বায়ার্ন মিউনিখ থেকে ছয় বছরের চুক্তিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন জামান উইঙ্গার টনি ক্রুস। তবে চুক্তি কিংবা দলবদলের অর্থের পরিমাণ জানায়নি রিয়াল-বায়ার্ন কেউই। যদিও রিয়াল নিজেই দলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগামী বৃহস্পতিবারই রিয়ালের জার্সি গায়ে সমর্থকদের সাথে আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানির সবচেয়ে ধারাবাহিক খেলোয়াড়টিকে। বিশ্বকাপের পরে হাই প্রোফাইল এই চুক্তি সম্পন্ন করে দল বদলের বাজারে আরেকবার আলোড়ন সৃষ্টি করলো স্প্যানিশ জায়ান্টরা। যদিও রিয়ালের পাশাপাশি দু্ই ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং চেলসিও তাকে দলে ভেড়াতে মরিয়া ছিল।
বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখানোর পরে ২৪ বছর বয়সী এই প্লে¬ মেকারের দিকে হাত বাড়িয়েছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৭-১ গোলে জার্মানদের জয়ে ক্রুস দুই মিনিটে দুই গোল করে ম্যাচের চেহারা পাল্টে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় জার্মানি ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। যদিও মার্কো রিউসের অনুপস্থিতিতে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই জার্মান মিডফিল্ডের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ক্রুস। মূলত ক্রুসের ধারাবাহিকতার কারণেই ঢাকা পড়ে গেছে মেসুত ওজিতের অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্স।
সবকিছু মিলে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে ক্রুসকে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এক বিবৃতিতে ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন প্লেমেকারের যেকোন পরিস্থিতিতে যেকোন স্থানে খেলার যোগ্যতা থাকা লাগে। ক্রুসের মধ্যে সেই দক্ষতা আছে। একইসাথে পুরো দলকে সহযোগিতা করাও তার অন্যতম কাজ। এসব কিছুর পাশাপাশি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক করতেও দারুণ পারদর্শি ক্রুস।
আগামী মৌসুমে বায়ার্নের সাথে চুক্তি শেষ হবার কথা ছিল ক্রুসের। আর তাই তাকে নিয়ে রিয়ালের পাশাপাশি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসিও আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পেনেই পাড়ি জমালেন তারকা এই উইঙ্গার। নিজের নামের পাশে ১১টি শিরোপা সাথে নিয়ে তিনি সানতিয়াগো বার্নাব্যুতে পা রেখেছেন। এর মধ্যে ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লীগ, বুন্দেসলিগা এবং ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা ছাড়া বিশ্বকাপের শিরোপাতো রয়েছেই।
কিশোর বয়সে ২০০৭ সালে ক্রুস যখন বায়ার্নে যোগ দিয়েছিলেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। এরপর ১৮ মাসের ধারে তিনি বুন্দেসলিগার প্রতিদ্বন্দ্বি বায়ার লিভারকুসেনে কাটানোর পরে বায়ার্নে ফিরে এসে নিয়মিত মূল একাদশে সুযোগ পান।
এই নিয়ে দ্বিতীয় হাই প্রোফাইল খেলোয়াড় হিসেবে চলতি মাসে লা লিগায় পাড়ি জমালেন ক্রুস। এর আগে লিভারপুল থেকে নয় কোটি পঞ্চাশ লাখ ইউরোর বিনিময়ে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন লুইস সুয়ারেজ। ধারণা করা হচ্ছে মোনকো থেকে কলোম্বিয়ান সুপারস্টার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের মালিক হামেস রদ্রিগেজ ক্রুসের সাথে রিয়ালে যোগ দিবেন।
ক্রুসের আগেও জার্মানির বর্তমান দলের অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড় মেসুত ওজিল এবং স্যামি খেদিরা রিয়ালে খেলেছেন। গত মৌসুমে গ্যারেথ বেলকে জায়গা করে দিতে ওজিলকে আর্সেনালের কাছে বিক্রি করে দিলেও খেদিরা এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসাবেই কাজ করছেন। গত মৌসুমে রিয়ালকে বহু আরাধ্য দশম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা লা দেসিমা জেতাতেও বড় ভূমিকা রেখেছেন খেদিরা। এবার ক্রুস যোগ দেয়ায় নি:সন্দেহে আরো শক্তিশালী হলো রিয়ালের লাইনআপ।
লা ব্লাঙ্কোস সমর্থকরা আগামী মৌসুমে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের আশা করতেই পারেন এবার। কার্লো অ্যানচেলোত্তির হাতের অস্ত্রগুলো দেখে অন্তত তেমনই মনে হচ্ছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, গ্যারেথ বেল, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, খেদিরা, করিম বেনজামা, মার্সেলো, সার্জিও র্যামোস এবং টনি ক্রুস। প্রতিপক্ষের রক্ষণ শিবিরে ভয় ধরাতে শুধু নামগুলোকেই যথেষ্ট মনে হচ্ছে!
