গল স্টেডিয়ামের ইতিহাস হাশিম আমলার পক্ষে। সেই সঙ্গে চতুর্থ দিনেই শ্রীলঙ্কান স্পিনারদের চকিত টার্ন ও বাউন্স দেখে সিদ্ধান্তটা নিতে নিশ্চয়ই উত্সাহ পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক। স্পিনারদের ভরসাতেই শ্রীলঙ্কার সামনে ৩৭০ রানের লক্ষ্য ছেড়ে দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু গতকাল চতুর্থ দিনশেষে এই ঘোষণাটা একটু হলেও অস্বস্তিতে ফেলার মতো অবস্থায় নিয়ে গেছে তাদের। কারণ ভয়ানক ফর্মে থাকা কুমার সাঙ্গাকারা ও তরুণ কুশল পেরেরার সতর্ক ব্যাটিংয়ে গতকালই ১ উইকেটে ১১০ রান তুলে ফেলেছে লঙ্কানরা। আজ শেষ দিনে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার চাই ২৬০ রান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার চাই ৯ উইকেট। খেলার যে পরিস্থিতি ও গলের যে ইতিহাস, তাতে কোনো দলকেই এগিয়ে বা পিছিয়ে রাখার উপায় নেই। শুধু বলা যায়, আজ শেষ দিনে একটি রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষা করছে গল।
শ্রীলঙ্কা-দক্ষিণ আফ্রিকা দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম এই টেস্টের শুরু থেকে দক্ষিণ আফ্রিকানরাই ছিল নিয়ন্ত্রকের আসনে। তাদের ৯ উইকেটে করা প্রথম ইনিংসের জবাবে গতকাল সকালেই শ্রীলঙ্কা অলআউট হয়েছে ২৯২ রানে। ৯ উইকেটে ২৮৩ রান নিয়ে দিন শুরু করে আর মাত্র ওভার পাঁচেক ব্যাটিং করতে পেরেছিল শ্রীলঙ্কা। হাতে সেলাই নিয়েও ব্যাট করতে নেমেছিলেন পেসার সামিন্দা এরাঙ্গা।
১৬৩ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর এ সময়ই টের পাওয়া গেছে যে গল তার চিরচেনা রূপে ফিরে এসেছে। মুত্তিয়া মুরালিধরনের ১১ টেস্ট উইকেট নেয়া এই ভেন্যুতে গতকাল অসাধারণ রূপে বল হাতে মাঠ মাতাতে শুরু করলেন তার দুই উত্তরসুরী রঙ্গনা হেরাথ ও দিলরুয়ান পেরেরা।
এই ভেন্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হেরাথ দুটি উইকেট নিয়েছেন। আর ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামা দিলরুয়ান নিলেন চার উইকেট।
উইকেট সংখ্যা নয়, এই দুই স্পিনারের বোলিং ভঙ্গি দেখেই উত্সাহিত হওয়ার কথা দক্ষিণ আফ্রিকানদের। প্রতিপক্ষের স্পিনারদের প্রতি আক্রমণ করে দ্রুত রান তোলার সিদ্ধান্ত নিলো আমলার দল। এবি ডি ভিলিয়ার্স একটা ফিফটি করে সে পরিকল্পনায় সঠিক পথে রাখলেন দলকে। ফলে মাত্র ৫০.২ ওভারে ৬ উইকেট হারালেও রান তুলে ফেললো তারা ২০৬টি; ওভার প্রতি ৪.০৯ করে রান।
দ্রুতগতির এই ইনিংস খেলেই দারুণ এক স্পোর্টিং ঘোষণা দিয়ে দিলেন আমলা।
গলে এর আগে কোনো দল শেষ ইনিংসে কখনোই ৩০০ রান টপকাতে পারেনি। রান তাড়া করে এখানে জয়ের রেকর্ডটা একেবারেই নগণ্য—মাত্র ৯৬ রান! ফলে আমলার ঘোষণাটা খুবই যৌক্তিক ছিল। কিন্তু রান বন্যার মধ্যে থাকা সাঙ্গাকারা এই যৌক্তিকতাকে খানিকটা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিলেন। মাত্র ১৪ রানে ইনফর্ম ওপেনার থারাঙ্গাকাকে হারানোর পর ‘নতুন জয়সুরিয়া’ বলে কথিত কুশলকে সঙ্গে নিয়ে অপরাজিত ৯৬ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করলেন সাঙ্গাকারা। অতিসতর্ক এই জুটিতে সাঙ্গাকারার অবদান এখন পর্যন্ত ৫৮ রান। কুশল অপরাজিত আছেন ৩৭ রানে। আর এই দুজনই খেলাটাকে একটা সমতায় নিয়ে এসেছেন।
এখন অপেক্ষা শেষ দিনের। ইমরান তাহিররা উইকেটকে কাজে লাগিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ধ্বসিয়ে দেবেন? নাকি সাঙ্গাকারা তার অসামান্য ফর্ম দিয়ে ইতিহাস লিখবেন নতুন করে? নাকি নাটক চলবে শেষ অবদি!
গল টেস্ট
শ্রীলঙ্কা-দক্ষিণ আফ্রিকা
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ১৬৬.২ ওভারে ৪৫৫/৯ ডিক্লে.
এবং ২য় ইনিংস: ৫০.২ ওভারে ২০৬/৬ ডিক্লে. (ডি ভিলিয়ার্স ৫১, ডু প্লেসিস ৩৭, ডি কক ৩৬, পিটারসেন ৩২; দিলরুয়ান ৪/৭৯, হেরাথ ২/৮৪)।
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ১০৪.৫ ওভারে ২৯২/১০
এবং ২য় ইনিংস: ৩২ ওভারে ১১০/১ (সাঙ্গাকারা ব্যাটিং ৫৮, কুশল ব্যাটিং ৩৭; স্টেইন ১/১৮)।
