উড়ছে মৃত্যুর নিশান

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৪, ২১:০৪
বাতাস ভারী পোড়া গন্ধে। পোড়া তেল। পোড়া মাংস একটানা কুকুর ডেকে চলেছে। অ্যাম্বুলেন্স আর উদ্ধারকারী গাড়ির করুণ সাইরেন। চারপাশে ছোট ছোট সাদা কাপড় হাওয়ায় উড়ছে। কাছে গেলে দেখা যাবে, প্রত্যেকটা কাপড়ের টুকরোর পাশে একটা করে মৃতদেহ। কোনো কোনো দেহ এখনও সিট বেল্ট দিয়ে বিমানের ছোঁড়াখোঁড়া আসনের সঙ্গে বাঁধা রয়েছে। অর্ধেক ঝলসানো, মুখে রক্ত। ইউক্রেনের গ্রামের এই বিমার প্রান্তরে কোথায় কোথায় পড়েছে এমএইচ-১৭ উড়ানের হতভাগ্য যাত্রীদের লাশ, সেই জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাই বেঁধে দিয়েছেন ওই কাপড়ের টুকরো। কোথাও ঝোপে, কোথাও শুকনো গাছের ডালেই সাদা কাপড় বেঁধে মাটিতে পোঁতা। যেন ডালে ডালে মৃত্যু-নিশান! — খবর আনন্দ পত্রিকার। ২৯৫ জন যাত্রী-বিমানকর্মী নিয়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭ বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষেপণাস্ত্রের ঘা খেয়ে আছড়ে পড়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সীমান্তে এই গ্রাবোভো গ্রামের কাছেই। সেই গ্রাম এখন মৃত্যুপুরী। গ্রামবাসীর চোখে-মুখেও হিমশীতল মৃত্যুর আতঙ্ক প্রকট। এক গ্রামবাসী বলেন, ‘আমি ট্রাক্টর নিয়ে মাঠে কাজ করছিলাম। হঠাত্ একটা ভয়ঙ্কর শব্দে চারদিক কেঁপে উঠল। তার পরেই দেখলাম একটা বিশাল বিমান মাটিতে পড়ে দু’টুকরো হয়ে গেল। চার দিক তখন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে’। আর এক বাসিন্দা আলেকজান্দার জানান, তিনিও তখন মাঠে কাজ করছিলেন। হঠাত্ প্রায় ১০০ মিটার দূরে একটা ভয়ঙ্কর শব্দ। তাঁর কথায় ‘যেন আকাশ থেকে নেমে এল সাক্ষাত্ মৃত্যুদূত।” মৃত্যুদূতই বটে। গোটা প্রান্তর জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে দৈত্যকার বিমানের টুকরো টুকরো অংশ। সেই ধ্বংসাবশেষ মাঠ পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তাতেও। কোথাও পড়ে বিমানের ভাঙা টিভির অংশ। তার পাশেই লেজের খানিকটা। কোথাও আবার গোলাপি রঙা বাচ্চাদের বই। বিমানে তো ৮০ জন শিশুও ছিল! শুধু বই নয়, খেলনাও ছড়িয়ে রয়েছে রাস্তায়। কয়েকটা চটি। ছেঁড়া ব্যাগ থেকে উঁকি মারছে মুখে মাথায় ক্রিম। একটা লাল সুটকেস। এমনকী একটা সাইকেলও। প্রায় অক্ষত! মৃত্যুর খতিয়ান নেদারল্যান্ডস ১৮৯ মালয়েশিয়া ৪৪ অস্ট্রেলিয়া ২৭ ইন্দোনেশিয়া ১২ ব্রিটেন ৯ বেলজিয়াম ৪ ফিলিপাইন ৩ কানাডা ১ হংকং ১ নিউজিল্যাণ্ড ১ অজ্ঞাত ৪