ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার পর ২৯৫ জন আরোহী সমেত এমএইচ ১৭ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে মাত্র ১২ সেকেন্ডের মধ্যেই, এমনই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু তা-ই নয়, ওই হামলায় মাঝ আকাশেই গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর মাটিতে প্রায় ন’মাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এমএইচ ১৭-এর ধ্বংসাবশেষ এবং যাত্রী ও বিমানকর্মীদের টুকরো টুকরো হওয়া দেহ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আকাশ থেকে খণ্ড খণ্ড কাপড়ের মতো পড়ছিল দেহগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব থেকেই বোঝা যাচ্ছে, কতটা কালান্তক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছিল ২৮০ জন যাত্রী ও ১৫ জন বিমানকর্মী বহন করা মালয়েশীয় এয়ারলাইন্সের ওই বিমানকে। -সূত্র আনন্দবাজার পত্রিকা।
পূর্ব ইউক্রেনের আকাশপথ দিয়ে যাওয়া বিমানটিকে ‘বাক মিসাইল সিস্টেম’-এর একটি ক্ষেপণাস্ত্রই যে ধ্বংস করেছে, সেই বিষয়টি এখন মোটামুটি নিশ্চিত। ভূমি থেকে আকাশে ছোঁড়ার মাঝারি পাল্লার ওই রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ১৯৭৯ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে তৈরি করা হয়েছিল যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল ও চালকহীন গুপ্তচর বিমানকে আকাশ থেকে নামানোর জন্য। রুশ ভাষায় ‘বাক’-এর অর্থ, ভাল কোনও গাছ। তবে বাক মিসাইল সিস্টেম তৈরি হয়েছে শত্রুর যতটা সম্ভব খারাপ করার জন্যই। বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষ্য ঠিক করে দেয়ার পর তাকে আঘাত করার ক্ষেত্রে এর নিশানা প্রায় নির্ভুল, প্রায় ৯৫ শতাংশ।
বাক-এর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তুর ২০ মিটার আগেই সেটি বিস্ফোরণ ঘটায়। যার ফলে, মনে করা হচ্ছে, এমএইচ ১৭-এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রচণ্ড ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল। সেইসঙ্গে ওই বিস্ফোরণের দরুন বিমানের জ্বালানিতে আগুন ধরে যায়। সবমিলিয়ে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে আকাশেই চূর্ণ হয়ে যায় বিমানটি।
