বিপিএল ফিক্সিং কেলেঙ্কারি

আপিল করবে আইসিসি ও বিসিবি

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৩
আগের ইঙ্গিত মতোই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফিক্সিং কেলেঙ্কারির রায়ের বিপক্ষে আপিল করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আইসিসি ও বিসিবি। গতকাল পাঠানো এক বিবৃতিতে আইসিসি বলেছে, এই রায় তাদের জন্য হতাশাজনক এবং তারা মনে করে ‘পরিষ্কার তথ্য ও প্রমাণ থাকার পরও’ অনেক অভিযুক্ত নির্দোষ বলে রায় দেয়া হয়েছে। ফলে তারা নিয়ম অনুযায়ী আপিল করবে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের অন্যতম সেরা তারকা মোহাম্মদ আশরাফুলসহ কয়েকজন ক্রিকেটারের নাম বেরিয়ে আসে। এরপর দীর্ঘ গুঞ্জনের পর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরেই আইসিসি ও বিসিবি সংবাদ সম্মেলন করে বলে ৯ জন খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত; পরে যুক্ত হয় আরো এক জনের নাম। এরপর বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে ট্রাব্যুনাল গঠন করে। এই ট্রাইব্যুনাল তার চূড়ান্ত রায়ে মোহাম্মদ আশরাফুলকে ৮ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। তবে আশরাফুল এই শাস্তি তাকে কার্যত চার বছরে নামিয়ে আনতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, বিসিবি, এসিসি ও আইসিসির দুর্নীতি ও ফিক্সিং বিরোধী শিক্ষা কার্যক্রমে সময় দিলে এবং নৈতিক জীবন-যাপন করলে তার শাস্তি পাঁচ বছরে নেমে আসবে। ইতিমধ্যে এক বছর তিনি অতিবাহিত করেছেন। ফলে আশরাফুল চাইলে আর চার বছর পরই ক্রিকেটে ফিরতে পারেন। এছাড়া ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিক পক্ষের শিহাব চৌধুরীরকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। শ্রীলঙ্কার কৌশল লুকোরুয়াচ্চিকে ১৮ মাস ও লু ভিনসেন্টকে ৩৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আইসিসির আপত্তি বাকী অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পেয়ে যাওয়ায়। অভিযুক্ত সেলিম চৌধুরী, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিক, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কর্মকর্তা গৌরব রাওয়াত, জাতীয় ক্রিকেটার মোশাররফ রুবেল ও মাহবুবুল আলম রবিন এবং ইংলিশ ক্রিকেটার ড্যারেন স্টিভেন্সের বিপক্ষে কোনো অভিযোগ প্রমাণ হয়নি বলে প্রাথমিক রায়েই জানিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আর সে সময়ই নিজেদের হতাশা প্রকাশ করেছিল আইসিসি ও বিসিবি। গতকাল পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেই হতাশার ধারা রক্ষা করেই আইসিসি মুখপাত্র বলেছেন, তারা আপিল করবেন। নিজের হতাশার কথা বলেছেন এভাবে, ‘আইসিসি ও বিসিবি নিশ্চিত করছে যে, তারা দুর্নীতিবিরোধী ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় হাতে পেয়েছেন। আগেই যেমন বলা হয়েছে, আমরা এই রায়ে অত্যন্ত হতাশ।’ আইসিসি মনে করে এখানে যথেষ্ঠ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অনেক অভিযুক্তর বিপক্ষে অভিযোগ আমলে নেয়া হয়নি। ফলে তারা আপিল করবেন, ‘আইসিসির দৃষ্টিতে, পরিষ্কার ও যৌক্তিক দুর্নীতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অনেকের বিপক্ষে অভিযোগ আমলে নেয়া হয়নি। আমরা মনে করি, এই রায়, যেটা আমাদের দৃষ্টিতে সঠিক নয়, তাকে বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দিলে সেটা ক্রীড়া বিশ্বে সঠিক বার্তা দেবে না।’