ছিয়াম পালন করে সারাটি রাত আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। মহান আল্লাহর রেজামন্দি হাছিলের জন্য ইতেকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রসূলুল্লাহ (স.) নিজে প্রতি বছর ইতেকাফ করেছেন। তাঁর সাহাবীগণ এবং স্ত্রীগণও তাঁর সাথে এবং পরবর্তীতে ইতেকাফ করেছেন। তিনি “প্রতি রমযানে দশ দিন ইতেকাফ করেছেন ও ইন্তেকালের বছর বিশদিন ইতেকাফ করেন” (বুখারী শরীফ হা. ২০৪৪)। ইবনু ওমর (রা.) বলেন, ‘রসূলুল্লাহ (স.) রমযানের শেষ দশদিন ইতেকাফ করতেন।’ লাইলাতুল ক্বদর একটি সৌভাগ্য ও মহিমান্বিত রজনী: রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, “আমি লাইলাতুল ক্বদরের সৌভাগ্য ও এ মহিমা অনুসন্ধানে ১ম দশদিন ও মাঝের দশদিন ইতেকাফ করেছি অবশেষে আমার কাছে একজন ফেরেশতা এসে বলেছে যে, তা শেষ দশকে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা ইতেকাফ করতে চায় তারা যেন (শেষ দশকে) ইতেকাফ করে। অতঃপর লোকেরা তার সাথে শেষ দশকে ইতেকাফ করলো। রসূলুল্লাহ (স.) আরো বলেন, আমাকে তা (শবে ক্বদর) বেজোড় রাতের মধ্যে দেখানো হয়েছে। আমি ঐ রাত্রের শেষে নিজেকে কাঁদা ও পানির মধ্যে সেজদা করতে দেখেছি। হযরত আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, “রসূলুল্লাহ (স.) বললেন:শেষ দশকে ঐ রাত্রকে (শবে ক্বদরকে) তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তা তালাশ কর। আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, ঐ রাতে আমি কাঁদা-পানিতে সেজদা করছি। এ রাতে আকাশে প্রচুর মেঘের সঞ্চার হয় এবং হাল্কা বৃষ্টি হয়। মসজিদে রসূলুল্লাহ (স.)-এর সালাতের স্থানেও বৃষ্টির পানি পড়তে থাকে। এটা ছিল একুশ তারিখের রাত। যখন তিনি ফজরের সালাত শেষে ফিরে বসেন তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই যে, তাঁর মুখমন্ডল কাঁদা-পনি মাখা (সহীহ বুখারী হা. ১৮৯১)। রমযানের শেষ দশকের যে কোন রাত লাইলাতুল ক্বদর বা শেষ দশকের যে কোন বেজোড় রাত লাইলাতুল ক্বদর অথবা রমযানের একুশ বা সাতাশ তারিখের রাত লাইলাতুল ক্বদর। লাইলাতুল ক্বদরের আলামত: ঐ রাত জানার আলামত সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, ঐ রাতে আকাশে এক প্রকার আলো উদ্ভাসিত হবে। ঐ রাতে ইবাদতে খুব বেশী মন বসবে, মনে তৃিপ্ত অনুভব হবে, বাতাস ক্ষান্ত হবে, তারা বা উল্কা ছুটবে না, রাত্রের শেষাংশে বৃষ্টি বর্ষিত হবে ও সকালে যে সূর্য ওঠবে তার কিরণ না থাকা। এছাড়া এটাও রয়েছে যে, এ রাতে গাছ-পালা সেজদা করে, সমুদ্রের পানি মিঠা হয়ে যায়, ফেরেশতার সালাম শুনতে পাওয়া যায় ইত্যাদি। শবে ক্বদরের বিশেষ দূ‘আ:লাইলাতুল ক্বদরে নিম্নের দূ‘আটি বেশি করে পাঠ করা “আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউবুন তুহিব্বুল আফওয়া, ফা‘ফু আন্নী।” অর্থাত্ হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল মহানুভব, ক্ষমাকে পছন্দ কর। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা ক’রে দাও (বুখারী শরীফ)। এই শবে ক্বদরের ফজিলত সম্পর্কে কিছু তথ্য: এ সর্বশ্রেষ্ঠ রাতে, সর্বশ্রেষ্ঠ মাসে, সর্বশ্রেষ্ঠ স্থানে, সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির ওপর, সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষায়, সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে। প্রায় ৮৩বছর ৪মাস অপেক্ষা উত্তম এই রাত অর্থাত্ একরাতেই ইবাদতের সাওয়াব অর্জন করবে একহাজার মাসের চাইতে বেশি। এক রাকা‘আত সালাত আদায় করলে প্রায় ৩০হাজার রাকা‘আত থেকে বেশী সালাত পড়ার সমান সাওয়াব পাওয়া যায়। এ রাতের আমল ও আমলকারীর বড় ক্বদর ও মর্যাদা রয়েছে। এ রাতে জিব্রাঈল ফেরেশতাসহ তার সঙ্গী-সাথীদের সালাম বা শান্তি নিয়ে আগমনে পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং ফজরের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত অব্যহত থাকে। এ ভাগ্য-রজনীতে এক বছরের রুযী,হায়াত-মউত, ঘটন-অঘটন ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করা হয়। এ রাত মুবারকপূর্ণ রাত এবং এ রাতে বড় বড় বিষয়ে ফয়সালা করা হয়। এ রতের ইবাদত গোনাহ-খাতা মা‘ফ করার জন্য ওয়াছিলা স্বরূপ। নবী (স.) বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সাথে এবং সাওয়াবের আশা রেখে শবেক্বদরে সালাত পড়বে তার পূর্বেকার পাপারাশি মাফ হয়ে যাবে।” (বুখারী ১৯০১ ও মুসলিম-৭৬০)।