ফিলিপ লামের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেয়ার খবরটা নিশ্চিতভাবেই বিস্ময় হয়ে এসেছে তার ভক্তদের কাছে। লামের সতীর্থ এবং কাছের মানুষদের কাছেও যে এই সংবাদ বিস্ময় হিসাবেই এসেছে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বোঝা যাচ্ছে সেটাই। তবে, বিস্ময়ের পাশাপাশি জার্মানির জার্সি গায়ে লামের অসাধারণ অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করে শ্রদ্ধাও জানাচ্ছেন সবাই। কে নেই সেই তালিকায়। দীর্ঘকালের সতীর্থ লুকাস পোডলস্কি থেকে শুরু করে বায়ার্ন মিউনিখ কিংবদন্তি কার্ল হেইঞ্জ রুমনিগে, জার্মানির ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) সভাপতি উলফগ্যাং নেইর্চব্যাকরা সবাই বিদায় অভিবাদন জানিয়েছেন লামকে। বাদ যাননি জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের পাশাপাশি বিশেষ এক ব্যক্তিগত বার্তায় জানিয়েছেন লামের প্রতি তার মুগ্ধতা। শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে অর্জনের জন্যও।
জার্মানির ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এবং পরবর্তীতে জাতীয় দলের কোচ রুডি ভোলারের কাছে সদ্য বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের এমন সিদ্ধান্ত এসেছে বিস্ময় হয়েই, ‘কোন সন্দেহ নেই সবার কাছেই বিস্ময় হয়ে এসেছে এটা। লাম এমন একজন খেলোয়াড় যে পারফরম্যান্স এবং ফিটনেস বিবেচনায় অনায়াসে পরবর্তী বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেয়ার ক্ষমতা রাখে।’
বিস্মিত আরেক জার্মান কিংবদন্তি উয়ে সিলারও। লামের বিদায়কে জাতীয় দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসাবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন ফুটবলার হিসাবে আপনি এর (লামের অর্জনের) চেয়ে বেশী কিছু জেতার কথা চিন্তাও করতে পারবেন না।’
তবে জার্মানির দ্বিতীয় বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য র্যানিয়ের বনহফের কাছে অবশ্য খুব বেশী বিস্ময়ের উদ্রেক করেনি খবরটা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর কিছু অর্জনের বাকি নেই, এই বিষয়টাই লামকে অবসর নিতে উত্সাহিত করেছে বলে মনে করছেন তিনি। ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের দলের এই সদস্য বলেন, ‘গত ১০-১২ বছর ধরেই তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। আমার দৃষ্টিতে সিদ্ধান্তটি নেয়ার সঠিক সময় ছিল এটাই।’
আর লামের দীর্ঘদিনের সতীর্থ পোডলস্কি তার বন্ধু এবং অধিনায়ককে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, ‘ফিলিপ, তোমার সাথে একই দলের অংশ হতে পারাটা ছিল সম্মানের। দশটি বছর বায়ার্ন এবং জাতীয় দলে তোমার সাথে যুদ্ধ করেছি, সাফল্য উদযাপন করেছি। অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা ছিল সেটা।’
জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও বায়ার্ন মিউনিখের পক্ষে আরো অন্তত বছর চারেক হয়তো খেলবেন লাম। তাই এই মুহূর্তে জাতীয় দলে লামের অনুপস্থিতিই বেশী ভাবাচ্ছে বায়ার্ন সভাপতি রুমনিগেকে, ‘এর চাইতে অসাধারণ কোন বিদায় হতে পারে না। তবে জাতীয় দলে তার শূন্যতা পূরণ করা কঠিন হবে।’
আর বিদায় বেলায় মার্কেল স্মরণ করেছেন লামের ক্যারিয়ারের সবগুলো অর্জনকে। লাম জাতি হিসাবে জার্মানিকে পৃথিবীর বুকে গৌরবান্বিত করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ জেতা সবসময় দলগত একটি সাফল্য। তবে সন্দেহ নেই সেখানে অধিনায়ককে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হয়। আমি তার অর্জনের জন্য অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে সম্মান জানাচ্ছি।’
