রমজান চলছে। ঈদ সামনে। প্রিয় মানুষকে শুভেচ্ছা জানাতে চায় সবাই। প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানানোর একটি মাধ্যম হচ্ছে ঈদ কার্ড। রাস্তার অলিগলিতে গড়ে উঠেছে ঈদ কার্ডের দোকান। দেখলেই বুঝা যায় ক্ষুদে এই দোকানিরা বেশ আনন্দ পাচ্ছেন। আর বাড়তি পাওনা অল্প বিস্তর কিছু উপার্জন।
রাজধানীর অনেক অলিগলিতেই চোখে পড়ে এমন কার্ডের দোকান। এসব দোকানের বেশিরভাগ দোকানিই শিশু। এদের বয়স ৮ থেকে ১৪ বছর হবে। বাড়তি আয়ের পাশাপাশি ঈদের আনন্দ মেটানোর অসাধারণ চেষ্টা!
রাজধানীর ধানমন্ডি, শংকর, রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, শুক্রাবাদ, আজিমপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে শিশুরা টিন বা কাপড় দিয়ে বেড়া দিয়ে দোকান বানিয়েছে। বেশিরভাগ দোকানে বসার জায়গাও নেই। এসব দোকানে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকার ঈদ কার্ড আছে। সুতা বা দড়ি দিয়ে ঈদ কার্ডগুলোকে সাজানো হয়েছে। আবার অনেকে একটা টেবিল নিয়ে কার্ড সাজিয়েছে। কেউবা ঈদ কার্ডের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ফুটবল তারকাদের স্টিকার, আতর সুরমাও বিক্রি করছে।
রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের দুটি ব্যানার দিয়ে দোকান বানিয়েছেন জসীম ও তার বন্ধু মিরাজ। আকাশ থেকে বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে নিমেষেই দোকান গুটিয়ে ফেলতে পারে জসীম।
শংকরে বাজারের পাশের গলিতে কিছু ব্যানার ও কাপড় দিয়ে দোকান বানিয়েছে আরিফ এবং নিয়াজ। তাদের দুজনেরই বয়স পনের হবে। ঈদ কার্ডের দোকান করার ধারণা কিভাবে আসল? জানতে চাইলে আরিফ জানায়, ‘হারা দিন বসেই থাকি। এলাকার ছোট ভাই-ব্রাদাররা বলল ভাই ঈদ কার্ডের একটা দোকান দেন। তাই ঈদ কার্ডের দোকান দিছি।
একটু মুচকি হেসে পাশ থেকে নিয়াজ জানায়, ‘আমরা দুই বন্ধু মিলে ট্যাকা জোগাড় কইরা দোকান দিছি। আমাগো এখানে প্রায় ৮৫০ টাকার মালামাল আছে। প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১২০ টাকার কার্ড বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কার্ডে আমরা ২ থেকে ৩ টাকা লাভ করি। আমাদের দোকানে বডি, বারবি, পাগলু, লাভ ও গোলাপ ঈদ কার্ড বেশি আছে। তবে যদি কেউ বিশেষ কার্ডের জন্য অর্ডার দেয় আমরা এনে দেই।
তবে আরিফ বা নিয়াজ কেউ দোকানে বসে না তাদের দোকান চালায় রাজিব, রাব্বি ও শফিক নামের এলাকার ছোট ভাই। পাশের আরেক দোকানদার আলামিন জানায়, আমাদের এখানে দুই টাকা থেকে ৫০ টাকার ঈদ কার্ড আছে। তবে এখন মানুষ আর খুব বেশি ঈদ কার্ড কেনে না। মানুষ মোবাইলের ম্যাসেজেই বেশি দাওয়াত দেয়। তাই আমাদের বেচা বিক্রি কম।
ঈদ কার্ড দেখতে এসেছেন একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে প্রতিদিন এদের দেখি। কত কিছু করে কত টাকাই তো খরচ করে ফেলি। তাই এদের কাছ থেকে ঈদ কার্ড নিতে এসেছি। কাউকে শুভেচ্ছাও দিতে পারলাম আর এদের একটু বিক্রিও হলো।
