শপিংয়ের জন্য রাজধানীতে প্রতিদিন ঢুকছে লাখো মানুষ

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৮
রাজধানীর বাইরে থেকে এসে ক্রেতারা কেনাকাটা করার কারণে রাজধানীতে যানজট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এমনিতেই ঈদের সময় কেনাকাটার কারণে রাজধানীতে লোকজনের চলাফেরা বেড়ে যায়। এতে তীব্র যানজট তৈরি হবার পাশাপাশি ফুটপাথে চলাও দায় হয়ে পড়ে। এর ওপর বাইরে থেকে প্রতিদিন এক লাখেরও বেশি লোক রাজধানীতে আসে কেনাকাটা করার জন্য। এরা দুই থেকে তিনদিন অবস্থান করে আবার গ্রামে বা জেলা শহরে ফিরে যায়। এদের অনেকেই নিজস্ব বাহন নিয়ে আসায় রাজধানীর যানজট আরো তীব্র হয়। রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মলের সামনে কথা হয় চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিনের সাথে। তিনি জানান, ঈদের কয়েকদিন আগে তিনি প্রতিবারই ঢাকায় আসেন। নিজের স্ত্রী এবং সন্তানদের জন্য কেনাকাটার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের জন্যও কিছু কেনাকাটা করেন। চট্টগ্রাম শহরে না গিয়ে ঢাকায় আসেন কেন? -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঢাকায় শপিং করার মধ্যে এক ধরনের তৃপ্তি আছে। আবার ঢাকায় কিছু কাজকর্মও আছে। সেরে নেয়া যায়। ময়মনসিংহের ঠিকাদার চুন্নু মিয়ার সাথে কথা হয় ইস্টার্ন প্লাজার সামনে। তিনি জানান, দুইদিন আগে তিনি পুরো পরিবার নিয়ে কাঁঠালবাগানে তার ভাইয়ের বাসায় উঠেছেন। প্রতিদিন কিছু কিছু করে শপিং করছেন। তিনি তার ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারটি নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, জেলা শহরে সবকিছু পাওয়া যাচ্ছে; কিন্তু ঢাকায় অনেক দোকান ঘুরে ভালো জিনিস কেনা যায়। ঈদের দুইদিন আগে তিনি ময়মনসিংহে ফিরবেন বলে জানান। শুধু জনপ্রতিনিধি বা ঠিকাদার নন, গ্রামের এবং জেলা শহরের মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ বিত্তরা তাদের ঈদের কেনাকাটার জন্য রাজধানীকে বেছে নেন। এখানে অল্প দাম থেকে বেশি দামসহ নানা দামের জিনিস পাওয়া যায়। অর্থনীতিবিদ রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঈদের আগে ঢাকা আসার প্রবণতা এখন যে শুরু হয়েছে তা নয়। দীর্ঘদিন ধরে এ প্রবণতা চলে আসছে। নিজের পরিবারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমার বাবা রাজবাড়ী কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। তিনি কখনো সেখান থেকে ঈদের বা অন্য কোন সময় পোশাক কিনতেন না। সবসময় তাকে ঢাকায় এসে কেনাকাটা করতে দেখেছি। তিতুমীর জানান, প্রতিবছর ঈদের আগে মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। আমরা শুধু ঈদে বাড়ি ফেরাকে বড় করে দেখি; কিন্তু ঈদের কেনাকাটার জন্য যে প্রচুর মানুষ ঢাকায় আসে তা মাথায় নেই না; কিন্তু জেলা শহর ছেড়ে মানুষ কেনাকাটার জন্য রাজধানীতে আসছে কেন? -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এর মূলেই রয়েছে অর্থনৈতিক ব্যাপার। মানুষের হাতে অর্থ থাকলে এ সময়ে তা তারা খরচ করবেই। আর বেশি বেশি খরচ করতে তাকে ঢাকায় আসতে হয়। গত কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে গিয়ে ক্রেতাদের তীব্র ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নিউমার্কেট, চাঁদনিচক, ধানমন্ডি হকার্স, বসুন্ধরা সিটি, ইস্টার্ন প্লাজাসহ মিরপুর রোডের মার্কেটগুলোতে ক্রেতারা গিজগিজ করছে। এলিফ্যান্ট রোডজুড়েও একই অবস্থা। প্রায় সবাই ছুটছে কেনাকাটা করতে। একেকজনের হাতে ১০ থেকে ১২টি শপিং ব্যাগ শোভা পাচ্ছে। সাভার থেকে নিউমার্কেটে শপিং করতে এসেছেন আকলিমা আক্তার। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি এসেছেন। আলাপ করতেই তিনি জানান, প্রতিবার ঈদের শাড়ি তিনি কিনেন নিউমার্কেট থেকে। আর বাচ্চাদের কাপড়-চোপড় এলিফ্যান্ট রোড থেকে। নারায়ণগঞ্জ থেকে ভোলানাথ এসেছেন এলিফ্যান্ট রোডে। তিনি জানান, সারাবছর কেনাকাটা করা হয়; কিন্তু ঈদের সময় নতুন নতুন ডিজাইন আসে। এই সময়ে কেনাকাটা করতে আনন্দ লাগে। আবার বেড়ানোও হয়। এদিকে, রাজধানীর বাইরে থেকে শপিং-এ লোক আসার কারণে শুধু রাজধানীতে যানজট বেড়ে যাচ্ছে। অনেকে নিজস্ব গাড়ি নিয়ে আসায় চাপ পড়ছে নিয়মিত পরিবহন ব্যবস্থায়। মার্কেটগুলোতে পার্কিং-এর জায়গা না থাকায় অনেকে রাস্তায় গাড়ি পার্ক করছেন। এতেও সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে।