রোড ডিভাইডার সেই পুরনো চেহারায়

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৪, ২১:৪০
চলতি বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুন সাজে সেজেছিল ঢাকা। সড়কের অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও বিভিন্ন সড়ক বিভাজকের (ডিভাইডার) উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছিল। তবে কয়েক মাস যেতে না যেতেই চিত্র পাল্টে গেছে। আবর্জনা, ধুলাবালিতে একাকার হয়ে আর সৌন্দর্যবর্ধক উপকরণ খসে গিয়ে সেই পুরনো চেহারায় ফিরে গেছে রাজধানীর সড়ক বিভাজকগুলো। অপরিকল্পিতভাবে কাজ করার কারণেই এমনটা হয়েছে বলে অভিমত নগর বিশেষজ্ঞদের। জানা গেছে, সরকারের ৯২ কোটি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিলের ২৩ কোটি টাকা নিয়ে মোট ১১৫ কোটি টাকা খরচ করে ওই সড়ক ও সড়ক বিভাজক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর আওতায় ২৩ কিলোমিটার সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শাহবাগ পর্যন্ত সড়ক বিভাজক দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয়। এছাড়া বিমান বন্দর চত্বর থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর হয়ে মিরপুর ২ নম্বর পর্যন্ত সড়ক বিভাজকেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। এজন্য সে সময় রাজধানীবাসীর বাহবা কুড়িয়েছিল করপোরেশন। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে কাজগুলো না করায় অল্প সময়ের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে গেছে। আগে অপরিকল্পিতভাবে সড়ক বিভাজক বানানো হয়েছে বলে স্বীকার করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গাজী ফিরোজ রহমান। তবে তিনি দাবি করেন, এখন যেসব সড়কে বিভাজক দরকার সেসব সড়কেই বিভাজক বসানো হয়। বিভাজক বসানোর আগে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সড়কে বিভাজক বসানো হলে যান চলাচলে সুবিধার কথাও বিবেচনা করা হয়। সড়কের বিভাজক বানানো, সজ্জা ও সংস্কারে পরিকল্পনার অভাব থাকায় নগরের সড়কে নানা অসঙ্গতি দেখা দিচ্ছে। একেক সড়কের বিভাজক বানানো হয়েছে একেক রকম উচ্চতায়, প্রস্থে ও নকশায়। এগুলোর ফোকর রাখাতেও কোন পরিকল্পনার ছাপ নেই। আবার অনেক সড়ক বিভাজক ধুলার উত্স আর আবর্জনা রাখার স্থানে পরিণত হয়েছে। সড়ক বিভাজক নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাকিল আখতার বলেন, সড়কের ধরন ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে বিভাজক বসাতে হয়। আর এজন্য দরকার যুতসই জরিপ পরিচালনা করা। সড়কের ২৪ ঘণ্টার যাতায়াত বিবেচনা করে বিভাজক বানাতে হবে। নগরের অনেক সড়ক বিভাজকেই বেষ্টনী দেয়া হয়েছে। কোথাও বেষ্টনী রয়েছে লোকজনের রাস্তা পারাপার বন্ধ করতে, কোথাও আছে বিভাজকের গাছপালা ও লতাগুল্ম রক্ষা করতে। একেক রকম বেষ্টনীতে একেক রকম উপকরণ দেখা গেছে। কোথাও আছে লোহার বেড়া, কোথাও আছে কাঁটাতারের বেড়া। আবার কাঁটাতারের বেড়ার খুঁটিতেও ভিন্নতা আছে। কোথাও আছে বাঁশের খুঁটি, কোথাও ইস্পাতের খুঁটি। নগরীর অনেক সড়ক বিভাজকে বাঁশের খুঁটি দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে অনেক খুঁটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বিভাজকের ওপর পড়ে আছে কাঁটাতার। বেহাল বিভাজক দেখিয়ে ৮ নম্বর রুটের বাসের যাত্রী আনোয়ার আবেদীন বলেন, বেড়া দেয়া হয়েছিল গাছপালা রক্ষার জন্য। সেই বেড়া এখন ডিভাইডারে গড়াগড়ি খাচ্ছে। অনেক সময় কর্তৃপক্ষের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের অভাবে বড় সড়কগুলো চওড়া করার সময় প্রায়ই এদিক-সেদিক হয় বিভাজকের সীমানা। তখন বিভাজক ভেঙ্গে নতুন করে তা বানাতে হয়। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সড়ক বিভাজকের উপকরণও বদল হয়েছে বার বার। এছাড়া বেষ্টনীতেও দেখা যায় নানা উপকরণের ব্যবহার। এই প্রসঙ্গে পান্থপথের বাসিন্দা সামিয়া রহমান বলেন, কয়েক বছর আগে দেখেছি পান্থপথ মোড়ের কাছে গ্রিন রোডের সড়ক বিভাজকের চওড়া কমানো হয়েছে। এই কাজের সময় পুরনো কংক্রিট ব্লকের বদলে নতুন ব্লক ব্যবহার করা হয়। তিনি জানান, আমার মনে হয়েছিল আগের ব্লকগুলো দিয়েই কাজ করা যেত। নতুন ব্লক বসিয়ে অর্থ অপচয়ের কোন দরকার ছিল না। সরেজমিন দেখা গেছে, হাতিরপুল, বাংলামোটর ও কাঁটাবনের অনেক দোকানের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে পাশের সড়ক বিভাজকে। এতে সৌন্দর্যহানি হচ্ছে। করপোরেশনের ঝাড়ুর ছোঁয়া না পেয়ে অনেক বিভাজকে জমেছে ধুলাবালি। যেসব বিভাজকের মাঝের জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে, সেগুলো সড়কের ধুলাবালির উেস পরিণত হচ্ছে। মনিপুরীপাড়া ও সংসদ ভবনের খেজুরবাগানের মধ্যের সড়ক বিভাজকে জমেছে ধুলার স্তর। এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ভোরে সড়কের পিচঢালা অংশ ঝাড়ু দেয়। তবে সড়ক বিভাজক পরিচ্ছন্নতার কাজটি করপোরেশনের সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির বলে তিনি জানান।