ব্রাজিল দলে পরিবর্তনের কথা বললেন জিকো

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৪, ২১:৪২
ব্রাজিলের সাবেক মিডফিল্ডার জিকোর মতে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের অনুশীলন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা দরকার। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবার ষষ্ঠ শিরোপাকে লক্ষ্য করে খেলতে নামলেও জার্মানির কাছে সেমিফাইনালে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়। জিকোর মতে, এ পরাজয় মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভুলগুলো শুধরে অবশ্যই দেশটির নতুন করে শুরু করা দরকার। কিংবদন্তি এই ফুটবলার বলেন, ব্রাজিল বিশ্বকাপ ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে চায়, তাই অবশ্যই তাদের নতুন করে সব কিছু শুরু করতে হবে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি নিজের দেশে আয়োজিত বিশ্বকাপটি ফেভারিট হিসেবেই শুরু করেছিল। কিন্তু সেমিফাইনাল বিপর্যয়ের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও নেদারল্যান্ডের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়ে চতুর্থ স্থান লাভ করে কোচ ফিলিপে স্কোলারির দল। ব্রাজিলকে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জেতানো ৬৫ বছর বয়সী স্কোলারি অবশ্য ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। জিকো বিশ্বাস করেন, নিকট ভবিষ্যতে আরো পরিবর্তন আনতে হবে। জাতীয় দলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা জিকো বলেন, এ জন্য ‘কোনো কিছু লুকানো’ বন্ধ করতে হবে এবং দেশের ফুটবলের উন্নতির জন্য কাজ করতে হবে। জার্মান পত্রিকা বিল্ডকে তিনি বলেন, ‘সব ব্যর্থতা ভুলে এবং নতুন করে শুরু করার এটাই সময়। আপনি কোনো কিছু লুকিয়ে রাখতে পারবেন না, আপনাকে অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে হবে। আমি যা শুনেছি তা হলো অনেক ভুল ছিল। সেমিফাইনালে আপনি জার্মানির কাছে এক গোলে না সাত গোলে হারলেন তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু এটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন,‘আমাদের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের নতুনভাবে ভাবনা-চিন্তা করা দরকার। আমাদের উচিত মূলত তরুণ মেধাবি খেলোয়াড়দের নিয়েই কাজ করা।’ জিকো এর আগে ব্রাজিলের ফুটবল উন্নতির জন্য বিদেশে খেলোয়াড় রপ্তানি বন্ধ করা এবং সেখানকার ক্লাব, কোচ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতেও বলেন। খেলোয়াড় রপ্তানি প্রসঙ্গে ভারতের ইকোনোমিক টাইমস পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছিলেন,‘ব্রাজিলের মূল সমস্যাই হচ্ছে দেশটি এখন ফুটবল মেধার রপ্তানিকারকে পরিণত হয়েছে। ইউরোপের ক্লাবগুলো ব্রাজিলের ফুটবল মেধাদের নিয়ে যাচ্ছে। ব্রাজিলের ছেলেরা ১৪ কিংবা ১৫ বছর বয়সেই ইউরোপে স্থিতু হচ্ছে। তারা সেখানে নিজেদের সেরা সময় কাটিয়ে পড়তি বেলায় দেশে ফিরছে।’ তার মতে-‘এ কারণে স্থানীয় ক্লাবগুলো এবং চ্যাম্পিয়নশিপ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে।’ সমাধান হিসেবে তিনি বলেন,‘আমরা যদি এসব মেধাদের এত অল্প বয়সে দলে দলে দেশত্যাগ বন্ধ না করি, তাহলে আমরা ব্রাজিল ফুটবলের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে পারবো না।’ বাসস/ইকোনমিক টাইমস